২৪ জানুয়ারি ২০১৮
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ উপজেলার ৭নং আদমপুর ইউনিয়নের পোষ্ট অফিস ভবনটি নির্মাণের পর থেকে সংস্কার না করায় বর্তমানে পোষ্ট অফিসটির বেহাল দশা। ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় মূল্যবান দলিল-পত্রাদি সংরক্ষণ করা হয় ইউনিয়নের প্রধান ডাকঘরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টির পানিতে ভবনে টিন চুয়ে পানি পড়ে, ফলে ভিজে যাচ্ছে মূল্যবান কাগজ-দলিল-পত্র। ভবনটি বতর্মানে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। চিঠিপত্র, টাকা মানি অর্ডার, পার্সেল ডাক বীমাসহ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট রাখা এবং পাঠানো হতো পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে। সেই পোষ্ট অফিসের আজ নাজুক অবস্থা। নির্মাণের পর থেকে আজ পর্যন্ত সংস্কার ও পুনঃমেরামত করা হয়নি।
এ কারণে দীর্ঘ দিন থেকে ভবনটির টিন চুয়ে বৃষ্টির পানি নিচে পড়ছে , চারদিকের দেয়ালের অবস্থাও খারাপ। এমনকি পোষ্ট অফিসের জানালা ভাঙ্গা এবং অফিসের পিছনের দরজাও নেই। অফিসের একাংশ পাশ্ববর্তী মসজিদের পুকুরের পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, পোষ্ট অফিসের ভিতরের মালামাল নেই। পোষ্ট অফিস মাষ্টার বিভিন্ন জনকে পোষ্ট অফিস ভাড়া দিয়ে থাকেন। প্রথমে দীর্ঘ দিন এই অফিসে কোচিং সেন্টার ছিলো, তারপর এক মোরগ বিক্রেতার কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে চাপা ক্ষোভ। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই বলেও জানান স্থানীয়রা।
ব্যবসায়ী রহমত আলী সাগর জানান, এক সময় পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে চিঠিপত্রাদি আদান-প্রদান করা হত। বর্তমানে পোষ্ট অফিসের চেয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অতি দ্রুত টাকা-পয়সা এবং চিঠিপত্রাদি আদান-প্রদান করা যায়। এ কারণে পোষ্ট অফিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে।
পোষ্ট মাষ্টার আব্দুল মুহিত মাহতাবের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান , দীর্ঘ দিন থেকে ছাঁদ চুয়ে পানি পড়ছে, যার কারণে কাগজপত্রসহ অনেক মূল্যবান রেকর্ড নষ্ট হয়ে গেছে। এ নিয়ে বহুবার উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে ৭নং আদমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো: আবদাল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখবো এবং যতো দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেবো। আশা করি, খুব তাড়াতাড়িই এর সমাধান হবে।
(আজকের সিলেট/২৪ জানুয়ারি/ডি/এসটি/ঘ.)