৩০ ডিসেম্বর ২০২২
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর গোয়াইনঘাট উপজেলার সৌন্দর্য্যের কথা হয়তো বলে শেষ করা যাবে না। একেক সময় একেক রুপে সেজে উঠে পর্যটন খ্যাত সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই উপজেলা । ভরা বর্ষায় থৈ থৈ পানিতে ঢেউয়ের কলতানিতে মুক্তা ঝরে আর শীতে হয়ে যায় হলুদের দিগন্ত জোড়া মাঠ।
প্রকৃতিজুড়ে বইছে এখন শীতের হাওয়া। আর এই শীতের হাওয়ার মধ্যে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে বিস্তৃত এলাকা। এমন চোখ জুড়ানো হলুদের মেলা প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অপরূপ সাজে। এক ফুল থেকে আরেক ফুলে গুণ গুণ করে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছিরা।
খরচ কম, লাভ বেশি হওয়ায় গোয়াইনঘাট উপজেলায় সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। আবাদি-অনাবাদি জমিতে কৃষকরা এখন সরিষা চাষ করছেন। তাদের অভিমত, ধানের তুলনায় সরিষায় লাভ বেশি।
বিগত বছরগুলো থেকে চলতি মৌসুমে উপজেলায় বেড়েছে সরিষার আবাদ। উপজেলার পূর্ব জাফলং, পশ্চিম জাফলং, সদর, আলীরগাঁও ও রুস্তমপুর ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকায় এখন সরিষার আবাদ চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় কৃষি অফিস বলছে- উৎপাদনও বেশি হবে বিগত বছরগুলোর চেয়ে। এ ব্যাপারে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলায় গতবছর ২০২১ সালে ৫৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। বর্তমানে সেটি বৃদ্ধি পেয়ে ৭১৮ হেক্টর হয়েছে। এ বছর গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ৪৪৪ জন কৃষককে ৩ কেজি করে বীজ সহায়তা প্রদান করা হয় এবং কৃষি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় ১৯৫০ জন কৃষককে সরিষার বীজ ও রাসায়নিক সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ৫৫ টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়।
সরিষা ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ সবাই! দূর থেকে দেখলে মনে হয় প্রকৃতি হলুদ চাদর পেতে রেখেছে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থাৎ শীতকাল আসতেই ফুটে ওঠে সরিষা ফুল।এ সময় যেদিকেই চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। প্রকৃতিপ্রেমীরাও এমন সব ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে ছুটেন সরিষা ফসলের মাঠে। ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য আর গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শোভা পায় হলুদ রঙের দৃষ্টিনন্দন ছবি।
গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নল জুরি সরিষা মাঠ পরিদর্শন করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান, কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি, সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু কাওসার, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং মধ্য জাফলং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লোকমান শিকদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, কৃষকগন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি জানান, এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। সম্পূরক রবি শস্য হিসেবে সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সরিষা বীজ প্রদান করা হয়েছে। এরই মধ্যে চাষকৃত সরিষার বেশির ভাগেই ফুল এসে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এবার সরিষা আবাদি কৃষকরা বাড়তি মুনাফা পাবে বলে মনে করছেন তিনি।