২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১


শহীদ মিনার না ময়লার ভাগাড়!

শেয়ার করুন

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : বছরের বেশির ভাগ সময়ই ময়লা আবর্জনা আর পরিত্যক্ত খড়কুটোর স্থানে পরিণত হয়ে অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার উদ্দেশ্যে নির্মিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদমিনারটি।

শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস সামনে এলেই চলে ধোয়া-মোছা আর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ। আর দিবস চলে যাবার কিছুদিন পরই ধীরে ধীরে ফিরে আসে ঠিক পূর্বের চেহারায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহিদমিনারের প্রবেশমুখের দরজাটি প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। প্রবেশ পথের লক্করঝক্কর দরজাটি দেখে সহজেই অনুমেয় যে, যথাযথ মর্যাদার পরবর্তীতে কতটা অবহেলা আর উদাসীনতা বিরাজ করছে শহিদমিনারটিকে ঘিরে। ভেতরে প্রবেশ করে যে কেউ বিভ্রান্তিতে পড়বে! মনে প্রশ্ন জাগবে, এটি ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ নাকি পরিত্যক্ত কোন স্থান?

স্মৃতিস্তম্ভের মূল বেদীতে গাছের শুকনো ডালপালা আর পাতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পেছনের দিকে চোখ পড়তে দেখা মিলবে কাঠের ও বিভিন্ন খড়কুটোর স্তুপ। আর সামনের অংশের পুরো জায়গা জুড়েই ছোট ছোট কাঠ, লোহা ও ইট-গুড়ো পাথরের টুকরো ও টিনের ভাঙ্গা দরজা-জানালা স্থানে স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পুরো শহিদমিনার এলাকা ঘুরেফিরে মনে একটি প্রশ্নই জাগবে, এটি শহীদদের উদ্দেশে নির্মিত কোন স্মৃতিস্তম্ভ নাকি পরিত্যক্ত খড়কুটো রাখার নির্ধারিত স্থান করে রাখা হয়েছে! আর সবমিলিয়ে উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহিদমিনারটির এমন বেহাল অবস্থা দেখে বাঙালি মাত্রই আপনাকে পীড়া দিবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) তাহিরপুর উপজেলা কমিটির সদস্য সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, গত বছরও বিজয় দিবসের রাতে তড়িঘড়ি করে শহিদমিনারটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছিল। অর্থাৎ প্রতিটি দিবস এলেই সারাবছর বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদমিনারটির কথা সবার মনে পড়ে।

বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ আলী বলেন, গত বছর তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আমি বলেছিলাম শহিদমিনারটি এরকম বেহাল অবস্থা দেখলে খারাপ লাগে। তাই এটিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে যেন সংস্কার করা হয়। উনিও আশ্বাস দিয়েছিলেন, শহীদমিনারের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। পরে আর কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, শহিদমিনারটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখার জন্য অনেক সময় বলে থাকি। একরকম বেহাল অবস্থা অবশ্যই কাম্য নয়, আজকেই এটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হবে এবং পরবর্তী সময়েও যেন শহিদ মিনারটি ঘিরে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য বিরাজ করে সে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন