২২ মার্চ ২০২৩


“সিলেট টিভি গেইটস্থ স্বাস্থ্যকর্মচারী কোয়ার্টারে অসামাজিকতার আখড়া”

শেয়ার করুন

খলিলুর রহমান : সিলেট নগরীর আরামবাগ-টিভিগেট এলাকাস্থ স্বাস্থ্য বিভাগীয় সরকারী কর্মচারী কোয়ার্টার দুটি অসামাজিকতার আখড়ায় পরিনত হয়েছে। ফলে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে জনমনে। এ ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে যেকোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী এসব অসামাজিক বর্মকাণ্ড বন্ধে বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেনে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডের আরামবাগ ও টিভি গেইটের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে সিলেট জেলা স্বাস্থ্যবিভাগীয় ৪র্থ শ্রেণী সরকারী কর্মচারীদের পাশাপাশি দুটি কোয়ার্টার। এ কোয়ার্টারগুলোতে বসবাস করেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট বক্ষবেদী হাসপাতাল ও সিলেট সিভিল সার্জন অফিসের চতুর্থ শ্রেণীর সরকারী কর্মচারীরা। এখানে রয়েছে সিলেট জেলা স্বাস্থ্য বিভাগীয় ৪র্থ শ্রেণী সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতি নামে একটি অফিসও।

স্বাস্থ্য বিভাগীয় সরকারী কর্মচারীদের জন্য কোয়ার্টার’র গৃহগুলো বরাদ্দ হলেও এগুলোর অপব্যবহার হচ্ছে। এখানে অন্যান্য বেসরকারী হাসপাতাল-ক্লিনিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বহিরাগত পরিবারগুলো বসবাস করে চলছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মচারীরা বসবাসরত নিজ গৃহের পরিধি বৃদ্ধি করে বা খালি স্থানে আলাদা ঘর নির্মান করে তথায় নিজেদের আত্মীয় পরিচয়ে বহিরাগত লোকদের এনে এবং ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা কামাই করছেন। আর এ সুযোগে কোয়ার্টারগুলো অপরাধী, কামুক ও মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়ে পড়েছে। সবসময় কোয়ার্টারগুলোতে বহিরাগত নারী-পুরুষদের আনাগোনা প্রত্যক্ষ করেন এলাকার মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগ রয়েছে, দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির অফিস ও কোয়ার্টার ঘিরে জমে ওঠে মাদক সেবন, হৈ-হুল্লোড় ও মাতলামির আসর। মাদকসেবী মাতালদের হাতে নাজেহাল হয়ে থাকেন এলাকার অনেক তরুণী কিশোরী যুবতী ও নারী-পুরুষর।

অভিযোগে আরো প্রকাশ, অনেক কর্মচারী নিজেদের আত্মীয় পরিচয়ে বহিরাগত অবাঞ্চিত যুবনারী ও তরুণীদের রেখে কোয়ার্টারে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করছেন। ফলে এলাকার যুবসমাজ ক্রমশ নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঝুকছে। মাদক ও অসামাজিকতার টাকা যোগান দিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে চুরি ছিনতাই রাহাজানীসহ রকমফের অপরাধ প্রবণতা। আর এ সব অসামাজিক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন কোয়ার্টারে বসবাসরত স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মচারী জনৈক আবু তাহের, আবুল কাশেম, সিরাজুল্লাহ,আব্দুল করিম, আবআদুল কাইয়ুম, ইমরান, বশিরসহ কয়েকজন। তারা এ কোয়ার্টারে বৃদ্ধি করা ঘরগুলোতে বহিরাগতদের ভাড়া দিয়ে এবং অসামাজিকতা আসর বসিয়ে প্রতিমাসে অবৈধ পন্থায় লাখ লাখ লাখ টাকা কামাই করছে এবং সিলেট শহরে নিজেদের বাড়িঘর নির্মান করেছে। কর্মচারী আবু তাহের নগরের আলইসলাহ বালুচরে এবং অন্যান্যরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব বাসাবাড়ি নির্মান করেছেন।

কর্মচারী স্টাফ কোয়ার্টার দুটির প্রবেশ পথেই রয়েছে এলাকার একটি মসজিদ। এ মসজিদের পাশ দিয়ে অবাঞ্চিত নারী ও পুরুষদের আনগোনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। কোয়ার্টারেরপাশেই নির্মিত ওয়াকওয়েতে প্রত্যহ রাতদিন বহিরাগত মাদকসেবীদের মাতলামি, অবাঞ্চিত নারী-পুরুদের আড্ডা ও মাখামাখি এলাকার সামাজিক পরিবেশ চরমভাবে দূষিত করছে। এলাকার শান্তিকামী মানুষজন উল্লেখিত স্বাস্থ্য বিভাগীয় সরকারী কর্মচারী কোয়ার্টারে মাদক সেবন,অসামজিকতা ও অবৈধ ব্যবসা বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগীয় কোয়ার্টারে অবস্থাকারী ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী আবু তাহেরের সাথে যোযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
জানতে চাইলে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. এস এম শাহরিয়ার আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন- স্বাস্থ্য বিভাগীয় এই কোয়ার্টারে বহিরাগতদের অবস্থান এবং অসামাজিকতার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা খোজ নিচ্ছি, এরকম হয়ে থাকলে অবস্থানরতদের বিরুদ্ধে বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

শেয়ার করুন