৩০ জুলাই ২০২৩
নিজেস্ব প্রতিবেদক : সিলেট-তামাবিল মহসড়কে দুর্ঘটনার আসল কারণ নিয়ে কেউ কথা বলছেন না।উল্টো পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে জৈন্তা ১৭ পরগণা সালিশ কমিটি অবস্থান নেয়ায় তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। গত তিনদিন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।
দুই সপ্তাহ আগে সিলেট-তামাবিল সড়কের জেন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকায় বাসের ধাক্কায় ইজিবাইকে থাকা যাত্রীদের পাঁচজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।ঘটনার সময় প্রবল বৃষ্টি ঝরছিল।
পরদিন জৈন্তাপুরের ১৭ পরগণা সালিশ সমন্বয় কমিটির এক সভায় অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন বাসচালকদের ছাটাইয়ের দাবি জানানো হয়। তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ করার ঘোষণাও দেয়া হয়েছিল।
সে অনুসারে পরদিন জৈন্তাপুরবাসী রাস্তায় নেমে আসেন। বাস চলাচলে বাধা দেন।তাদের নেতৃত্বে ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমদ।
ব্যাস! আর যায় কোথায়? আসরে নেমে পড়েন সিলেটের পরিবহন শ্রমিক নেতারা।নানা ছলছুতায় কর্মবিরতি বা ধর্মঘটের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে অনেক পুরানো। তারা সোম-মঙ্গলবার সিলেট-তামাবিল সড়কে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় এবং নির্বিঘ্নে বাস চলাচল করতে দেয়া ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদকে গ্রেফতার না করলে জেলাজুড়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়।
যথারীতি সোম ও মঙ্গলবার এ সড়কে কোন যানবাহন চলেনি। বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার রাতে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা। তবে গত তিনদিনের এমন পরিস্থিতিতে সিলেটের সচেতন মানুষ চরম হতাশ। তাদের মতে, আসল সমস্যা নিয়ে কেউ কোন কথা না বলে নিজেরা নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যস্ত।
তারা বলছেন, বৃহত্তর জৈন্তাপুর ১৭ পরগণা সালিশ সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বা পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ মহাসড়কে আইন অমান্য করে চলা হাজার হাজার টমটম ইজিবাইক বা ব্যাটারিচালিত অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধের ব্যাপারে কেউ কোন কথাই বলছেন না। অথচ আইন অমান্য করেই এই কাজটি করা হচ্ছে। কোন পক্ষ ভোটের লোভে আর কোন পক্ষ অন্যান্য স্বার্থ সংরক্ষনের খাতিরে এই বেআইনী কাজের ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জৈন্তাপুর দরবস্তবাজারের এক ব্যবসায়ী বক্তব্য এরকম, মহাসড়কে ইজিবাইক টমটম চলাচল বন্ধ না হলে দুর্ঘটনা কমবেনা। বাড়তেই থাকবে। ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলবে গ্রামীন সড়কে। কিন্তু সিলেট তামাবিল সড়কেই তারা রাজত্ব করছে। দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যতক্ষণ এদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবেনা ততক্ষণ দুর্ঘটার সংখ্যা বা ঝুঁকি কমার কোন সম্ভাবনাতো নেই-ই, বরং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জৈন্তাপুর ১৭ পরগণা সালিশ সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে দায়সারাগোছের জবাব দিয়েছেন।
বলেছেন, এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই। রাস্তাটি ফোরলেনের কাজ শুরু হলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য আলাদা রাস্তাও থকবে। তাই এ ব্যাপারে আপাতত তাদের আমরা কিছু বলতে পারছিনা।
বিষয়টি দেখার দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের।কিন্তু তাদের টহলদল অনেক সময় টাকার বিনিময়ে দেখে ও না দেখার ভান করে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।
বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিলেট হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, আমরা হাইওয়েতে এজাতীয় যানবাহন চলাচলের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে।গত এক বছরে আমরা ৬ হাজার ৬শ’র বেশী ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি।
তিনি বলেন, ইজিবাইক বা টমটমের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ মোটেও সচেতন নয়। তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিলে নানা ধরনের কথাবার্তা শুনতে হয়। যেমন, আমার ঘরে ভাত নেই, পরিবার চালানোর টাকা দেন- ইত্যাদি।এমনকি কোথাও কোথাও পুলিশের সাথে এসব চালকরা সাধারণ মানুষ নিয়ে হামলার চেষ্টাও করে। কিন্তু তবু আমরা কাজ করছি।
শুক্রবারের দুর্ঘটনা সম্পর্কে তার বক্তব্য, সারাদিনই ওই এলাকায় আামাদের টহলদল ছিল।কিন্তু দুর্ঘটনা যখন ঘটে তখন ছিলনা।ডিউটি শেষে তারা ফিরে গিয়েছিলেন। আর বৃষ্টিও ছিল প্রবল।এ অবস্থায় ইজিবাইকের সাথে বাসের সংঘর্ষ হয়।
তিনি আরও জানান,এ ব্যাপারে আমরা জনপ্রতিনিধিসহ চালকদের সঙ্গে অসংখ্যবার সভা-সমাবেশ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্রয়ে তারা হাইওয়ে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে এই কাজ করছে এবং দুর্ঘটনাও ঘটছে।
এদিকে সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, তাদের কর্মসূচির ব্যাপারে এখনো প্রশাসন কোন যোগাযোগ করেনি।দাবিও পূরণ হয়নি।তাই জেলাজুড়ে তাদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।তিনি রাস্তায় ইজিবাইক-টমটম চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন।