৭ অক্টোবর ২০২২


অর্থনৈতিক সংকট

শেয়ার করুন

দুর্দিন যাচ্ছে মানুষের। সংকট ঘনীভূত হচ্ছে দিনে দিনে। নীরবে নিভৃতে বেড়ে চলেছে দুর্ভোগের মাত্রা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বাড়ছে দরিদ্রের হার। বাড়ছে অর্থনৈতিক সঙ্কট। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির সাথে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। শিল্প উৎপাদনে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা তো দূরের কথা পুরনোরাই টিকে থাকতে পারছে না।

নানা কারণে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বৈশ্বিক মহামারি করোনা এবং সর্বশেষ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। করোনার দাপট কিছুটা কমার পর সাধারণ মানুষ যখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চিন্তা করছে, ঠিক তখনই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে ক্ষেত-খামার, কলকারখানায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের ওপর। দ্রব্যমূল্য আওতার বাইরে চলে গেলে শুধু দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষজন নয়, এর প্রভাব পড়ে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণী পর্যন্ত। শুধু যে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে তা নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন জ্বালানি তেল, গ্যাস, পানিসহ বিদ্যুৎ ও পরিবহন সেবার মূল্যও ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষজ্ঞদের মতে- বর্তমান পরিস্থিতি যে জায়গায় গেছে, তাতে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ হলেও ২০২৪ সালের আগে এ সঙ্কট কাটবে না। এ অবস্থার উত্তরণে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন জরুরি। এ ক্ষেত্রে সবার আগে সমস্যার কথা স্বীকার করতে হবে। এরপর সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে তা শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। কারো জন্য তা আতঙ্কের। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থাকলে অর্থনীতির দুর্বলতা আরো ঘনীভূত হবে।এই অবস্থায় বাজার নিযন্ত্রণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এই দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান টিসিবি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাদেরকে কঠোর জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরেজমিনে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য বিশেষ সেল গঠন করা যেতে পারে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে পণ্য গুদামজাত করতে না পারে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়ে গেলে আমদানিকৃত পণ্যের দাম দেশীয় বাজারে না বাড়িয়ে টিসিবি, ওএমএস সিস্টেমের মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য পণ্য সরবরাহ করে দেশীয় বাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে।
অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বহির্বিশ্বের প্রভাবে আমাদের চলমান অর্থনীতি এই অবস্থায় এসে ঠেকেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে আমাদের রফতানি কমে যাচ্ছে, যা আগামীতে আরো কমতে পারে প্রবাসী আয়ও। অন্য দিকে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ডলারের বিপরীতে টাকার দাম অতিমাত্রায় কমায় পরিস্থিতি মোকাবেলা চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে আশু পরিস্থিতি মোকাবেলাসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানোর মাধ্যমে সবার কাছে খাদ্য পৌঁছাতে হবে, এই কর্মসূচিতে অনিয়ম দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

শেয়ার করুন