২৭ জুলাই ২০২০
বালাগঞ্জ সংবাদদাতা : অনিয়ম আর সমালোচনা কিছুতেই যেন পিছু ছাড়ছেনা বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। একের পর এক অনিয়ম আর দর্নীতি করার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এটি নিয়ে আজকের সিলেটে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্টরা যেন রয়েছেন স্বাক্ষীগোপালের ভূমিকায়। এনিয়ে উপজেলার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত গত ২৫জুন ‘বালাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভূয়া খাবার বিল, টাকার ভাগ নিচ্ছেন ডাক্তার-স্টাফরা’ এর পর গত ৩ জুলাই ‘রোগীদের ভাতের বদলে চিড়া দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ’ ,১৮ জুলাই ‘অফিস টাইমেও প্রাইভেট চেম্বার করেন বালাগঞ্জ হাসপাতালের আরএমও’, ১৯ জুলাই ‘বালাগঞ্জ হাসপাতালে কোন সিন্ডিকেট থাকবেনা : সিভিল সার্জন’ এবং সর্বশেষ ২১ জুলাই ‘মৃত্যুর ৫ সপ্তাহ পার, কবে আসবে সাংবাদিক লিটনের করোনা রিপোর্ট?’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পর পুরো উপজেলাজুড়ে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা।
এরই মধ্যে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারের পরিবর্তে রোগীদের সেলাই করে দেন ওয়ার্ড বয়। রোগী আসলে ডাক্তারদের সেবা দিতে অনিহা থেকেই এমনটি করা হয়।
আজকের সিলেটের হাতে আসা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, গত ১ জুলাই দুপুরে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আসেন বালাগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের শাহজাহানপুর গ্রামের সালেহ আহমদের ছেলে জুবায়ের হাসান। তাঁর পায়ের জখমের স্থানে সেলাই দিচ্ছেন ওয়ার্ড বয়।
এছাড়াও গত ১০ জুলাই পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাজনগরের এক যুবেকের ও ১৮ জুলাই বালাগঞ্জ সদরের পূর্ব খেয়াঘাটে বাকবিতণ্ডার জেরে গুরতরভাবে আহত হয়ে মাথায় শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম নিয়ে এমরাজুল ইসলাম, মুজাহিদ আলী, হাসপাতালে গেলে তখনও সেলাই দিতে দেখা যায় ওয়ার্ডবয়দের।
শুধু জুবায়ের এমরাজুল ইসলাম, মুজাহিদ কিংবা আলীদের ক্ষেত্রে নয়, এই হাসপাতালে আসা এমন প্রায় সবার ক্ষত স্থানে সেলাই দেওয়ার কাজটি করে থাকেন ওই ওয়ার্ডবয়রা।
বিষয়টি নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয়রা স্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালে এটাই রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুত্রে জানা যায়, ১ জুলাই জরুরী বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস। সহকারী হিসাবে ছিলেন, অমিতা বয় রায়। ওয়ার্ড বয়ের দায়িত্বে ছিলেন দেবাসীস দাস দিপ।
সেলাইয়ের কাজ করা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ওয়ার্ডবয়দের এক কাজ করা কি আপনাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বা এর নিয়ম আছে কিনা? এ প্রসঙ্গে তারা বলেন, আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ মেনেই করতে হচ্ছে।
জানতে চাইলে ঐদিন কর্তব্যরত চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সেদিন আমি ‘জরুরী বিভাগের ক্ষত রোগীকে দেখে ব্রাদার অমিতাবয়কে সেলাই করতে বলে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ব্রাদার বা স্বাস্থ্য সহকারীর উপস্থিতিতে ওয়ার্ডবয়ের সেলাইয়ের কোন নিয়ম আছে কি না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেলাইয়ের কাজটা শুধু বালাগঞ্জের ক্ষেত্রেই নয় সারা বাংলাদেশেই ওয়ার্ডবয়রা করে থাকেন।
হাসপাতালে ওয়ার্ডবয় সেলাই দিচ্ছেন বিষয়টি স্বীকার করে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এইচএম শাহরিয়ার বলেন, ওই সময় ওয়ার্ডের কর্মরত ডাক্তার অন্তঃ বিভাগে এক রোগীকে ছাড়পত্র দিতে যান। তাই ওয়ার্ডবয় সেলাই দেয়।
ওয়ার্ডবয় সেলাই দেওয়ার কোন নিয়ম বা বিধি রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনবলের কমতি রয়েছে, সেবা তো বন্ধ রাখতে পারি না। তাই তাদের দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।