৩১ আগস্ট ২০২২


সিন্ডিকেট সামলানো ‘কঠিন’

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : মাঝে মাঝেই বাজারে পণ্য সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এই বাজার সিন্ডিকেট এতই শক্তিশালী যে সরকারি দপ্তরগুলোর নানা হস্তক্ষেপেও এদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বয়ং খাদ্যমন্ত্রীর কথায়ও সিন্ডিকেটের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

গত মার্চ-এপ্রিলে বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর তাদের লাগাম টানা আরও বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর প্রমাণ মিলেছে ডিম সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডে। হালিপ্রতি ডিম হয়ে গিয়েছিল ৬০ টাকা। ভোক্তা অধিকারের অভিযানসহ নানামুখী সমালোচনার মুখে এই সিন্ডিকেট শেষ পর্যন্ত ডিমের দাম কমাতে বাধ্য হয়। বর্তমানে সেই ডিম ৪০-৪৫ টাকার মধ্যে। সুবিধা অনুযায়ী এখনো তারা হালিপ্রতি ৪-৫ টাকা বেশি আদায় করছে গ্রাহকের কাছ থেকে।

একই ঘটনা ঘটেছে চাল নিয়েও। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে চালের দাম কেজিতে ক্ষেত্রবিশেষে ৫-৬ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই দাম এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ঢাকা টাইমসকে বলেন, `সিন্ডিকেট নিয়ে আমরাও কথা বলছি। আপনারাও বলেন। মিল মালিকরা সম্প্রতি বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা দাম কমালেও খুচরা বাজারে এদের দৌরাত্ম্য এখনো কমেনি।’

মন্ত্রী এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারের অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, `আমরাও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব।’

শুধু চাল বা ডিম নিয়েই যে সিন্ডিকেটের কারসাজি তা নয়। ভোজ্যতেল নিয়ে এদের দৌরাত্ম্য ভয়াবহ রকমের। বড় বড় কয়েকটি কোম্পানি তেল মজুদ করে দাম বাড়িয়ে দেয়। মন্ত্রীরাও অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়েন এদের কাছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান জানান, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হয়ে থাকে মাঝে মাঝে। এ সময়গুলোতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান বিশেষ ভূমিকা রাখে দাম নিয়ন্ত্রণে। অভিযান পর্যাপ্ত পরিমাণেই হয়ে থাকে, তবে আরও বেশি অভিযান হলে হয়তো অন্য সংকট দেখা দিতে পারে।

মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং জোরদার করা উচিত কি না এবং সমন্বিত তদারকি কীভাবে সম্ভব- এমন প্রশ্নে ক্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ক্যাব থেকে আমরা বারবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলে আসছি ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ জোরদার করার জন্য। একই সঙ্গে আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি সেলের অধীনে কনজ্যুমার ডিভিশন ও বিজনেস ডিভিশন নামে দুটি ডিভিশন করার প্রস্তাব দিয়েছি। সেটি বাস্তবায়ন হলে বারবার এমন সংকট সৃষ্টি হতো না।’

এদিকে চাল, ডাল, আটা, ময়দা, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নয়টি পণ্যের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেউ বেশি নিলে তার বিরুদ্ধে শুধু জরিমানা নয়, সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান রেখে মামলা করা হবে বলে গতকাল হুঁশিয়ারি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ১৫ দিনের মধ্যে ট্যারিফ কমিশন এসব পণ্যের যৌক্তিক মূল্য বের করবে বলেও জানান মন্ত্রী।

শেয়ার করুন