১৩ মার্চ ২০২৩


আতঙ্কে বাহুবল লাকুড়ীপাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী

শেয়ার করুন

সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) : ছাদে ও ভেতরে দেখা দিয়েছে সর্বদিকে ফাটল। কোথাও কোথাও পলেস্তার খসে পড়ছে, বেরিয়ে পড়েছে রড। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নিকটবর্তী বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নে ৫৬ নম্বর লাকুড়ীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন নাজুক অবস্থায় অনেকটা ঝুঁকির মধ্যেই পাঠদান চলছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে , উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী লাকুড়ীপাড়া গ্রামের মোঃ আরজু মিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় জন্য ১৬ শতাংশ ভূমি দান করেন এবং একই গ্রামের মোঃ আব্দুল জলিল মাস্টার ১৪ শতাংশ ভূমি দান করায় নির্মিত হয় বিদ্যালয় । বর্তমানে বি- গ্রেডে হলেও এ-গ্রেড হয়নি । বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী যাতায়াত করার খুব কষ্টে হলেও এ দৃশ্য দেখে একই গ্রামের মোঃ আব্দুল খালেক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য হওয়ায় তিনি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান মাস্টার এর কাছে মৌখিক প্রস্তাব রাখা হয় ।

এদিকে ১৯৭৩ সালে উপজেলা মিরপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী লাকুড়ীপাড়া গ্রামে ৩০ শতাংশ ভূমির উপর বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় । ২০০৪ সালে অর্থ বছরে এলজিইডি নির্মিত একতলা তিন কক্ষ ভবন সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইন্দু ভূষনদেব উদ্বোধন করেছিলেন । বর্তমানে জরাজীর্ণ ভবনে প্রায় এক যুগ ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে চালাচ্ছেন পাঠদান কার্যক্রম। দিন দিন ঝুঁকি আরো বাড়ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে । বিদ্যালয়ের ২০০৪ সালের একতলা ভবনের এমন অবস্থা দিন দিন শিক্ষার্থীরা সংখ্যা কমে যাচ্ছে ।

জরাজীর্ণ ভবনের কারণে অভিভাবকরা অন্যত্র ভর্তি করছে তাদের ছেলে-মেয়েদের। বর্তমানে শিক্ষা মান ভাল হলেও শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০১ জন । বিদ্যালয়টিতে আটজন শিক্ষককের পদ থাকলেও সেখানে কর্মরত আছেন ছয়জন । এরমধ্যে ১জন প্রধান শিক্ষক, ৩ জন পুরুষ শিক্ষক, ২ জন মহিলা শিক্ষিকা রয়েছেন ।এছড়াও  অফিস পিয়ন রয়েছেন একজন ।

বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে , বিদ্যালয়ের প্রতিটি পিলার৷ ছাদ ও শ্রেণি কক্ষের ভেতর , বিমের পলেস্তার খসে পড়েছে এবং কোনো স্থানে ফাটল। জঙধরা রড গুলো বের হয়ে আছে । শ্রেণি কক্ষের মধ্যে ছাদ থেকে পলেস্তার খসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গায়ে পড়ছে । বর্তমানে বিদ্যালয় ভবনের এমন পরিস্থিতিতে চরম ভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে । এতে করে যেমন শঙ্কায় দিন পার করছে শিক্ষার্থীরা , তেমন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাজেরা আক্তার, সাজিদুল ইসলাম ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব আলী, জেরিন আক্তার জানান, জরাজীর্ণ ভবনে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লেখা পড়া করছি । অনেক সময় বাড়ি থেকে পিতা – মাতা স্কুলে আসতে নিষ্ক্রিয় করে ।

তারপর ও এমন শঙ্কার ভেতর ক্লাস করছে তারা । তারা আরো জানায় , স্কুলের এমন জরাজীর্ণ তার কারণে কক্ষ ছেড়ে এর পাশে অবস্থিত ২০০৭- ০৮ সালে পি ই ডি পি – ০২ নির্মিত প্রকল্পের ৩ টি কক্ষের একতলা ভবনে কোনো রকম ক্লাস করে যাচ্ছি খুবই কষ্টে কিন্তু বলার কিছু নেই । এই ভবন ও ঝুঁকি পূর্ণ । শেষ পর্যায়ে আমরা কোথায় যাব। নির্বাচন আসলে সাংসদ সদস্য , জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান- সদস্য , উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান , ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা বিদ্যালয় ভবনের এ দৃশ্য দেখে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের পতি শ্রুতি দিলেও তারা ভূলে গিয়েছে । এ ঝুঁকি পূর্ণ ভবনে বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনক অবগত করলে-ও আজও বিদ্যালয়ে ভবনের নির্মাণ করার উদ্যোগ নেই ।

