২৯ জুলাই ২০২০


কামারপল্লীতে করোনার হানা

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদুল আযহার দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসলেও ব্যস্ততা নেই কামারপল্লীতে। কোরবানির পশু জবাইয়ের উপকরণ তৈরি কাজে থাকা কামাররা অনেকটাই অলস সময় পার করছেন। অথচ প্রতিবছর কোরবানির ঈদে ব্যতিব্যস্ত থাকেন তারা। কিন্তু করোনাকালে এবারের ঈদে ভিন্ন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে কামারপল্লীতে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে একদিকে কমেছে ক্রেতার সংখ্যা পাশাপাশি কাঁচা মালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নামমাত্র লাভে বিভিন্ন কোরবানির পশু জবাইয়ের সামগ্রী বিক্রী করছেন তারা। উপার্জন কমে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রায় ১শ’ কর্মকার রয়েছেন। ঈদ মৌসুমে দা, ছুরি, বটি, খান্ডাসহ কোরবানির সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করতেন তারা। এসময় এসব উপকরণ ক্রয়ে ভীড় লেগে থাকত তাদের কারখানা দোকানে।

সারাবছর খুব ভাল না কাটলেও এ সময়টাকে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতেন। তবে এইবার করোনার কারণে পাল্টে গেছে। নেই তেমন ব্যস্ততা, কমে গেছে কাজের পরিধি। শুধুমাত্র দা, বটি, খান্ড সান দেওয়া ছাড়া নতুন সামগ্রী তৈরির চাহিদা নেই বললেই চলে।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নিবু দেব জানান, কোরবানির সামগ্রী তৈরীর কাঁচা মালসহ কয়লা ও লোহার দাম বেড়েছে। তেমন চাহিদা না থাকায় এসব পন্য তারা সীমিত লাভে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এখানে ১শ’ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় হাজার টাকার বিভিন্ন কোরবাণির সামগ্রী রয়েছে। ধার-দেনা করে ব্যবসা ধরে রাখলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন কর্মকাররা।

রবি কর্মকার জানান, ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি আয়ের আশা করলেও কাক্সিক্ষত কাজ না থাকায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন শত কর্মকারের।

অমি কর্মকার বলেন, করোনার প্রভাবে রোজগার কমে যাওয়ায় নিজের পরিবারের ভরণ পাশাপাশি কারিগরদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। আগে কম পুঁজি দিয়ে এ ব্যবসা করেছি। কিন্তু এখন বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এ ব্যবসা করতে হচ্ছে।

শেয়ার করুন