৯ মার্চ ২০১৮


মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসীর

শেয়ার করুন

মোহাম্মদ আব্দুল হক : ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে হঠাৎ বেড়ে গেছে মশা-মাছি সমস্ত নগরজুড়ে। বিকাল থেকেই মশার ভনভন আওয়াজ কানের কাছে শুনতে পাই। আছরের নামাজে দাঁড়ালে পায়ে-হাতে মশা কামড় দেয়। এসব মশার কামড়ে নগরবাসীর জীবন অতিষ্ঠ। বিগত বছরের ন্যায় মানুষের মনে ভয় জেগেছে। মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হবে, ম্যালেরিয়া হবে নাকি চিকুনগুনিয়া। এতোসব দুশ্চিন্তা মানুষের সুখের ঘুম কেড়ে নিতে শুরু করেছে। এখানে নগরজীবনে মানুষ সর্বত্রই মশার উপদ্রব সইতে না পেরে কথা বলছেন এবং শেষটায় এর সমাধান পাওয়ার জন্যে সিটি কর্পোরেশনের দিকে নজর দিচ্ছেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে প্রথম ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ দিন ব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলার স্টলে বিকাল চারটা থেকে শুরু হতো মশার উৎপাত। এভাবেই প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গনে ছাত্র-ছাত্রী, শিশু ও অভিভাবকদের মশার কামড় সয়ে যেতে হয়েছে। ওই সময়কালে একদিন সন্ধ্যায় গেছি কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে ‘গহিন বালুচর’ চলচ্চিত্র দেখার জন্যে। ভিতরে প্রবেশের আগে যে পনেরো মিনিট বাইরে দাঁড়িয়েছিলাম, শুনেছি সবাই বলেছে, ‘অতো মশা কিতা যে করতাম।’ এখন বাসাবাড়ি, দোকানপাট, ফুটপাত, ঘরের বারান্দা, অফিস, আদালতপাড়া, কীনব্রীজ এলাকাসহ সবখানেই মশার কামড় সইতে সইতে নগরবাসী ক্ষুব্ধ। লিখছি, কয়েল জ্বলছে, তবু মশা বিরক্ত করছে।
মূল বিষয় উপস্থাপন করা হলো। এই আমাদের নতুন সমস্যা নয় যে, এ ব্যাপারে আমাদের কর্তৃপক্ষের ভাবতে হবে দীর্ঘ সময় নিয়ে। কাজেই নগর কর্তৃপক্ষ নিশ্চয় জানেন কেন আমাদের নগরীতে মশার উপদ্রব এতো বেড়ে গেল। আমি অতি সাধারণের ন্যায় দেখেছি, আমাদের মহানগরী যেন আমাদেরই অসচেতনতায় হয়েছে এক ময়লার ভাগাড়। এমন কোনো মহল্লায় এমন কোনো পরিচ্ছন্ন ড্রেন চোখে পড়েনা। যেহেতু প্রায় অধিকাংশ ড্রেন ঢাকনাবিহীন। দেখা যায় প্রায় প্রতিদিন ড্রেনে ময়লা আর ধরে না। তাইতো ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের এক রাতে এক ঘন্টার মৌসুমী বৃষ্টিতে ড্রেনের ময়লা পানি সমেত অনেক রাস্তায় উঠতে দেখা গেছে। ড্রেন বা নালা পরিষ্কার নিয়মিত না করলে আমাদের অসচেতন নগরবাসীর ঢাকনাবিহীন ড্রেনে ফেলে দেয়া ময়লাভর্তি পলিথিন, প্লাস্টিক বোতল, ভাঙা ফুলের টব ইত্যাদিতে ড্রেনের স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। এতে মশা-মাছিদের মহোৎসব দিনে-দুপুরে চোখে পড়ে।
এসব মশাই বিকাল হতে না হতেই ঘরে প্রবেশ করে। তাই সিটি কর্পোরেশনকে প্রতি ড্রেনে ঢাকনা দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নালার পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে প্রতিদিন পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের দিয়ে নগরীর ড্রেন পরিষ্কার করতে হবে এবং স্থানে স্থানে যে অস্থায়ী ময়লা ভাগাড় আছে তা পরিষ্কার করতে হবে। এখন যেহেতু মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে, তাই অতি দ্রুত মশক নিধন কর্মীদের দ্বারা প্রয়োজনীয় অভিযান চালানোর বিকল্প নেই। মশার কামড়ে ব্যাপক হারে মানুষ অসুস্থ হয়েছে-এমন খবর প্রকাশ হওয়ার আগেই মশার ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগ নিলে এবং সেটা অব্যাহত রাখলে মশা বৃদ্ধি পাবে না এবং নগরবাসী কিছুটা শান্তিতে বসবাস করবে। বিজ্ঞজনেরা বলেন, এখন মশার প্রজনন মৌসুম, মশার উৎপাত বাড়বে। তাই আমরা বলি, সিটি কর্পোরেশনের মশা বিষয়ে সঠিক কার্যক্রম চালানোর এখনই সময়। মাননীয় মেয়র মহোদয়ের কাছে আমাদের এ দাবী কোনোভাবেই অযৌক্তিক নয় মনে করি। তাই আমরা নগরবাসী যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করি। পাশাপাশি আসুন নগরবাসী আমরা আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখি। মশা-মাছি থেকে বাঁচতে আমাদেরকে সচেতন হতেই হবে। আমাদের সকলের বোধোদয় ঘটুক।

(লেখক : কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক।)

শেয়ার করুন