১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩


কলেজছাত্রী সনিয়া হত্যার ৩৬ ঘন্টায়ও মামলা হয়নি

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে কলেজছাত্রী টিকটকার সনিয়া আক্তার হত্যাকাণ্ডের ৩৬ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও কোনো মামলা হয়নি। কাউকে আটকও করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, ঘটনার তদন্ত চলছে, জড়িতদের ধরতে অভিযানও চলছে। সনিয়া আক্তার (২১) জকিগঞ্জ উপজেলার শীতল জোড়া গ্রামের বিলাল আহমদের মেয়ে।

রোববার দুপুরে নগরীর খুলিয়াটুলার জহুর আলীর বাসা থেকে সনিয়ার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ। সনিয়া দক্ষিণ সুরমা নূরজাহান মেমোরিয়াল মহিলা কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হওয়া নাটক ও টিকটকে অভিনয় করতো।

এস এমপি’র কোতোয়ালি থানার ওসি মোহম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, ‘সনিয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ কাউকে আটকও করতে পারেনি।’তবে আমাদের তদন্ত ও তল্লাশী অভিযান চলছে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খুলিয়াটুলার ওই বাসার চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকতেন সনিয়া আক্তার। তার সৎ বাবা সেলিম মিয়া অসুস্থ হয়ে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাকে নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা ব্যস্ত ছিলেন। রোববার সকাল থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিলেন সনিয়ার মা অমিতা বেগম ও ভাই পারভেজ আহমদ। বাসায় সনিয়া ছাড়াও ছিলেন তার ভাবি ফারিয়া বেগম ও মামাতো ভাই সজিব। তবে সজিব সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সনিয়ার মা অমিতা বেগমকে ফোন করে বাড়ি চলে যাচ্ছে বলে জানায়। সজিবের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার নবীনগর গ্রামে।

দুপুর ১২টার দিকে সনিয়ার কক্ষে গিয়ে খাটের ওপর তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান ভাবী ফারিয়া বেগম। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা কাঁচি উদ্ধার করা হয়।

সনিয়ার মা অমিতা বেগমের দাবি, সনিয়াকে হত্যা করে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে হত্যাকারী। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা তার বোধগম্য নয়।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সনিয়া হত্যায় সজিবের দিকে সন্দেহের তীর রয়েছে। তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। তাকে ধরতে অভিযান চলছে পুলিশের।

শেয়ার করুন