৩ অক্টোবর ২০২২
কাউসার চৌধুরী (অতিথি প্রতিবেদক) : স্বাস্থ্য বিভাগের চাকুরি। শুরুতে বেতন পেতেন ১২শ’ টাকা। বর্তমানে সর্বসাকুল্যে বেতন প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এই ব্যক্তি স্ত্রীর সেবা-যত্নে ও শ্রদ্ধা ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদ দান করেছেন। স্ত্রীকে দান করার পরেও তিনি আরও প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। স্ত্রীর নামেও বর্তমানে অন্তত সাড়ে ৩ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। সম্পদশালী এই দম্পতি হচ্ছেন-সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের বহুল আলোচিত মো. ইকবাল হোসেন ও তার স্ত্রী রেহেনা বেগম। অনুসন্ধানে তাদের এই সম্পদের তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
ইকবাল নিজেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ প্রায় ৪ কোটি টাকার সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছেন। তার দেয়া সম্পদের বিবরণীটি বর্তমানে দুদক তদন্ত করছে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে থাকাবস্থায় সম্পদের এই পাহাড় গড়ে তুলেন ইকবাল দম্পতি। বর্তমানে দোয়ারাবাজার উপজেলা হাসপাতালে তিনি কর্মরত। স্ত্রী রেহেনা বেগম বছরের পর বছর ধরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডেপুটেশনে (প্রেষণে) আছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন চাকুরি করে সম্পদে স্বাস্থ্যবান হয়ে গেছেন বহুল আলোচিত মো. ইকবাল হোসেন। মাত্র ১২শ’ টাকা বেতনে চাকুরি শুরু করা ইকবাল নিজে প্রায় ৬ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের একেবারে সামনেই নিজের সন্তান রাফির নামে গড়ে তুলেছেন আল-রাফি নামের বহুতল মার্কেট। ১০ শতক জায়গার ওপর নির্মিত ওই মার্কেটের জমিসহ বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ওই মার্কেটটি আনোয়ারা-মুজাহিদ নার্সিং ইনস্টিটিউট নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও, হাসননগর সুরভী আবাসিক এলাকায় পৈত্রিক বসতবাড়িতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন সুরম্য দ্বিতল বাসভবন। এটির অভ্যন্তর সাজানো হয়েছে দামী দামী ফার্ণিচার দিয়ে। যে ভিটায় ইকবাল সুরম্য বাসভবন নির্মাণ করেছেন- একসময় ওই ভিটায় টিনের তৈরি বসতঘর ছিল। নতুন হাসননগর এলাকায় প্রায় ৬ শতক জায়গার ওপর নির্মাণ করেছেন কমিউনিটি সেন্টার। জায়গাসহ দ্বিতল বিশিষ্ট ওই কমিউনিটি সেন্টারের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা।
শহরতলীর হাসনবাহার এলাকায় ১৫ কেয়ার (৪২০ শতক) জমিতে গড়ে তুলেছেন পৃথক দুটি মৎস্য খামার। খামারের জমির মূল্য ৬০ লাখ টাকারও বেশি। হাসননগর এলাকায় রয়েছে ১০ শতকের একটি প্লট। প্লটটিতে এখনো কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়নি। এর বাজার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। বুড়িস্থল চামারবাড়ি এলাকায় ১৫ শতকের আরেকটি প্লট রয়েছে। এর বাজার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। শহরের কালিবাড়ি এলাকায় রয়েছে দুটো দোকান ঘর। যার দাম ১০ লাখ টাকা।
এছাড়াও সুনামগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত সুলতানপুর মৌজায় নিজ নামে ২২ শতক বোরো জমি ও ৩২ শতক বাড়ি, মোহনমোকন্দ মৌজায় ১ দশমিক ৮৮ শতক বোরো জমি ও ১৫ দশমিক ৮৪ শতক বাড়ি এবং রসুলপুর মৌজায় ৭ দশমিক ৫০ শতক আমন জমিও রয়েছে। সব মিলিয়ে ইকবাল নিজে ৫ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের মালিক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও ইকবালের নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকতে পারে বলে সূত্রের দাবি। ইকবাল নিজে ৬ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেও দুদক থেকে রেহাই পেতে স্ত্রীর নামে প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন।
স্ত্রী রেহেনার সেবা-যত্নে সন্তুষ্ট
