১২ মার্চ ২০২৩
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে : পান মানুষের কাছে অতি পরিচিত একটি নাম। যে কনো খাবারের পরে পান না খেলে মানুষ যেনো অস্বস্তিতে ভোগে। শখের বশবর্তি হয়েও অনেকে পান খায়। আবার অনেকে মুখ সতেজ ও ঝরঝরা রাখতে পান খেয়ে থাকেন। গ্রামের যে কোনো বাড়িতে বেড়াতে গেলেও অতিথিকে কমপক্ষে পান খেতে দেয়া হয়। সেই পানের বাজারে হঠাৎ আগুন লেগেছে, এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারন মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে গত এক সাপ্তাহ ধরে পানের বাজারে আগুন, গোয়াইনঘাটে বিপাকে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতা।
ছোট ছোট এক চলি পান বিক্রি হচ্ছে ১শ’ টাকা দরে। একটু ভালো পান বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াইশো টাকা দরে আর থেমে নেই সুপারির দামও। বাজারে প্রতি কেজি সুপারি বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা দরে। অস্বাভাবিক হারে পানের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় গত এক সাপ্তাহ ছোট্ট একটি খিলি পান সিগারেটের দোকান বন্ধ করে রাখেন মাসুক মিয়া। তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের খাইরাই গ্রামের বাসিন্দা। গত দুই বছর যাবত বঙ্গবীর পয়েন্টে ফুলঝুরি দোকানের সামনে ছোট্ট একটি পানের বাস্কো দিয়ে পান সিগারেট বিক্রির ব্যবসা করে আসছেন।
তার সাথে আলাপকালে তিনি জানান,দুই বছর যাবত খিলি পানের দোকান দিয়ে আসছেন।সারাদিনে হাজার পনেরশো টাকা বিক্রি করেন। দুই থেকে তিনশো টাকা মুনাফা হয়। যা পরিবারের কাজে ব্যয় করেন । মা বাবা সহ ৭ জনের সংসার। তার এই সামান্য মোনাফা কিছুটা হলে সংসারের ঘাটতিপূরন হয়।তাও আবার সব দিন সমান বিক্রি ও মুনাফা হয় না,নির্ধারিত বিক্রির চাইতে কমও হয়।
পানের দাম বাড়ায় তিনি গত এক সাপ্তাহ দোকান বন্ধ রেখে বেকার সময় কাটিয়েছেন। এভাবে আর ভালো লাগেনা তাই আজ আবার দোকান খুলেছেন।
তিনি জানান দুই তিন দিন পান সিগারেট বিক্রি করে দিনশেষে কোন রকমে মূলধন নিয়ে বাড়ি গেছেন। পানের দাম বৃদ্ধি পেলেও খিলি পানের দাম বৃদ্ধি করা যায়না। এখানে সব এলাকার মানুষ। ৫ টাকার উপরে কেউ পান খাইতে চায় না। ৫ টাকায় একটা খিলি পান বিক্রি করে ব্যবসার মুনাফা হয় না। এদিকে পানের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় অনেকে আবার আগের মত পান খায় না। পান ব্যবসায়ী মাসুক বলেন, আজ দোকান খুলে অর্ধেক পান দিয়ে ৫ টাকার করে বিক্রি করছেন। দিনশেষে মূলধনটা ঠিক থাকলেই হয়, বেকার থাকা থেকে ব্যবসায় থাকা ভালো। তারএকটু দূরে সামনে ১০-১২ বছরের ছেলে জিলানিও পানের দোকান দেয়।সেও জানায় পানের দাম বাড়ায় তিন দিন দোকান বন্ধ রেখেছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পান দোকানগুলোতে ছোটো পানের খিলি আবার কিছু দোকানী পানের অর্ধেক করে খিলি বিক্রি করছেন ৫টাকা দরে। অনেকে আবার পানের দাম বৃদ্ধিতে খিলিপান বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। আর সুপারির দামও বেশি থাকার কারনে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।