৭ মার্চ ২০১৮

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জনপ্রিয় লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে যে কাদা ছোড়াছড়ি চলছে, তা চলতে থাকলে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পাওয়া যাবেনা বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবালের সহকর্মী সিলেটের শাহজলাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
বুধবার কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সফটও্য়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি মৌন মিছিল পরবর্তী সমাবেশে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন শিক্ষকরা।
সকাল ১০টায় আইআইসিটি ভবনের সামনে থেকে মৌন মিছিলটি বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই জায়গায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শহিদুর রহমান বলেন, “জাফর স্যারের ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে যে কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে, তা চলতে থাকলে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবেনা। ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হবে।”
“জাফর ইকবাল কোন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তি না। তিনি বাংলাদেশের সর্বমহলে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। তাই আমরা চাই এই বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্ব সেভাবেই দেওয়া উচিত।”
বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্রের’ অংশ হিসেবে জাফর ইকবালের ওপর হামলা করানো হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের প্রতি অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “জাফর ইকবালের উপর হামলায় আওয়ামী লীগের হাত আছে-এটা বাংলাদেশের কেউ বিশ্বাস করবে না। এটা বিএনপির মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ডের অংশ।”
অধ্যাপক ড. শহিদুর রহমান বলেন, “তদন্ত ছাড়াই যদি আমরা এক অপরকে এরকম দোষারুপ করি, তাহলে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে এরকম কাদা ছোড়াছড়ি চলতেই থাকবে। আমরা মনে হয়, এতে এ ঘটনাকে হালকা করা হয়।”
সিএস্ই বিভাগের অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম বলেন, স্যারের ওপর হামলার ঘটনায় গত চারদিন থেকে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছি। তবে স্যার আমাদের বলেছেন, ক্লাস বাদ দিয়ে যাতে কেউ আন্দোলন না করে। তাই আমরা সবাই কর্মসূচির সাথে সাথে ক্লাসও করতে হবে।
সমাবেশে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক রিতেশ্বর তালুকদারে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানান। বিগত দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার আমাদের আশ্বস্থ করেছেন এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের। তাই আমরা বৃহস্পতিবার মৌন মিছিল ও প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কণের মাধ্যমে এই আন্দোলন স্থগিত করব।
এর আগে মঙ্গলবার জাফর ইকবালের ওপর হামলা ঘটনায় দ্রুত বিচার চেয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কাছে প্রেরণ করেন এই তিন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে কালো ব্যাজ ধারণ করে গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করেছে। তারা বৃহস্পতিবারও কালো ব্যাজ ধারণ করে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাবে বলে জানান সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ।

দুপুর ১২টায় বঙ্গবন্ধু চত্বরে একত্রিত হয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতা-কর্মীরা সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে হামলার প্রতিবাদ জানান।
বিকেলে নাট্য সংগঠন দিক থিয়েটারের আযোজনে হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুন তলায় ‘আদাব’ পথনাটকের প্রদর্শনী করবে শহরের নাট্য সংগঠন দর্পণ থিয়েটার।
গত শনিবার ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুইদিনব্যাপী ইইই-ফেস্টিভ্যাল’র সমাপনী দিন বিকেল ৩টা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুত্তমঞ্চে উৎসবের ‘রোব কমবেট’ প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্বের বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে মঞ্চের পেছন দাঁড়িয়ে থাকা ফয়জু্ল হাসান ওরফে শফিকুর নামের এক তরুণ এসে তার ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার সাথে সাথে হামলাকারীকে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।