বিদ্যালয়ে ২ টি আলমারি , ৯টি টেবিল , ১২টি চেয়ার , উচু বেনচ ছাড়া নীচু বেনচ ৪১ টি রয়েছে অনেক গুলো অকেজো । বিদ্যালয়ে বসার জায়গা সংকটে বাহিরে গিয়ে বসতে হয় । বিদ্যালয়ে চারপাশে নেই কোনো সীমানার পাকা দেয়াল , শহীদ মিনার ও খেলার মাঠ । খোলা মাঠে গরু- ছাগলের বিচরণ । নেই বিদ্যালয়ে নিরাপত্তা । এলাকার শতশত ছাত্র – ছাত্রী অভিভাবক বলেন , বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার মান বাড়ানো জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে তৃতীয় তলা ভবন নির্মাণ করা হলেও লাকুড়ীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি নতুন ভবন করার কোনো ঊদ্যোগ নেই । এতে করে বিদ্যালয় ভবনের কারণে পড়াশোনা মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে । এই বিদ্যালয়ের প্রতি উর্ধতন কর্তৃপক্ষ কাছে বিদ্যালয়ে তৃতীয় তলা নতুন ভবন , শহীদ মিনার ও বিদ্যালয় নিরাপত্তা জন্য চার দিক পাকা দেয়াল নির্মানের এলাকাবাসী দাবী জানান ।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান মাস্টার বলেন , দীর্ঘ দিন বিদ্যালয়ের ২ টি ভবন খুব ঝুঁকি পূর্ণ রয়েছে । আমরা নতুন ভবন , পাকা দেয়াল ও শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষ অবগত করা হয়েছে । বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেওয়ান সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন , বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২০০৪ সাল ও ২০০৭- ০৮ অর্থ বছরে দুটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয় । বর্তমানে দুটি ভবনের অবস্থা নাজুক । যে কোনো সময় ভবন ভেঙ্গে পড়তে পারে । জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা কোনো রকম শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি । একতলা দুটি ভবনে ৬ কক্ষের মধ্যে ৩ টি কক্ষ বর্তমানে ১টি ভবন বেশি ঝুঁকি পূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে । একটি অফিস রুম , আর বাকি দুটিতে কোনো রকম ভাবে পাঠদান করানো হচ্ছে ।

নিরুপায় হয়ে পাশে একতলা ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছি । শীতকালে অনেক সমস্যা হয়েছে , এখনতো আবার গরমে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা । অনেকবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস , উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস , এল জি ই ডি অফিস বিদ্যালয় নতুন ভবনের জন্য লিখিত অভিযোগ ও মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে । এছাড়া বাহুবল – নবীগঞ্জ – ১ আসনের সাংসদ সদস্য আলহাজ্ব দেওয়ান মিলাদ গাজী , জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান , উপজেলা নির্বাহী অফিসার , উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান , ইউপি চেয়ারম্যানকে মৌখিক ভাবে অবগত করলে-ও আজও কোনো বিদ্যালয় ভবন করার কাহার ও মাথা ব্যাথা নেই । এমনকি ভবন ধসে যে কোনো সময় প্রাণহানী ও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি ।

এবিষয়ে মিরপুর ইউপি মেম্বার ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য মোঃ ইসমাইল আলী , মোঃ মর্তুজ আলী , মোঃ আব্দুল মালেক সর্দার , মোঃ শওকত আলী , মাওলানা কবির জামাল , হাজী মোঃ আনোয়ার আহমেদ বলেন , বেশ কয়েক বছর ধরে ভবনটির অবস্থা খুবই নাজুক কিন্তু সকলের কাছে বিভিন্ন ভাবে বিদ্যালয় তৃতীয় তলা ভবন , শহীদ মিনার ও চার পাশে নিরাপত্তা রাখার জন্য পাকা দেয়াল নির্মান পস্তাব রেখেছি ।

শেয়ার করুন