১৫ জানুয়ারি ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট : সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন আদালত।
রোববার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মো. শাহাদাত হোসেন প্রামাণিকের আদালতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা থাকলেও তারা উপস্থিত না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে দেন বিচারক।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর সারোয়ার হোসেন আবদাল বলেন, ‘মেয়র আরিফসহ অন্যান্য আসামি আদালতে হাজির হলেও কয়েকজন পুলিশ সদস্য সাক্ষ্য দেওয়ার কথা থাকলেও তারা না আসায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। এ অবস্থায় মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন আদালত।’
তিনি বলেন, ‘আলোচিত এই হত্যা মামলায় ১৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। রবিবার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত তারিখে কোনও সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় সাক্ষীর নামে পরোয়ানা ও সমন জারি করেন আদালত। এর আগে একই কারণে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পেছানো হয়েছিল।’
জানা যায়, সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ কয়েকজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মামলায় অভিযুক্ত জামিনে থাকা পাঁচ জন আদালতে উপস্থিত হতে না পেরে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে একটি জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন শাহ এ এম এস কিবরিয়া। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ওই হামলায় তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী নিহত এবং আরও ৭০ জন আহত হন।
ঘটনার পরদিন হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করা হয়। পরে মামলা দুটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৫ সালে ১৮ মার্চ শহীদ জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল কাইউমসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।
এই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করে বাদীপক্ষ। পরে মামলা পুনরায় তদন্তের পর ২০১১ সালের ২০ জুন আসামির সংখ্যা ১৬ বাড়িয়ে ২৬ জনের নামে দ্বিতীয় দফা অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এটি নিয়েও আপত্তি জানায় নিহত কিবরিয়ার পরিবার।
সবশেষ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে নতুন করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। পরে ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।