৩ এপ্রিল ২০২৩


মাগফিরাতের দশক শুরু : গোনাহমুক্ত জীবন গঠনের প্রত্যয় নিন

শেয়ার করুন

শাহিদ হাতিমী : রামজান মাস নিজকে গঠনের মাস। এ মাসে এমন প্রশিক্ষণ নিতে হবে যার মাধ্যমে বাকি মাসগুলো এভাবেই পরিচালিত হয়। শুরু হল মাগফিরাতের দশক। আজ ১১ রামজান, মাগফিরাতের ১ম দিবস অতিবাহিত হচ্ছে। কাজেই এ সময় আমাদের সুন্দর চরিত্র গঠনের অনুশীলন করতে হবে। আল্লাহর রাসুল সা. বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রোযা রাখে, সে যেন তখন অশ্লীল কাজ ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে। রোজা রাখা অবস্থায় কেউ যদি তার সাথে গালাগালি ও মারামারি করতে আসে সে যেন বলে, আমি রোজাদার।’

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, রাহমাতুল্লিল আলামীন মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ সা. এরশাদ করেছেন- রামাজান এমন একটি মাস যার প্রথম দশ দিন রহমতের বারিধারায় পরিপূর্ণ। দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাত-ক্ষমা ও মার্জনার জন্য নির্ধারিত। শেষ দশ দিন জাহান্নাম হতে মুক্তি লাভের উপায়রূপে নির্বাচিত। এ জন্যই রামাজান নামে সন্নিবিষ্ট আরবী পাঁচটি বর্ণমালা যথা- রা, মীম, যোয়াদ, আলিফ এবং নুন-এর অন্তর প্রবাহে নূরে ইলাহীর প্রকাশস্থল মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সা. এর জ্যোতির্ময় আমলী জিন্দেগীর প্রভাব, অবিরাম কিরণ বর্ষণ করে চলেছে। যা কোনো দিন ম্লান হবার নয়। সুতরাং আমরা যেন রোজা পালনের মাধ্যমে দেহের ষড়রিপু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে দিতে পারি, সে তাওফিক আল্লাহপাক আমাদেরকে দান করুন, আমীন।

হাদিসে এসেছে, যার মধ্যে দুটি স্বভাব থাকবে মহান আল্লাহ তাকে বিনা হিসেবে বেহেশত দান করবেন। আর এ দুটি গুণ হল, অল্পে তুষ্টি তথা আল্লাহর দেয়া বরাদ্দে সন্তুষ্ট থাকা এবং গোপন বা নিভৃত স্থানেও আল্লাহকে ভয় করা তথা আল্লাহর ভয়ে পাপ না করা। বিষয়টি বলতে খুব সহজ হলেও কাজে তা সহজ নয়। আর এ জন্যই দরকার গভীর খোদা-প্রেম। খোদাপ্রেমের শর্ত হল দ্বীনি জ্ঞান বা আল্লাহকে জানা।

মাগফিরাতের দশদিন বেশি বেশি ইস্তেগফার ও দোয়া-দরুদ পাঠ করা জরুরি। যেমন ইস্তেগফারের উচ্চারণ- ‘আসতাগফিরুল্লাহ রব্বি মিন কুল্লি যামবিন ওয়াতুবু ইলাইহি।’ অর্থ- ‘আমি আমার প্রভু আল্লাহর কাছে আমার সমুদয় পাপের জন্য ক্ষ-মা প্রার্থনা করছি এবং তারই দিকে প্রত্যাবর্তন করছি।’ মাগফিরাতের এ দশকে আল্লাহ তাআলার ক্ষ-মা লাভের জন্য আমরা পবিত্র কুরআনের এ দোয়াগুলো অধিকহারে পাঠ করতে পারি! উচ্চারণ- ‘সামি’না ওয়া আতানা গুফরানা-কা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির।’ অর্থ- ‘আমরা (আল্লাহ তাআলার আদেশ) শুনলাম ও মানলাম, হে আমাদের প্রভু-প্রতিপালক! আমরা তোমারই কাছে ক্ষ-মা চাই আর তোমারই দিকে সবার ফিরে যেতে হবে।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৮৫)। আরেকটি দোয়া হচ্ছে- ‘রাব্বানা মা খালাকতা হাজা বাতিলাং সুবহানাকা ফাকিনা আজাবান নার।’ অর্থ-‘হে আমাদের প্রভু! তুমি এ বিশ্বজগতকে বৃথা সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র। সুতরাং তুমি আমাদের আ-গু-নের শা-স্তি থেকে র-ক্ষা কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯১)।

মুমিন ব্যক্তির কাছে গোনাহ পাহাড়ের মতো বড়। আর পাপির কাছে গোনাহ মাছির মতো ছোট, যা তার নাকের ডগায় বসে উড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
‘ঈমানদার ব্যক্তি তার গোনাহগুলোকে এত বড় মনে করে, যেন সে একটা পাহাড়ের নিচে বসে আছে, সে আশঙ্কা করতে থাকে যে, কখন যেন পাহাড়টা তার উপর ধ্বসে পড়ে। পক্ষান্তরে যে পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গোনাহগুলোকে মাছির মতো মনে করে, যা তার নাকের ওপর দিয়ে চলে যায়।’ (বুখারি)

সুতরাং উল্লেখিত হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, ঈমানদার ব্যক্তি গোনাহকে ভয় করে। গোনাহ হয়ে গেলেই সে দেরি না করেই গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। সে উপায়ও হাদিসে বর্ণনা করেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মানুষের গোনাহমুক্ত জীবন গঠনের উপায় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি তাওবা করা এবং কান্নাকাটি করা। আর এটি বিশ্বনবির শেখানো আমল। যখনই মানুষ গোনাহ থেকে মুক্তি জন্য তাওবার পাশাপাশি বেশি বেশি কান্নাকাটি করে, তখন তার ক্ষমা পাওয়া সম্ভাবনা বেশি বেড়ে যায়। হাদিসে পাকে এসেছে- ‘হজরত উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! মুক্তির উপায় কী? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- ‘তুমি নিজের জিহ্বাকে আয়ত্বে রাখো, নিজ ঘরে পড়ে থাকো এবং আপন গোনাহের জন্য কান্নাকাটি করো।’ (চলবে…)

(লেখক : জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক, আজকের সিলেট ডটকম)

শেয়ার করুন