১২ মার্চ ২০২৩
খলিলুর রহমান : দ্রব্যমূল্যের বহমান ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস জনসাধরণের। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় অতিষ্ঠ জনজীবন। ক্রমশ ক্রয়ক্ষতা হারিয়ে ফেলছেন সাধারণ ও খেটে-খাওয়া মানুষ। এর মাঝে সামনে পবিত্র মাহে রমজান। রমজান মাসে মানুষ কম খেলেও আমাদের দেশে সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। সিন্ডিকেট সাপরা বছরের ব্যবসা করে নেয় পবিত্র এ মাহিনায়। তাই মাসটি যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মানুষের দুশ্চিন্তা। থেকে খেয়ে জীবন রক্ষার পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া নিয়ে এখন দিশেহারা স্বল্প আয়ের মানুষজন।
দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য ও ভোগ্য সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় উভয় সংকটে পড়েছেন মানুষ । রমজান ঘিরে আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে ভোগ্যপণ্যের বাজার। ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে অস্তির বাজার মূল্য।
শুক্রবার সকালে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৪৫ টাকায়। লেয়ার সাদা জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকায়। কেজিতে আরও ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে লাল জাতের লেয়ার। সোনালি জাতের মুরগির প্রতি কেজি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধরা-ছোঁয়ার অনেক বাইরে চলে গেছে দেশি মুরগির দাম।
যারা একসময় বড় ব্রয়লার মুরগি কিনতেন তারা কিনছেন ছোট মুরগি। তাও অনেক হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে। সব ক্রেতার একটাই কথা, কেন এত দাম বেশি?
মোরগের দামের ঊর্ধ্বগতিতে স্বস্তিতে নেই বিক্রেতারাও। তারা বলছেন, বিক্রি আগের থেকে অনেক কমেছে। নগরের লালবাজারে মোরগ বিক্রেতা বলেন, ‘আগে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি আমার কেনা পড়ত ১০০-১১০ টাকায়। তা বিক্রি করেছি ১৩০-১৪০ টাকায়। এখন এক কেজি মুরগি ২১০-২২০ টাকায় কিনে ২৪০-২৪৫ বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার পরিবহন খরচ আছে। সেটাও বেড়েছে। খুব বেশি পর্তা হচ্ছে না।’
মানুষ আগে বড় মুরগি খুঁজত। এখন খোঁজে ছোট মুরগি। বেচাকেনাও অনেক কমে গেছে। আমাদের কম দামে পেলে কম দামে বিক্রি করতে তো আর সমস্যা নাই। আমরা যত যত বেশি বিক্রি করতে পারবো ততো লাভ।’
এদিকে দাম বেড়েছে ডিমেরও। প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে। এক ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। দেশি মুরগির ডিম এক হালি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে হাঁসের ডিম। মাস দুয়েক আগে ফুটপাতে ফার্মের মুরগির বয়েল করা ডিম বিক্রি হতো ১০ টাকা, হাসের ডিম ১৫ টাকা। এখন একটা বয়েল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। হাসের ডিম ২৫ টাকা।
একই চিত্র দেখা গেছে মাছের বাজারেও। বছরখানেক আগেও যে পাঙ্গাস মাছ ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, এখন সেই পাঙ্গাস কিনতে হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। একই অবস্থা তেলাপিয়া মাছের। ১২০ টাকা কেজির তেলাপিয়া মাছ এখন ২০০ টাকার উপরে। আড়াইশ টাকার নিচে নেই রুই-কাতল-মৃগেল মাছ। পাবদা-চিংড়ি-ইলিশ তো এখন এলিট শ্রেণির খাবার। কইয়ের তেলে কই ভাজারও এখন আর উপায় নেই। চাষের কই মাছও সাধ্যের বাইরে চলে গেছে।
একজন মাংস বিক্রেতা বলেন, গরুর মাংস সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ টাকা বেড়ে ৭শ’ ৫০ টাকা, খাসির মাংস এক হাজার টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। যে কারণে এখন আগের তুলনায় বাজারে গরু-খাসি বিক্রি কমে গেছে। তাছাড়া সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চাইলেও মাংস কিনতে পারছে না।
তবে, বাজারে কিছুটা কমেছে কাঁচামরিচের দাম। কেজিতে ২০ টাকা কমে বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। আরও কয়েকটি সবজির দামেও স্বস্তি এসেছে।
অপরিবর্তিত আছে বেগুনের দাম। বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। আকারভেদে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস হিসেবে। শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে, টমেটোর কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ধরণভেদে শিম প্রতি কেজি৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগেও বাজারে ২০ টাকা কেজি দরে মিলেছে শিম।
সবজির বাজারে করলা কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। চাল কুমড়ার পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। আকারভেদে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।
এছাড়া চিচিঙ্গা ৫০টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপের কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। ধুন্দুল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া চিনি আটা ময়দা তেল মসলা, ডাল চানা গুড়ো দুধ প্রভৃদির দাম তো আগে থেকেই বৃদ্ধি। রমজানে আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সব কিছুম দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।