১১ সেপ্টেম্বর ২০২২
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাট উপজেলার মধ্য জাফলং ইউনিয়নে মরণ ব্যাধি ক্যান্সার ও জীবন ও জীবিকার সন্ধিক্ষণে হাবুডুবু খাচ্ছে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি অসহায় পরিবার। পরিবারের ৯ সদস্যদের মাঝে উপার্জনক্ষম ৪ জনই মরণ ব্যাধি ক্যান্সার, কিডনি বিকলসহ বিভিন্ন জঠিল রোগে আক্রান্ত। পরিবারের হাল ধরার মতো নেই কোন পুরুষ। একদিকে মরণব্যাধি ক্যানসারের আতঙ্ক আর অন্যদিকে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহের দুঃশ্চিন্তা লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে পরিবারের সবাইকে।
দারিদ্রতা আর রোগের জটিলতার মহা আতংঙ্কে বিপাকে পড়েছে পরিবারের মানুষগুলো। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তারা এখন জীবন ও জীবিকার সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
উপজেলার বর্তমান মধ্যে জাফলং ইউনিয়নের ভিত্রিখেল গ্রামের খলিলুর রহমান (৭০)ব্রেইন স্টোক করে প্যারালাইসিস হয়ে গত আট বছর ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী। বিছানায় চলছে পেশাব পায়খানা। তার বড় ছেলে আতাউর রহমান (৪৫) তিনিও ব্রেইন স্টোক করে গত পাঁচ বছর ধরে ঘরে বসে আছেন। মেয়ে মাহফুজা আক্তার (২২) গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজে অনার্স থার্ড ইয়ারে লেখাপড়া করছেন। তিনি ও গত দুই বছর যাবৎ মাইগ্রেন সমস্যায় ভুগছেন। এদিকে দ্বিতীয় ছেলে সাইফুর রহমান রিপন (২৫) বিগত ছয় মাস পূর্বে তার দুটি কিডনি বিকল ধরা পড়ে। তিন মেয়ে বিয়ে হয়ে তাদের স্বামীর বাড়িতে আছেন।
বর্তমান তাঁদের জীবিকার চাকা ঘুরাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার। অসুখের যন্ত্রনা আর নামমাত্র চিকিৎসার দোলাচলে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসাও নিতে পারছেন না তারা। ইতোমধ্যে সংসারের হাল ধরেছেন পঞ্চম মেয়ে মেরিনা (২৮)।
যিনি গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রী পাস করে সিলেট এম সি কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে নামমাত্র একটি এনজিও তে চাকরি করছেন। যার হাতে মেহেদী পরনের লাল শাড়ীতে স্বামীর সংসারে আরাম-আয়েশে দিনযাপন করার কথা। তিনি এখন ৯ সদস্যের অসহায় পরিবারের শেষ সম্বল প্রধান কর্তা। সংসারের টানাটানি চিকিৎসা খরচ সব মিলিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। ঘরের বাসিন্দাদের জীবনে ধীরে-ধীরে কেবল অন্ধকার ঘিরে ধরছে।
মেরিনা বলেন, এমনিতেই অভাব অনটনের কারণে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে একটি পরিবারের চার জন মানুষের মরণব্যাধী চিকিৎসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা যোগাড় করা আমার মতো দরিদ্র পরিবারের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব নয়। তাদের অপারেশন ও চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে গিয়ে যেখানে হিমশিম খেতে হয় সেখানে বিপুল পরিমাণ এ অর্থ যোগাড় করা অনেক কঠিন। আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে ও এমন কোন বিত্তবান নেই যাদেরকে সহযোগিতার কথা বলব।
বাবা ভাইয়ের জীবন বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা হিসাবে ব্রাক ব্যাংকে ছোট্ট একটা চাকরি করে যতটুকু পারা যায় সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন নিরুপায় হয়ে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা চাই। যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তিবর্গের দয়া হয় তাহলে এই নাম্বারে “01762459097” যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানতে পারেন এবং সহায়তার হাত প্রসারিত করতে পারেন।নাম্বার টি বিকাশ করা আছে। দয়া করে সামর্থবান হৃদয়শীল ব্যক্তিরা সাড়া দিবেন তার প্রত্যাশা।
এ জন্য বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সমাজের বিত্তবানদের নিকট আর্থিক সহযোগিতার জন্য মানবিক আবেদন জানান শয্যশায়ী মরণব্যাধী রোগে আক্রান্তরাও।