১ মে ২০২৩


এলাকার উন্নয়ন ও বাবার স্বপ্ন পুরণে ১০ নং ওয়ার্ডে ফের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল হাকীম

ছবি : আব্দুল গফুর রাজু

শেয়ার করুন

মোঃ ফারুক মিয়া : সিসিক নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড হচ্ছে ১০ নং ওয়ার্ড। সিলেট সিটির এ ওয়ার্ড ভোটার সংখ্যায় অনেকটা বড় এলাকা হিসেবে আখ্যায়িত। যেখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় আঠারো হাজারের সমপরিমাণ । এই ওয়ার্ডে এবারও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হয়েছেন মোঃ আব্দুল হাকীম। যিনি গেলবার সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।

মোঃ আব্দুল হাকীম ১০ নং ওয়ার্ডের ডহর সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া ইসলামি সমাজ কল্যাণ সংগঠনসহ সামাজিকভাবে অংশীদারিত্বে কাজ করে যাচ্ছেন ছাত্র জীবন থেকেই। ১০ নং ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সেবা থেকে শুরু করে মেডিকেল ক্যাম্পিং এবং ব্লাড ক্যাম্পিংসহ অনেককিছুই করে যাচ্ছেন তরুণ ও যুবকদের নিয়ে তিনি। তিনি ২০১৮ সালে মাস্টার্স শেষ করে নিজেদের পারবারিক ক্লথ ব্যবসায় জড়িত থাকলেও সমাজ উন্নয়নে তিনি তৎপর রয়েছেন।

আজকের সিলেট ডটকমকে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে আব্দুল হাকীম বলেন, এই ওয়ার্ডটি এখনো অবহেলিত রয়েছে। অন্যান্য ওয়ার্ডের তুলনায় এই ওয়ার্ড উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে আছে। পিছিয়ে থাকার বড় একটি কারণ হচ্ছে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড যেগুলা ১০ নং ওয়ার্ডের মানুষকে ভয়ভীতির মধ্যে রাখে। অন্যায় ও ভয়ভীতিমুক্ত ১০ নং ওয়ার্ড গঠনে আমি সর্বস্ব বিলিয়ে দেবো।

এছাড়া জুয়া, মাদকের ছড়াছড়ি আড্ডা এগুলো নির্মুল করা বেশি প্রয়োজন। না হলে ওয়ার্ডের তরুণ, যুবকরা ধ্বংস হয়ে যাবে তাই এগুলো থেকে বেরিয়ে আনার জন্য একজন সৎ নিষ্ঠা জনপ্রতিনিধি দরকার।

ওয়ার্ডের মূল সমস্যা কি এবং বিজয়ী হলে কর্ম পরিকল্পনা কি এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি বড় ধরনের সমস্যা যেহেতু এটি একটি বৃহৎ ওয়ার্ড তাই আমাদের ওয়ার্ডে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা জরুরি যেটা আমার পরিকল্পনা রয়েছে। মশক নিধনে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ, কারণ বর্তমানে মশার প্রকোপ বেড়েছে। যার ফলে অনেকে মশাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সুতরাং নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

কিশোরগ্যাং ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি ওয়ার্ড গঠন করতে আমি কাজ করব। আমাদের ১০ নং ওয়ার্ডকে সিসি ক্যামেরার অন্তর্ভুক্ত করে এবং আবাসিক ওয়ার্ডে রুপান্তর করে প্রধান ফটকগুলোতে গেইটের ব্যবস্থা করে নিরাপত্তা প্রহরীর মাধ্যমে নিয়ে আসব। যেহেতু ওয়ার্ডের পাশ ঘেঁসে সুরমা নদী সেহেতু ফুটপাতে সৌন্দর্য বর্ধনে যা করা যায় তা করব।

কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মূল শক্তি কি? এমন এক প্রশ্নের উত্তরে মোঃ আব্দুল হাকীম বলেন, আমার বাবা আব্দুল খালিক নদী ভাঙ্গন রোধ কমিটির আহবায়ক ছিলেন এবং তিনিও এই ওয়ার্ডে নির্বাচন করেছেন এলাকাবাসীর সেবা করার জন্য।

১০ নং ওয়ার্ডের উন্নয়নে স্বপ্ন দেখতেন আমার বাবা। তিনি আমাকে উৎসাহ ও শক্তি দিয়েছেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং নির্বাচন করার জন্য কিন্তু তিনি আজ নেই। তাই উনার স্বপ্ন এবং ওয়ার্ডবাসীর উন্নয়নে এখনো আমি সামাজিকভাবে নানান কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এই ওয়ার্ডের অনেক গরীব মানুষ রয়েছে আমি আমার আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবের মাধ্যমে আমি ৫০ জন গরীব লোককে ৫০ টি রিকশা দিয়েছি যাতে পরিবার নিয়ে তারা চলতে পারেন। বন্যায় অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি এবং পাঁচটি পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি। ১৫জন মহিলাকে ১৫ টি সেলাই মেশিন দিয়েছি যাতে তারা পরিবার নিয়ে চলতে পারে এবং নিজেরা স্বাবলম্বী হয়। বন্যার পানিতে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদেরকে যতটুকু সম্ভব সাহায্য সহযোগিতা করেছি। ঈদে ঈদসামগ্রী বিতরণ করেছি যাতে পরিবার নিয়ে সবাই ঈদ উদযাপন করতে পারে। ইফতার বিতরণ করেছি, এছাড়া অনেকে আছেন তাদের পরিবার নেই তাদের নিয়ে এবং পাড়া, মহল্লার সবাই মিলে আমরা একসাথে ইফতার মাহফিল করেছি।

ওয়ার্ডবাসী ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি জনপ্রতিনিধি হই না হই আমি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। আর আমার এলাকাবাসী আর ওয়ার্ড মুরুব্বিয়ানরা, পঞ্চায়েত কমিটি তরুণ সমাজ, যুব সমাজের সবাই যদি মনে করেন আমি কাউন্সিলর বা জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য তাহলে অবশ্যই সকলে আমাকে বিজয়ী করবেন। আর আমি যদি বিজয়ী নাও হই আমার থেকে যদি যোগ্য কাউকে ভোটাররা ওয়ার্ডের উন্নয়নে নির্বাচন করেন তার সাথে কাঁধ মিলিয়ে আমিও সহযোগিতা করব। তবে আমি এই নিয়ে দ্বিতীয় বার প্রার্থী হয়েছি এবার আশা করছি ভোটাররা আমাকে একবার হলেও সুযোগ দিবেন এই ওয়ার্ডের মানুষের উন্নয়নের জন্য এবং জনসেবার জন্য।

শেয়ার করুন