১৫ মার্চ ২০১৮


সিলেট পাসপোর্ট অফিসে গ্রাহকদের ভোগান্তি

শেয়ার করুন

সৈয়দ রাসেল আহমদ : সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস,একসময় ভেতরে দালালদের উপক্রম থাকলেও এখন অনেকটাই কমে এসেছে দালালের দৌরাত্ম।মোটামুটি দালাল মুক্ত থাকলেও পাসপোর্ট অফিসের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ আছে,ধীর গতির সেবার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় গ্রাহকদের।যাদের পাসপোর্ট তৈরিতে আগের অভিজ্ঞতা নেই তাদের পড়তে হয় ব্যাপক হয়রানিতে। নিয়ম কানুন অনেকটা না জানায় কিভাবে কি করবেন তা নিয়ে সংশয়ে থাকতে হয় অনেককেই।সাহায্যের জন্য অফিসের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করলে দায় ছাড়া উত্তর দেয়ার অভিযোগও পাওয়া যায় অনেকের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ১০৫ নাম্বার পুরুষ কক্ষের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন প্রায় ১০ জন ব্যক্তি ও মহিলা কক্ষের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ৫-৬ জন মহিলা। বেলা ১১টা ৩০ মিনিটেও দেখা যায় ১০৫ নাম্বার কক্ষের পুরুষ লাইনে দাঁড়ানোদের মধ্যে ৪ জন ভিতরে ঢোকার জন্য এখনও অপেক্ষা করছেন, এতক্ষনে বাহিরে মানুষের ধীর্ঘ লাইন লেগে গিয়েছে।উকি দিয়ে ভিতরে দেখার চেষ্টা করলে ভিতরে আরও দুজনকে অপেক্ষারত অবস্থায় দেখা যায়।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার হিলাল পুর এলাকা থেকে দুজন মহিলা এসেছেন ওমরা হজে যাবেন বলে পাসপোর্ট তৈরি করবেন।তাদের মধ্যে একজন সিজার অপারেশনের রোগী।

তাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, সকাল ১০টায় এসেছি পাসপোর্ট এর ফরম জমা দিয়েছি ৩০ মিনিট আগে কিন্তু এখনও আমাদের ফরম হাতে পাইনি। ফরম আনা-নেয়ার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তিকে আমাদের সমস্যার কথা বলার পরও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চলে গেলেন।

১০৩ নাম্বার কক্ষে গিয়ে মহিলা দুজনের নাম দিয়ে ফরমের খোঁজ করলে দেখা যায়,তাদের সহ বেশ কয়েকজনের ফরম কম্পিউটার অপারেটরের টেবিলে পড়ে আছে,কিন্তু অপারেটর টেবিলে নেই। পাশে অন্যান্য ফাইল দেখছেন একজন মহিলা কর্মকর্তাকে সিজারের রোগীর পরিচয় দিয়ে একটু তারাতাড়ি ফাইলটি দেখে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলে তিনি বলেন সিজারের রোগী কেন পাসপোর্ট করতে আসে।সিজারের রোগী পাসপোর্ট তৈরি করতে আসতে কি কোন বিধি নিষেধ আছে নাকি এমন প্রশ্নে কড়া মেজাজে ভিতরে ঢুকছেন কেন বলে বাহিরে যেতে বলেন ঐ মহিলা কর্মকর্তা।

ঢাকাদক্ষিণ থেকে আফসার উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি প্রথমবার নিজের পাসপোর্ট তৈরি করতে এসেছেন, নিয়ম-কানুন না জানায় ফরম জমা না দিয়েই ১০৫ নাম্বার কক্ষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভিতরে গিয়ে জানতে পারেন এ লাইনে তার দাঁড়ানোর কথা নয়,তখন তাকে বলা হয় প্রথমে ফরম জামা দিয়ে আসতে হবে,তার পর তার ফরম আবার তার হাতে আসবে তখন সে এ লাইনে দাড়াতে হবে।

জানা যায়, নিয়ম-কানুন না জানা এরকম মানুষের সংখ্যাই বেশি।বাহিরে হেল্প সেন্টার থাকলেও সেখানে বিস্তারিত ভাবে তেমন কিছু বলা হয় না, ইশারা ইঙ্গিতে দেখিয়ে দিলেও সাধারণ নতুন গ্রাহকগণ তা বুঝতে পারেন না। আর এতেই ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ গ্রাহকদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে এসব হয়রানি বন্ধ করা গেলে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস হবে একটি আদর্শ পাসপোর্ট অফিস। এসব হয়ারানি থেকে বাঁচতে মানুষ দালালদের দারস্ত হয়,এবং দালালদের মাধ্যমেও প্রতারিত হয়। যদি এসব বন্ধ করা যায় তাহলে দালালদেরও দৌরাত্ম বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষ নিজে পাসপোর্ট করতে পারলে দালালদের কোন প্রয়োজন হবেনা বলে মনে করেন তাঁরা।

(আজকের সিলেট/১৫ মার্চ/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন