৬ মে ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে হঠাৎ গ্রেফতার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কারণ- গত কয়েক দিনে সিলেটে বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।
বিএনপি দাবি করছে- গত চার দিনে মহানগরের অন্তত ১৭ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তল্লাশির নামে নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানিও করছে পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে- তারা কাউকে অযথা হয়রানি করছে না। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মামলা রয়েছে।
সিলেট বিএনপির নেতারা অভিযোগ করে বলেন, গত ১ মে সিলেটে একটি সভায় বর্তমান সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচন করার আভাস দেওয়ার পর থেকেই পুলিশের ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের মধ্যে আরিফুল হকের কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
সিলেট বিএনপি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের একটি মিছিল থেকে ছাত্রদল ও যুবদলের আট নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। তাঁদেরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করার অভিযোগ এনে পুলিশ ওই রাতেই কোতোয়ালি থানায় মামলা করে। পরে এ মামলায় আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, গত চার দিনে ছাত্রদল ও যুবদলের আটজন ছাড়াও বিএনপির আরও অন্তত ৯ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে বিভিন্ন পুরোনো মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার থেকে প্রতি রাতেই বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতা-কর্মীর বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। তাই ভয়ে অনেকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকছেন।
এদিকে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে শুক্রবার গণমাধ্যমে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি।
পৃথক এসব বিবৃতিতে বিএনপি বলছে, গত বুধবার দিবাগত রাতে মহানগর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক শামীম মজুমদার, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ লাহিন, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য বদরুল ইসলাম, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অলিবুর রহমান আলী, ছাত্রদল নেতা ইমন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা হাবিবকে পুলিশ ‘অহেতুক’ গ্রেপ্তার করেছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলছেন, সিলেটে হঠাৎ করে পুলিশ ধরপাকড় শুরু করেছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধরে নিয়ে পূর্বের মামলায় অথবা নতুন করে জেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইলিয়াস শরীফ (বিপিএম-বার, পিপিএম) গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির অভিযোগ সঠিক নয়, এটা পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা রয়েছে মূলতঃ তাদেরই গ্রেফতার করা হয়েছে বা হচ্ছে।