১৯ জুলাই ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিগত কয়েক দিন থেকে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্ণিতি নিয়ে আজকের সিলেটে বেশ কয়েকটি নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। গত ২৫জুন ‘বালাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভূয়া খাবার বিল, টাকার ভাগ নিচ্ছেন ডাক্তার-স্টাফরা’ এর পর গত ৩ জুলাই ‘রোগীদের ভাতের বদলে চিড়া দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ’ আর সর্বশেষ গত ১৮ জুলাই ‘অফিস টাইমেও প্রাইভেট চেম্বার করেন বালাগঞ্জ হাসপাতালের আরএমও’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পর পুরো উপজেলাজুড়ে চলছে তুমুল সমালোচনা।
গত ২৫ জুন সংবাদ প্রকাশের পর ৩০ জুন এটি তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা। আজ পর্যন্ত কি তদন্ত হয়েছে তা জানা যায় নি। এটি নিয়ে টিএইচও এবং তদন্ত কমিটির সভাপতির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি বোয়ালজুড় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সহকারী সার্জন ডা. শুভাশীষ কুমার ভৌমিক বলেছেন, তদন্তে সময় লাগবে এজন্য এক সপ্তাহ সময় বর্ধিত করা হয়েছিল, তদন্ত শেষ হলেই প্রতিবেদন দেয়া হবে। এর বাহিরে তিনি আর কিছু বলতে চান নি।
অন্যদিকে, টিএইচও ডা. এস.এম শাহরিয়ার বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। তবে এটি খুবই কনফিডেন্সিয়াল বিষয়। তাই এটি নিয়ে কথা বলা যাবেনা।
আর তদন্ত কমিটি নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে ভিন্ন খবর, ডা. শুভাশীষ কুমার ভৌমিকের কর্মস্থল বোয়ালজুড় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে থাকলেও গত তিন মাসেরও বেশী সময় ধরে তাকে কর্মস্থলে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, গত ১৪ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান আজকের সিলেট ডটকম-এর বালাগঞ্জ প্রতিনিধি লিটন দাস লিকন। মৃত্যুর আগের দিন ১৩ জুন করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা নেয়া হলেও আজ পর্যন্ত এর রিপোর্ট আসেনি। কিন্তু এর পর সংগ্রহ করা সকল নমুনার রিপোর্ট ইতিমধ্যে চলে এসেছে।
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়া মহামারীতে সুযোগ নিচ্ছে কিছু নামধারী চিকিৎসক। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকারের ঠিকে থাকার লড়াইয়ে দেশের সিংহভাগ চিকিৎসক যেখানে দিনরাত পরিশ্রম করছেন সেখানে গুটি কয়েক চিকিৎসকের জন্য তো এই অর্জন নষ্ট হতে পারেনা। সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগ বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিলে দিনরাত কাজ করছে।
সেখানে কি হচ্ছে এই বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? এসব বিষয় নিয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: প্রেমানন্দ মন্ডলের সাথে কথা বলেছে আজকের সিলেট।
সিভিল সার্জন বলেন, লিটন দাস লিকনের নমুনা ১৩ জুন পরীক্ষার জন্য নেয়ার পর আজও রিপোর্ট না আসা অবশ্যই দুঃখজনক। আমরা প্রতিদিনই শত শত মানুষের রিপোর্ট দিচ্ছি। এখানে আসলে কি হয়েছিল তা খতিয়ে দেখতে হবে। এবং খুবদ্রুতই আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
বালাগঞ্জ হাসপাতালে অনিয়মের একটি সিন্ডিকেট তৈরির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগকে সচল রাখতে আমাদের এত ত্যাগ ও পরিশ্রম কিছু মানুষের জন্য ব্যার্থ হতে পারেনা। এখানে কোন সিন্ডিকেট থাকবেনা, সব ভেঙ্গে দেব।