১৮ জানুয়ারি ২০২৩
অমৃতজ্যোতি, মধ্যনগর(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার এক বিশাল হাওরে করচের চারা রোপন করে বাগিচা সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন এক প্রকৃতিমনা বৃক্ষ প্রেমী। বাগিচার খরচ যোগাতে নিজের শখের মোটরসাইকেল বন্ধক দিয়েছেন।
বোরো ফসলের অন্যতম ভান্ডার হিসেবে খ্যাত বোয়ালী হাওর। যার অবস্থান মধ্যনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের একই ওয়ার্ডে। বৃক্ষ রোপনে মধ্যনগর ও কলমাকান্দা উপজেলার সংযোগের মেঠো রাস্তাটি সেজেছে প্রকৃতির অপরুপ সাজে।জমশেরপুর ও মাইজপাড়া গ্রামের বোরো জমির পাশের বোয়ালার কান্দাটি দেখতে বেশ ধনুকের ন্যায়। করচের চারাগাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে বাগিচাটি। গোপেশ সরকার নামক কৃষক তিনির নিজ হাতে লাগানো করচের চারাগুলো প্রকৃতিকে যেন সাজিয়েছে নতুন সাজে। তাই কৃষক, গবেষক ও প্রকৃতিমনা সাধারণ জনমানুষ নাম দিয়েছেন ‘গোপেশ বাগ’।
বোয়ালার হাওরে করচের চারাগাছ রোপনকারী উপজেলা সদর ওয়ার্ডের জমশেরপুর গ্রামের বৃদ্ধ গগন সরকারের একমাত্র ছেলে গোপেশ সরকার(৪৫)। তিনি দৈনিক ভোরের ডাক প্রতিনিধিকে জানান-আমার এই উদ্যোগটি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সামন্য প্রয়াস মাত্র। কথা বললে তিনি আরো জানান অর্থনৈতিক সংকটময় মুহূর্তে তিন হাজার করচের চারাগাছ রোপন করেন।যার মূল্য আড়াই লাখ টাকা। শ্রমিক থেকে শুরু করে রোপন,গোড়ায় পানি দেয়া সহ সবমিলে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা খরচ হয় তাঁর।সাকুল্য টাকাই ঋণের।
প্রকৃতির প্রতি ভালবাসায় আমার এই বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি। ব্যায়িত অর্থনৈতিক চাপে শেষ পর্যন্ত আমার গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছে আমার শখের মোটরসাইকেল ৩৫হাজার টাকার মধ্যে বন্ধক রাখতে হয়েছে।এখনো ফিরিয়ে আনতে পারিনি XCD150cc মডেলের মোটরসাইকেল যার মূল্য প্রায় দের লক্ষ টাকা। এটি উপহার দিয়েছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কল্লোল চৌধুরী।তবে মানসিক ভাবে আমি তৃপ্তি পেয়েছি তখনি যখন গাছের পাতা গজিয়ে সতেজ হয়েছে।লোক মুখে শোনা যায়”গোপেশ বাগ”তখনই আনন্দে আত্মাহাড়া হই।ইচ্ছে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকের পেনশন প্রকল্প শুরু করার।
চারা গাছ গুলো মাথা উঁচু করে দাড়িয়েছে।অসংখ্য পথচারীদের অবসর সময় কাটানো,ছবি তোলা এবং কৃষি মৌসুমে রৌদ্রময় দিনে কিছুটা স্বস্তি পান কৃষকরা।
আমার একান্ত ইচ্ছে রোপিত”গোপেশ বাগান”চত্বরে সকলের সহযোগিতা পেলে একটি কৃষি প্রদর্শনী মেলা উদযাপনের।গাছের নকশায় মুজিববর্ষ অঙ্কিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।এজন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক সহযোগিতা।আমি তখনই ধন্য ও স্বার্থক হবো।জনতার অনেকেই আমায় মানসিক সহযোগিতায় উদ্বুদ্ধ করেছেন।গাছ গুলো যখন স্বাবলম্বী হয়ে দাড়িয়ে থাকবে ইতিহাসের পাতায়,সেদিন হয়তো থাকবে না আমি অধম গোপেশ।হাওরে বৃক্ষ রোপনের উদ্যোগকে এলাকার সর্বমহলের জনগন স্বাগত জানিয়েছেন।
হাওর গবেষক সজল কান্তি সরকার বলেন-বাংলাদেশের হাওরগুলোতে বন একে বারেই নেই।গোপেশ বৃক্ষকে ভালবেসে এমন উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন তাঁকে কৃতজ্ঞতার সহিত স্যালুট জানাই।আমাদের উচিত তাকে সাহায়তা করা,আমি আমার থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান এসম্পর্কে বলেন প্রকৃতিমনা মানুষকে আমার নয় সকলের ভাল লাগবে চিরসবুজের বৈচিত্র্যময়ী দৃশ্যকে। বাংলাদেশ সরকার বৃক্ষ রোপনের উপর জোর দিয়েছেন খুব বেশী।এই বৃক্ষ মানবের পাশে দাড়াতে পারলে মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন কৃতজ্ঞত থাকবে।তবে ঐ স্থানে বৃক্ষের উপর মেলা করা যেতে পারে।এবং তিনি করচের চারা উৎপাদন করুন আমরা তার থেকে চারা সংগ্রহ করবো।যেহেতু নতুন উপজেলা পরবর্তীতে আমাদের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা থাকবে ইনশাআল্লাহ।