৭ জানুয়ারি ২০২৩


ইশতেহার বাস্তবায়নে অটল আওয়ামী লীগ

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : টানা তৃতীয় মেয়াদে চতুর্থ বছরপূর্তি আওয়ামী লীগ সরকারের। ক্ষমতায় আসতে নির্বাচনের আগে জনগণকে আকৃষ্ট করতে ঘোষণা করা হয়েছিল ইশতেহার। দেওয়া হয়েছিল ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি। তবে বর্তমান মেয়াদে ক্ষমতায় আসার আগে দলটি যে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল, তা বেশিরভাগই কার্যকর করেছে। এই সফলতার উদাহরণ টেনে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ইশতেহার বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ বরাবরই অটল। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই দল জনগণকে দেওয়া কথা রেখে আসছে প্রতি মেয়াদেই।

সর্বশেষ গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলটির ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’। একই সঙ্গে দেশবাসীকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দলটি, তা কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে ক্ষমতাসীনরা- আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এ হিসাব-নিকাশ চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

২০২৩ সালকে বলা হচ্ছে নির্বাচনী বছর। এ বছরের শেষে বা আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তাই নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ হলো সেই বিষয় নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ গত নির্বাচনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়েছে। এছাড়া করোনাকালের মতো একটি সংকটময় দীর্ঘ সময় পার করতে হয়েছে দলটিকে। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের এই মেয়াদে ইশতেহারে উল্লিখিত সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। তারপরও বাস্তবায়ন আশানুরূপ। এছাড়া ইশতেহার ঘোষণার সময় বিশ্বে করোনা মহামারির কোনো আভাস ছিল না। ফলে এই চরম সংকটের বিষয়টি ইশতেহারেও আসেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার দক্ষতার সঙ্গে ওই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। পাশাপাশি উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিকদের করোনার টিকার ব্যবস্থা করেছে। যা বিশে^র অনেক দেশেই সম্ভব হয়নি।

গত ২০০৯ সাল থেকে সরকারের ধারাবাহিকতা থাকায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ স্লোগানের বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়েছে। এখন গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আছে। এতে গ্রামে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার সরকারে আসার আগে দলটির নির্বাচনি ইশতেহারের ঘোষণা ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার। দেশ ডিজিটাল হয়েছে।

সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ নির্বাচনি ইশতেহারে আওয়ামী লীগ
‘তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ স্লোগানে তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অঙ্গীকার ছিল। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে জাতি যে সময় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করে তখনই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করে। নির্বাচনি ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, জাতীয় সংসদকে কার্যকর করা এবং সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার করেছিল আওয়ামী লীগ। এতে আরও ছিল, মেগা প্রকল্পগুলোার দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, ব্লু-ইকোনমি-সমুদ্রসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা দিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। এর বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়েছে।

কিন্তু ক্ষমতাসীনরা তাদের ইশতেহারের প্রতিশ্রতির বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। বিশেষ করে করোনামহামারি মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক সংকট থেকে উত্তোরণ। এছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অস্থিতিশীল বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার।

নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছিল, পাঁচ বছরে ১ কোটি ২৮ লাখ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে গত চার বছরে প্রায় ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা। তবে এক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি হয়নি।

এছাড়া বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।

২০১৮ সালের ইশতেহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে গ্রামের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ বেড়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন সবদিক থেকেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিল্প, শ্রমিকদের কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, যোগাযোগ, পরিবেশ, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, শিশু ও বয়স্কসহ মুক্তিযোদ্ধা এবং শারীরিকভাবে অক্ষমদের কল্যাণ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রের অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। এক সঙ্গে ১০০ সড়ক ও ১০০ সেতু উদ্বোধন হয়েছে। তারপরেও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগ তো চলছেই। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একসময় অবহেলিত দেশের উত্তরাঞ্চলে এখন আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। সব মিলে প্রায় ৭০ ভাগের কাছাকাছি।

তবে আগামীতে আরও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে আওয়ামী লীগকে। প্রতিটি ঘরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা ছিল ইশতেহারে। সেটি হয়তো সরকার পারেনি। আসলে পাঁচ বছরে একটি সরকারের পক্ষে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।

এছাড়া বৈপ্লবিক উন্নয়ন হয়েছে যোগাযোগ ক্ষেত্রেও। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রয়োজন ছিল প্রধান প্রধান নদীগুলোর ওপর সেতু নির্মাণ। পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু, তিস্তা সেতু, পায়রা সেতু, ২য় কাঁচপুর সেতু, ২য় মেঘনা, ২য় গোমতী সেতুসহ শত শত সেতু, সড়ক, মহাসড়ক নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ করেছে সরকার।

মেট্রোরেল চলাচলের মধ্য দিয়ে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

এছাড়া কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেল খুলে দেওয়া হবে আগামী মাসে। এরপর কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে চলবে গাড়ি। আর এ বছরই পদ্মা সেতুর ওপর রেললাইন নির্মাণকাজ শেষ হবে। একই সঙ্গে ঢাকার উড়াল সড়কের কাজও সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হওয়ার প্রত্যাশা আওয়ামী লীগ সরকারের গোটা মেয়াদজুড়ে। সম্প্রতি ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছে সরকার, যা আগামী মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তা বাস্তবায়ন করবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে। দেশের মানুষকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে- আওয়ামী লীগ তা বাস্তবায়নে কাজ করেছে।

শেয়ার করুন