৬ মে ২০২৩
ডেস্ক নিউজ : জামিয়া শামীমাবাদের ইফতেতাহি দারস তথা সবক উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্পন্ন। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামেয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া শামীমাবাদের ১৪৪৪-৪৫ হিজরী শিক্ষাবর্ষের ‘ইফতিতাহ দরস’ শনিবার সকালে জামেয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। জামেয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম হাফিয মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ এর সভাপতিত্বে সুচিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য আলেমেদ্বীন, জামেয়া দরগাহ’র মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস মুফতী মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী ।
শিক্ষক হাফিয মাওলানা আবু সুফিয়ান নাছিমের সঞ্চালনায় শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত করেন হিফয বিভাগের শিক্ষক হাফেয তোফায়েল আহমদ। উদ্বোধনী বক্তব্য পেশ করেন জামেয়ার সদরুল মুদাররিসীন মুফতী সায়েম কাসেমী । তালীমাত সংক্রান্ত নীতিমালা পেশ করেন, জামেয়ার নাযিমে তালীমাত মুফতী খাইরুল ইসলাম হবিগঞ্জী। আবাসিক দিকনির্দেশনা পেশ করেন জামেয়ার নাযিমে দারুল ইকামা মুফতী আবদুল কাইয়ুম ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহিব্বুল হক শায়খে গাছবাড়ী বলেন, তালিবে ইলম এর সমপরিমান মর্যাদা আসমানের নীচে ও যমীনের উপরে আর কারো নেই। তবে এজন্য শর্ত হলো; সত্যিকারের তালিবে ইলম হতে হবে। সত্যিকারের তালিবে ইলম হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে মাদরাসার সকল কানুন পরিপূর্ণ রূপে পালন করতে হবে— চাই তা আমার বুঝে আসুক আর না আসুক। এখলাসের কথা বলতে গিয়ে বলেন, হযরত শাইখুল হিন্দ রহ. বলেন যদি আল্লাহর জন্যে পড়ো এবং আল্লাহর জন্যই পড়াও তাহলে দুনিয়াতে কোন পেরেশানি থাকবে না। আমাদের বড়দের তো জুতার ভিতরেও মানুষ টাকার বান্ডিল রেখে দিত। অতএব ছাত্র জীবনে মেহনত করো, অত:পর তাযকিয়ায়ে নফসের মেহনত করো। আল্লাহর ওয়াদা তিনি অবশ্যই সকল রাস্তা খুলে দিবেন।
শায়খে গাছবাড়ী আরো বলেন, সামনের সবক মুতালার গুরুত্ব থাকতে হবে এবং নফল নামাজের প্রতি তাগিদ দিতে দিতে হবে। কেননা, দৈনন্দিন পাঁচওয়াক্ত নামাজের সাথে যেসব নফল রয়েছে সেগুলো আদায় করাই যথেষ্ট। এতে লাভ হবে আপনি আপনার কাজে যথেষ্ট ফায়দা পাবেন, এবং নিয়মিত নফল আদায় করলে মুস্তাজাবুদ্দাওয়া হয়ে যাবেন।
জামেয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম হাফিয মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ বলেন, ভর্তির নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কোটা পূর্ণ হয়ে যাওয়া এবং যথাসম্ভব দ্রুত সবক শুরু করতে পেরে আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। এখনো অনেক মাদরাসায় ভর্তি কার্যক্রম চলছে। জামেয়া শামীমাবাদের অনন্য বৈশিষ্ট যে; আমরা কালবিলম্ব না করে সময়ের গুরুত্ব দিয়ে ১৫ই শাওয়ালই দরস শুরু করতে পেরেছি।
পরে প্রধান অতিথি প্রতি জামাতের ছাত্রদের সবকের ইফিততাহ করেন। এবছর জামেয়ায় আদব বিভাগে ৫২ জন, কিতাব বিভাগ (ইবতেদাইয়াহ ৫ম থেকে মেশকাত) ২২৪জন, হিফয বিভাগে ১৭০ জন,নূরানী বিভাগে ১৪০ জন মোট ৫৮৬ জন ছাত্র ভর্তি হয়েছে। পরিশেষে শায়খে গাছবাড়ীর আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্তি হয়।