১১ নভেম্বর ২০২২


সম্রাট কোথায়?

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : নানা গুজব আলোচিত সম্রাটকে নিয়ে। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এই গুজবের সত্যতা মিলেনি। গ্রেপ্তার হয়নি সম্রাট। এখনো লাপাত্তা। আম্বরখানা ছেড়ে পালিয়েছে তার সহযোগীরাও। তাদের আড্ডাস্থল মারজান গলিতে এখন পিনপতন নীরবতা। তবে পুলিশ, র‌্যাব সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম তাদের গ্রেপ্তার করতে মাঠে কাজ করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই সিলেট শহর ছেড়ে পালিয়ে যায় খুনিরা। প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলেও পরবর্তীতে ওইসব স্থানে অভিযান চালালেও তাদের পাওয়া যায়নি। এখন অনেকেই নেটওয়ার্কের বাইরে।

ফলে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তবে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আশাবাদী, খুনি শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও ল’কলেজের সাবেক ভিপি আফম কামালকে রোববার রাতে নগরীর আম্বরখানা বড়বাজারের গোয়াইপাড়া গলির মুখে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন সোমবার রাতে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ভাই ময়নুল হক। মামলায় আজিজুর রহমান সম্রাটকে প্রধান আসামি করা হয়। বিশ্বনাথের আতাপুর গ্রামে বাড়ি তার।

একই সঙ্গে মামলায় সম্রাটের সহযোগী কাজিরগাঁওয়ের মো. হাফিজ, নগরীর গোয়াইপাড়ার অস্ত্র শাকিল ওরফে শাকিল আহমদ, বাদামবাগিচার মিশু, গোয়াইপাড়ার আজিজ হাসান কুটি ও মনা, কাজিরগাঁওয়ের আব্দুল আহাদ, খাদিম দাসপাড়ার মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, রায়েরগাঁওয়ের আশরাফ, লালারগাঁওয়ের শাওন আহমদকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে- মামলা দায়েরের আগেই পুলিশ তথ্য প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে সিলেট শহরতলী থেকে মামলার ৫ নং আসামি আজিজ আহমদ কুটিকে গ্রেপ্তার করেছে।

সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, আ ফ ম কামাল খুনের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আজিজ হাসান কুটি নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সক্রিয়। এদিকে- আম্বরখানা ও আশপাশের এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মী সম্রাটের নেতৃত্বে অপরাধ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়টি সিলেটজুড়ে আলোচিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এক সময় সম্রাট লামাকাজি থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত সড়কে সিএনজি চালাতো। পরে সে আম্বরখানার সুনামগঞ্জ রোডের সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করতো। ওখান থেকে সে ধীরে ধীরে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এরপর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠে। সম্রাটের আয়ের অন্যতম উৎস ইয়াবা ব্যবসা। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, মারজান গলি সব সময় থাকতো তার নিয়ন্ত্রণে। তার সহযোগীরা ওখানে বসে আড্ডা দিতো। ছাত্রলীগের নামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে চাঁদাবাজি করতো। গত দুই বছর ধরে সে বেপরোয়া হয়ে উঠে। তার নেতৃত্বের পরিধি বেড়ে ৫ নং ওয়ার্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সে সাপ্লাই, খাসদবির, বড়বাজার এলাকায় বসে আড্ডা দিতো। এসব স্থানে তার সহযোগীরা রয়েছে। এরা চুরি, ছিনতাই সহ নানা অপরাধে জড়িত। এ কারণে ওই এলাকার মানুষ তাদের দাপটের কাছে অসহায় ছিলেন। কামাল খুনের ঘটনার পর ওরা এলাকায় নেই। তবে- ভীতি রয়ে গেছে। স্থানীয়রা এ ঘটনার পর আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সম্রাট ও তার সহযোগীদের অবস্থান নিয়ে নীরব ছিলেন বৃহত্তর আম্বরখানা ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা।

এগিয়ে গিয়ে তারা ঝামেলায় জড়াননি। তবে- ব্যবসায়ীদের সুখ, দুঃখের ঘটনায় তারা ছুটে গেছেন। গত ১৯শে অক্টোবর মান্নান মার্কেটের লাহিন এয়ার সার্ভিসে ঘটনার খবর শোনার পর তারাও গিয়েছিলেন ওখানে।

কিন্তু আইনি পদক্ষেপ নেয়ায় তারা আর এ ঘটনায় সম্পৃক্ত হননি। বৃহত্তর আম্বরখানা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গুলজার আহমদ জানিয়েছেন, লাহিন এয়ার সার্ভিসের ঘটনায় তাদের কাছে কেউ বিচারপ্রার্থী হয়নি। এ কারণে তারা বিষয়টিতে সম্পৃক্ত হননি। তিনি জানান, টি-ল্যান্ড হোটেলে ভাড়াটে বিরোধের বিষয়টিতে তারা সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। পরে সেটি মিটমাট হয়ে গেছে। এরপর থেকে টি-ল্যান্ড হোটেলে আর কোনো সমস্যা হয়নি।

অন্যদিকে- সম্রাটের নেতৃত্বে টি-ল্যান্ড হোটেলে জুয়া বোর্ড পরিচালনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন টি ল্যান্ড হোটেলের পরিচালক হোসেইন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, হোটেলে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করছি। একটি পক্ষ হোটেলে মান-সম্মান নষ্ট করতে অযথা নানা অপপ্রচার করছে। তাদের হোটেলে কখনো পুলিশ অভিযান চালায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে- আম্বরখানা ও আশপাশ এলাকায় অপরাধের ঘটনায় বিব্রত জনপ্রতিনিধিরাও। আ ফ ম কামালের ওপর হামলার একটু পরে লন্ডন যাওয়ার সময় পথিমধ্যে ঘটনার মুখোমুখি হন নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ। লন্ডন ফ্লাইট মিস হওয়ার আশঙ্কায় তিনি গুরুতর অবস্থায় কামালকে হাসপাতালে পাঠিয়ে বিমানবন্দরে চলে যান। তিনি এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন।

তবে- পার্শ্ববর্তী ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান লোদী কয়েস জানিয়েছেন, ‘আম্বরখানা পয়েন্ট সহ বৃহত্তর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমি ও ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ কাজ করেছি। ইদানীং সামাজিক বন্ধন সূদৃঢ় করার প্রক্রিয়ায় কিছুটা গাছাড়া ভাব রয়েছে। যারা এখন সামাজিক দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের চেয়ে রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব বেশি। এজন্য আম্বরখানায় শান্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে অদৃশ্য কারণে অনেকেই মুখ খুলেন না।’

শেয়ার করুন