২৩ মে ২০২৩
শিপন চন্দ জয় : আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা মেনে নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে বিএনপি। এবার সিসিক ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ১৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ৩ বারের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র দিনার খান হাসু। তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ও ১৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সিলেট মহানগরের মিরাবাজারস্থ একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের এ ঘোষণা তিনি।
এর আগে ১৮ মে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচন বর্জন করার ঘোষনা দিয়েছেন সিলেট সিটির ৪নং ওয়ার্ডের টানা ৪ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর, সাবেক প্যানেল মেয়র (১) ও মহানগর বিএনপির সদস্য সাবেক যুগ্ন আহবায়ক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। এর পর দলের নির্দেশনা ও কয়েস লোদীর দেখানো পথে ২০ মে নগরীর রেজিস্ট্রারী মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দিনার খান হাসু বলেন, আমি বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দেশগড়ার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি। কলেজজীবন থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি করে আমি উঠে এসেছি। আমার এ পর্যায়ে আসার পেছনে বিএনপির অবদান অনস্বীকার্য। তিনবার কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি জনগণের ভোটের খেয়ানত করিনি। বিগত দিনগুলোতে এলাকাবাসীর যে ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি -তার ঋণ আমি শোধ করতে পারব না।
দিনার খান হাসু অভিযোগ করে বলেন, দেশে আজ ভোটাধিকার নেই। গণতন্ত্র ও সুশাসন আজ প্রশ্নবিদ্ধ। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুরুতর অবস্থায় কার্যত বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসতে পারছেন না। সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার-নির্যাতনের পাশাপাশি মিথ্যা ও গায়েবি মামলা’র মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে নেতাকর্মীদের। আমাকেও সাজানো ও বানোয়াট মামলায় শুধুমাত্র হয়রানির উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো।
বর্তমানে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই উল্লেখ করে দিনার খান হাসু বলেন, নির্বাচনের আগেই নেতাকর্মীদের মিথ্যা ও সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার ওয়ার্ডবাসী আমাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বারবার অনুরোধ করছেন। তাদের বিশ্বাস আমার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- এবার ভোট হচ্ছে ইভিএমে। ডিজিটাল ডাকাতির কারণে আমার বাক্সে ভোট যাবে না। বিগত নির্বাচনেও আমার নিশ্চিত বিজয় হাইজ্যাক হয়েছিলো। প্রকাশ্যে ভোটকেন্দ্র দখল করে ভোটডাকাতি হয়েছিলো ওই নির্বাচনে। গুলিতে রক্তাক্ত হয়েছিলো আমার এজেন্ট ও ভাতিজা তালহা খান।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরিফ বলন, ভোট নিয়ে মানুষের আস্থা আজ তলানিতে চলে গেছে। নির্বাচন আসনে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে ভোট কি তারা দিতে পারবে, না আগের রাতেই ভোট শেষ হয়ে যাবে। এই মুহুর্তে শুধু সিলেটেই নয়, সারাদেশেই কোন নির্বাচনী পরিবেশ নেই। বিশ্বের উন্নত দেশে যখন ইভিএমকে গ্রহন করা হচ্ছে না, তখন নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে আসা হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না করে ভোট ডাকাতি করতে চায়। সিলেটবাসী ইভিএম বুঝে না, ইভিএম চায় না। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট ডাকাতির নীলনকশা চুড়ান্ত করা হয়েছে। প্রহসনের নির্বাচনের জন্য যত উপকরন দরকার তা বিদ্যমান। ভোট দিবেন এক প্রতীকে চলে যাবে অন্য প্রতীকে। এই নিয়ে নির্বাচন হবে প্রহসনের নির্বাচন, তাই আমি বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহৃানের পরামর্শে এই প্রহসনের নির্বাচনে অংশ নেব না।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আমি দুই বার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। গত কয়েক সপ্তাহ থেকে আমার উপর যে মানসিক চাপ যাচ্ছে তা কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না। আমার সাথে যে অশুভ কাজ করা হয়েছে তা সময় সুযোগ হলে পরবর্তীতে আপনাদের কাছে খোলাসা করব। নগরবাসী সব সময় আমার সুখে, দুঃখে সব সময় পাশে ছিলেন। আমার কোন সংকটেই নগরবাসী আমাকে ছেড়ে যাননি। আপনারা বিএনপিকে ভালোবাসেন বলেই বিগত নির্বাচনে কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ধনের শীষের বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন। নগরবাসীর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই আমার জন্য অমূল্য সম্পদ।
মেয়র আরিফ আরো বলেন, আমি মেয়র পদে মনোনয়পত্র সংগ্রহ না করলেও আমার দলের নেতাকর্মীদের বিনা কারনে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। এটি তো কোন নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষণ হতে পারে না। আমি ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপিতে আছি, এবং আমৃত্যু থাকতে চাই। দলের জন্য ক্ষতিকর কোন কর্মকাণ্ডের আমি যেতো পারি না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন চলমান রয়েছে। এসম তিনি সিলেটবাসীর মায়া ও মমতা নিয়ে যেন চিরবিদায় নিতে পারেন সে জন্য নগরবাসীর প্রতি দোয়া চান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৩ মে এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাই ২৫ মে ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ জুন। আগামী ২১ জুন ইভিএমে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।