১০ অক্টোবর ২০২২


গোলাপগঞ্জে আদালতের আদেশ অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

শেয়ার করুন

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জবরদখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় জবরদখলকারীদের হামলার আতঙ্কে দিন কাটছে ভুক্তভোগী পরিবারের।

এমন অভিযোগ উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের নোয়াই দক্ষিণ ভাগ গ্রামের ভুক্তভোগী কামরান আহমদ ও তার ভাই মাহমুদ হোসেনের।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে মৃত নমির হোসেনের ছেলে কামরান আহমদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।মামলা নং ১০৪/২০২২।

মামলা সূত্রে জানা যায়,নোয়াই দক্ষিণ ভাগ গ্রামের মৃত নমির হোসেনের ছেলেদের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলছিলো,বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দফায় দফায় সালিশ ডেকেও কোন সুরাহা হয়নি,এতে বাধ্য হয়ে একপর্যায়ে আদালতের দারস্থ হন মৃত নমির হোসেনের ছেলে কামরান আহমদ।

তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত নির্মাণাধীন জায়গায় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা মতে নোটিশ জারি করে, তবে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে রাতারাতি জায়গার ওপর একটি টিউবওয়েল ও পাকা ঘরের কাজ শুরু করেন নমির হোসেনের ছেলে কাতার প্রবাসী জায়েদুল ইসলাম,আফ্রিকা প্রবাসী শাহ আলম ও নাজমুল হক, এতে তাদের সহযোগিতা করেন তাদের বড় ভাই আলী হোসেন।

আদালতের আদেশ অমান্য করে ঘর নির্মাণের বিষয়ে মামলার বিবাদী আলী হোসেনকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আদালতের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর আমি গোলাপগঞ্জ থানার এস আই হাফিজ ,এস আই মনির ও এস আই হেলালের পরামর্শে ওসি স্যারের সাথে কথা বলে তার অনুমতি নিয়ে ঘরের কাজ শুরু করি।

এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে অনুমতি দেয়ার কোন প্রশ্ন-ই আসে না,তার কাছে অনুমতি দেয়ার কোন প্রমান থাকলে সেটা দেখাতে বলুন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে এস আই হাফিজ বলেন,তাদের অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা বরং আদালতের আদেশ অমান্য করায় আমি নিজে গিয়ে তাদের নির্মাণ কাজে বাঁধা দেই।

এস আই মনির বলেন,তাদের কোন বিষয়েই আমি অবগত না,তাদের কোন মামলার তদন্তের সাথেও আমি সম্পৃক্ত নই।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে এস আই হেলাল উদ্দিন বলেন, এমন অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যে, তাদের অপরাধ ঢাকতেই আমাদের নামে মিথ্যে অভিযোগ দিয়েছে,বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আমরা তাদের সমাধানের পথে যেতে বলেছিলাম,কিন্তু তারা কথা শুনেনি।

এদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির কিছুদিন আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির চেস্টায় কয়েক দফা বৈঠক করেও ব্যার্থ হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ সভাপতি, ইউপি সদস্য ও স্থানীয় সালিশ ব্যক্তিত্বরা।

মামলার বাদী কামরান আহমদ বলেন,আমার দুই ভাই প্রবাসী, আমি দিনমজুর মানুষ,তাদের টাকা পয়সা আছে তাই তারা আমাদের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে,আপন ভাই হয়ে তারা এমন কাজ করবে ভাবতেও পারিনি,তাই বাধ্য হয়ে আদালতের দারস্থ হয়েছি। আমরা বাবার সম্পত্তির অংশ সমান ভাবে বন্টন চাই।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে, ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন,আমরা তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে কয়েক দফায় বৈঠক করেছি, কিন্তু এক পক্ষ সুযোগ দিলেও অন্য পক্ষ সুযোগ না দেয়ায় আমাদের পক্ষে সমধান করা সম্ভব হয়নি।

লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ সভাপতি নিজাম উদ্দিন জানান, আমি এবং আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ এলাকার সালিশ ব্যক্তিরা অনেক চেস্টা করেছি তাদের সমস্যা সমধান করার জন্য,মৃত নমির হোসেনের ২য় ছেলে মাহমুদ হোসেন ও কামরান আহমদ আমাদের সিদ্ধান্ত মানলেও নমির আলীর অন্য ছেলেরা আমাদের সিদ্ধান্ত না মানায় আমরা আর এগিয়ে যেতে পারিনি।

লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খলকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,আমরা সালিশে বসে বিষয়টির মীমাংসা করতে চেয়েছিলাম,তবে একটি পক্ষ আমাদের সুযোগ না দেয়ায় আমরা বিরোধ মীমাংসা করতে পারিনি।

সাবেক ইউপি সদস্য ছালিক আহমদ বলেন, তাদের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব,এক বাবার সন্তান সব,তাদের বড় ভাই আলী হোসেন যদি আমাদের সহযোগিতা করতেন তাহলে এ বিষয় নিয়ে আইন আদালতে যাওয়ার কোন প্রয়োজন হতো না।

শেয়ার করুন