১৫ নভেম্বর ২০২২
ওসমানীনগর প্রতিনিধি : সিলেটে বিভাগীয় গণসমাবেশের জন্য প্রচার চালানোর সময় নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী,বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা তাহসিনা রুশদীর লুনার গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তিনি অক্ষত থাকলেও তাকে বহনকারী প্রাইভেটকারটি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এ সময় আহত হয়েছেন ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এজকন সহ সভাপতি আহত হয়েছেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সাড়ে ৪টায় ওসমানীনগর উপজেলার গোলাবাজারে এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিকেলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ওসমানীনগরে প্রচারপত্র বিতরণ করতে যান এম. ইলিয়াস আলীপত্নী লুনা। এ সময় শেরপুর থেকে দয়ামীর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন তিনি। দক্ষিণ গোয়ালাবাজার এলাকায় পুলিশ মারমুখী অবস্থান নিয়ে ট্রাক দাঁড় করিয়ে মহাসড়কে বেরিকেড দিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লুনার গাড়ি বেরিকেট ডিঙিয়ে উত্তর গোয়ালাবাজার প্লাজার সামনে এলে হামলা করা হয়। পরবর্তীতে গোয়ালাবাজারে কোনো কর্মসূচি না করে তার গাড়ি সরাসরি দয়ামীর বাজারে চলে যায়। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে তিনি ঝটিকা প্রচারপত্র বিলি করতে শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় তাঁর গাড়ির সামনের কাঁচ ভাঙা ও পেছনের বনেটে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
গোয়ালাবাজারে গাড়িতে হামলার জন্য লুনা সরাসরি ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে দায়ী করে বলেন, ১৯ নভেম্বর সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশকে ঘিরে সরকারের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিনা উসকানিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচিকে বানচাল করতে পরিকল্পিতভাবে আমার গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। সরকার দলীয়দের হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ মিছবাহ ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুর রূপ আব্দুল আহত হয়েছেন।
তবে গাড়িতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমদ আম্বিয়া বলেন, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোয়ালাবাজার প্লাজার সামনে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা কেক কাটার জন্য জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় বিএনপি নেতারা প্লাজার সামনে অবস্থান নিয়ে প্রচারপত্র বিলি করতে চাইলে যুবলীগ নেতা তাদের অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য বললে। এতে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়।
তিনি আরও বলেন, এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে যুবলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এ হামলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছয় জন আহত হন।
ওসমানীনগর থানার ওসি মাঈন উদ্দিন বলেন, বিএনপি তাদের প্রচারপত্র বিলি কর্মসূচিকে ঘিরে ওসমানীনগরে অরাজকতা তৈরি করতে চেয়েছিল। তাই পুলিশ এলাকার শান্তি রক্ষার্থে কাজ করেছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে মামলা হলে তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে।
সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নিন্দা
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারে পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা তাহসিনা রুশদীর লুনার গাড়িতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালি পংকী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও সিলেট মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ্ সিদ্দিকী।
মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পুরো সিলেটজুড়ে যখন আগামী ১৯ নভেম্বরের গণসমাবেশ নিয়ে প্রচার প্রচারণা চলছে, সিলেটবাসী যখন বিএনপির সমাবেশে একাত্মতা পোষন করেছে এমন সময়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা তাহসিনা রুশদীর লুনার গাড়িতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ দলী সকল নেতাকর্মীকে এসব নির্যাতন এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আগামী ১৯ নভেম্বরের সমাবেশের মাধ্যমে এই সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানোর আহবান জানান।
জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিলম্বে এই হামলার সাথে জড়িত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানান।
এদিকে, অপর এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বিয়ানীবাজার উপজেলায় বিএনপির কর্মসূচিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এসব হামলার পাশাপশি বিএনপির কর্মসূচি থেকেবিয়ানীবাজার উপজেলায় এক জন, কানাইঘাট উপজেলায় এক জন এবং ওসমানীনগর উপজেলায় দুই জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের তীব্র ও প্রতিবাদ জানান। এবং অভিলম্বের গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবী জানান।