৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ডেস্ক রেোপর্ট : ওসমানীনগরের খরস্রোতা নাটকিলা নদীবুকে এখন চলছে বালুর শাসন। স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও এই নদী খননের কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় নদীটি হারিয়েছে তার চিরচেনা রুপ যৌবন। প্রায় ১১.৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘের নদীটি বর্তমানে খালে পরিণত হয়েছে। নদীটি বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। নদীর বুকে গড়ে উঠেছে অবৈধ দখলদারদের বসতি।
যে নদীর উত্তাল তরঙ্গ পাল্টে দিত মানুষের বসতির ঠিকানা। কালের বিবর্তনে সে নদী আজ নিজেই পাল্টে গেছে। এক সময় এই নদীর করাল গ্রাসে শত-শত পরিবার হয়েছিল ভিটে হারা। বর্ষাকালে নদীর বাঁধভাঙ্গা ঢেউয়ের গর্জনে মানুষ দিশেহারা হয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতো। নদীর গর্ভে তলিয়ে গিয়েছিল হাজারো মানুষের স্বপ্নের নীড়। ওসমানীনগরের খরস্রোতা এই নাটকিলা নদীর বুকে এখন চলছে বালুর শাসন।
জানা যায়, নাটকিলা নদীটি বুড়ি বরাক নদীর একটি শাখা নদী। নদীটি থানার সাদীপুর ইউনিয়নের কাটারমার খাল ও বুড়ি নদীর সাথে সংযোগ হয়ে কালাসারা হাওরের মধ্য দিয়ে গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গদিয়ারচর, একারাই, মোবারকপুর, কলারাই, মুতিয়ার গাঁও প্রথমপাশা ও ভাগলপুর গ্রাম স্পর্শ করে বানাইয়া হাওরের সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নাটকিলা নদীটি এ এলাকার ফসলের একমাত্র উৎস। বুরো মৌসুমে নাটকিলা নদীর পানিতে নির্ভরশীল এলাকার বেশ ক’টি হাওরের ফসল। বর্তমানে পলি মাটিতে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। ফলে নদীতে তেমন পানি আটকা পড়ছে না। এতে এলাকার ভূমিখেঁকো চক্র নদী বিভিন্ন ভরাট অংশ দখলে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। তাছাড়া নদীর পানিতে বোরো ফসল নির্ভরশীল হাওর গুলোর কয়েক হাজার কৃষক পরিবার জমিতে সেচ সমস্যায় কারণে ফসল ঘরে তোলা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
অন্যদিকে বর্তমানে দখলদারদের কবলে পড়ায় নদীটি অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। আর এতে এলাকার হাওর গুলোর কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে ফসল ফলানো অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় অনাবাদি রয়ে যাচ্ছে। এদিকে ২০০৪ সালে স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির উদ্দিন নদীটি খননের জন্য পানি উন্নয়ন মন্ত্রনালয়ে আবেদন করলেও তা র্উর্ধতন কতৃপক্ষের অবহেলা আর উদাসীনতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
২০০৬ সালে আবারও একই প্রক্রিয়ায় নাটকিলা নদীটি খননের জন্য আবেদন করেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি। পরবর্তিতে ইউ/পি সদস্য মনির উদ্দিনের উদ্যোগে ২০০৮ সালে আবারও স্থানীয় গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের আলোচনা সভার মাধ্যমে নদীটি খনন করার উদ্যোগ হাতে নিয়ে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের নমুনা তৈরি করে তা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাবরে পাঠালেও তা অজানা কারণে তাও আলোর মুখ দেখেনি।
স্থানীয় কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে প্রথম দিকে এ জনপদের রোরো ফসলের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে উপজেলা কৃষি অফিস স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে উক্ত নদীতে একটি সুইস গেইট নির্মনের উদ্যোগ নিয়ে একটি নমুনা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠালেও রহস্যজনক কারণে তা আজও লাল ফিতায় বন্দি হয়ে আছে।
কলারাই গ্রামের জাবের আহমদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় দখলদারের কবলে পরে প্রমত্তা নাটকিলা নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। সেই সুযোগে নদীর বুকে ঘর-বাড়ি ও দেয়াল নির্মানের প্রতিযোগিতায় নেমেছে নদীর তীরবর্তী একাধিক ব্যাক্তিবর্গ। এলাকার প্রতিবছরই লোকসান গুনছে হাজার হাজার কৃষকরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মনির উদ্দিন বলেন, এ অঞ্চলের কৃষক পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৪ সাল থেকে দফায় দফায় নাটকিলা নদীটি পুনঃখননের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও আজও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। এলাকার কৃষকদের স্বার্থে নদীটি জরুরী ভিত্তিতে পুনঃ খননের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
(আজকের সিলেট/ডেস্ক রিপোর্ট/এইচআই/৪ ফেব্রুয়ারি/ঘ.)