ইকবাল হোসেন তার স্ত্রী রেহেনা বেগমের সেবা যত্ন ও শ্রদ্ধা ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদ দুটি হেবা দলিল মূলে স্ত্রী রেহেনা বেগমের নামে লিখে দিয়েছেন। ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিসের ৫০৭৪/২০১৬ নম্বর দলিলে সুলতানপুর মৌজায় ২২ শতক বোরো জমি ও ৩২ শতক বাড়ি ও মোহনমোকন্দ মৌজায় ১ দশমিক ৩৪ শতক বোরো জমি স্ত্রীর নামে লিখে দেন। দলিলে এই ১ দশমিক ৮৮ শতক জমির মূল্য ২ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপরের বছর ২০১৭ সালে একই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২৭৬/২০১৭ নম্বর দলিলে মোহনমোকন্দ মৌজায় ১৫ দশমিক ৮৪ শতক বাড়ি ও রসুলপুর মৌজায় ৭ দশমিক ৫০ শতক আমন জমি লিখে দেন স্ত্রী রেহেনা বেগমের নামে। এই দলিলে উল্লেখিত জমির মূল্য লেখা হয় ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পৃথক দলিলে স্ত্রী রেহেনা বেগমের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে মোট ২ দশমিক ১১ একর বা ২১১ শতক জমি লিখে দেন ইকবাল। দলিলে এই জমির মূল্য ২ কোটি ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা উল্লেখ করা হলেও এই জমির বর্তমান বাজার মূল্য ৩ কোটি টাকারও বেশি বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রেহেনার যত সম্পদ
রেহেনা বেগম বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সহকারী হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট যখন চাকুরী জীবন শুরু করেন ; তখন তার বেতন ছিল ৫ হাজার টাকারও কম। বর্তমানে ১৯ হাজার ৩১০ টাকা মূল বেতনসহ সর্বসাকুল্যে ২৭ হাজার টাকা বেতন পান। কেবল স্বামীর লিখে দেওয়া অঢেল সম্পদই নয় রেহেনার নিজ নামেও একাধিক বাড়ি-জমি রয়েছে। ২০১৭ সালের ৯ মার্চ রেহেনা নিজ নামে ৮০ শতক বাড়ির জমি কেনেন। বাড়ির জমির মূল্য ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে এই ৮০ শতক বাড়ির মূল্য ৩০ লাখ টাকারও বেশি।
এর আগে ওই বছরের ৪ জানুয়ারি সুলতানপুরে ৫৭ শতক জমি কিনেন রেহেনা। যার মূল্য উল্লেখ করা হয়, ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা। বাস্তবে এই জমির মূল্যও ১৫ লাখ টাকারও বেশি বলে জানা গেছে। এছাড়াও, নিজের স্বজনদের জায়গা-জমিও নিজের দখলে নিয়ে গেছেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার পোস্টিং থাকলেও ডেপুটেশনে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে (বর্তমানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল) চলে আসেন। বছরের পর বছর ধরে এই হাসপাতালেই আছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিজের নামে কেনা বাড়ি-জমি ও স্বামীর লিখে দেওয়া সম্পদসহ রেহেনা বেগম বর্তমানে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। রেহেনা বেগম ২০৩৪ সালের ৬ জুলাই স্বাভাবিকভাবে অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ ব্যাপারে রেহেনার সাথে সেলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইকবালের উত্থান
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী হওয়ার সুবাদে ইকবালের প্রভাব-প্রতিপত্তির শেষ ছিল না। হাসপাতালের সকল কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতেন তিনি। নার্সদের বদলি ও ছুটি মঞ্জুরে তাকে টাকা দিতে হতো। মেডিকেল সার্টিফিকেট, পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট, ভিকটিম সার্টিফিকেটেও টাকা নিতেন ইকবাল। ধীরে ধীরে হাসপাতাল ও হাসপাতালের বাইরেও প্রভাব বিস্তার করেন। পছন্দের লোক দিয়ে হাসপাতালের ঔষধ কেনানো হতো। এর নেপথ্যে ছিল-ইকবালের কমিশন বাণিজ্য। শ্যালককে সাথে নিয়ে হাসপাতালের পুরাতন মালামাল কম দামে বিক্রি করে দিতেন।
একবার সদর হাসপাতাল থেকে বদলি হলেও উচ্চ আদালতে রিট করে বহাল থাকেন। এক পর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তে তার দুর্নীতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে তাকে বদলি করা হয়। দিরাই, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি হয়ে কিছু দিন ছিলেন। পরে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলির আদেশ হলেও সেখানে আর যোগদান করেননি। এরপর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ প্রকল্পে যোগ দেন। এখান থেকে সর্বশেষ বদলি হয়ে যান দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বর্তমানে এই হাসপাতালেই আছেন বহুল আলোচিত ইকবাল হোসেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০৩১ সালের ২৮ অক্টোবর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ পৌরসভার হাসননগরের সুলতানপুর গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন ইকবাল হোসেন। তার পিতার নাম মো. ইসকন্দর আলী। পিতা ছিলেন আইনজীবী সহকারী বা মুহুরী। একটি টিনসেড ঘর আর সামান্য ফসলি জমি ছিল তাদের একমাত্র সম্বল। ১৯৯১ সালের ২৮ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে যোগদানের পর ইকবালের ভাগ্যে পরিবর্তন আসে। ধীরে ধীরে পাল্টে যায় চিরচেনা সেই দৃশ্যপট। অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তুলেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। ইকবাল কোন যাদুর কাঠির বদৌলতে এত সম্পত্তির মালিক হলেন-তা নিয়ে সুনামগঞ্জের নানা মহলে আলোচনার শেষ নেই।
দুদকে ৪ কোটি টাকার সম্পদের বিবরণ
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বছর দুয়েক আগে ইকবাল হোসেন ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। এরপর দুদক এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়। দুদক সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন সর্বশেষ গত বছরের শুরুর দিকে সম্পদের বিবরণী চেয়ে ইকবালকে নোটিশ দেন। ওই নোটিশের প্রেক্ষিতে ইকবাল নিজের সম্পদের তথ্যসহ সম্পদ বিবরণী জমা দেন বলে দুদকের এক কর্মকর্তা সিলেটের ডাককে নিশ্চিত করেন। এতে প্রায় ৪ কোটি টাকার সম্পদের বিবরণী দুদকে দাখিল করেন তিনি।
স্ত্রীর নামে লিখে দেওয়া সম্পদ, বহুতল ভবনসহ সম্পদের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, তিনি কিভাবে এই সম্পদের মালিক হয়েছেন তা উল্লেখ করেননি। ইকবালের দাখিল করা সম্পদের বিবরণীর অনুসন্ধান চলছে। ইকবাল চাকুরিকালে এ পর্যন্ত মোট কত টাকা বেতন-বোনাস পেয়েছেন, মাসে কত টাকা সাংসারিক ব্যয় হয়ে থাকে, সাংসারিক ব্যয় বাদে কত টাকা আয় হয়-এর বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছে দুদক।
দুদকের এক কর্মকর্তা গতকাল রোববার বিকেলে জানিয়েছেন, ইকবালের সম্পদ বিবরণীর তদন্ত মাঝামাঝি পর্যায়ে চলে এসেছে। আগামী ডিসেম্বরে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যাবে। তদন্ত শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে দুদক। এ বিষয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার দাবী
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, কি এমন যাদুর কাটি ছিল তার হাতে যে মাত্র ১২শ’ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করা ব্যক্তি আজ এত সম্পত্তির মালিক। বিষয়টি অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে। স্ত্রীর সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে বিপুল পরিমাণের সম্পত্তি দান করেছেন। কত বড় দানশীল তিনি তা সহজেই বোঝা যায়। দুর্নীতি করে সম্পদের মালিক হয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি; আবার দুর্নীতির মাধ্যমে স্ত্রীর নামে সম্পত্তিও দান করেছেন। কারণ হেবা দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি দান করায় সরকারের রেজিস্ট্রেশন ফিসও মেরে দিয়েছেন। এতে অনুধাবন করা যায়, কত বড় চতুর। তার এই দুর্নীতির তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে তাকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। যাতে আইনের মারপ্যাচে আবার বেরিয়ে না যায় দুদককে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তিনি এরকম দুর্নীতির সাথে জড়িতদের তদন্তের ব্যাপারে সার্বক্ষণিক নজরদারী করতে দুদকের শীর্ষ পর্যায়সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দৃষ্টি কামনা করেন।
যা বললেন ইকবাল হোসেন
দুদক কোনো নোটিশ দিয়েছিল কিনা ও নোটিশের জবাবে সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দুদক কোনো নোটিশ দেয়নি, দুদকে সম্পদের কোনো বিবরণীও জমা দেইনি। না, এরকম কিছু না, এগুলো শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রীর নামে দুটো দলিলে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা মূল্যের সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্ন শেষ করার আগেই তিনি সংযোগ কেটে দেন। এরপর বার বার কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।