৩ জানুয়ারি ২০১৮
শাবি প্রতিনিধি
ফাও খাওয়া, চুরি, চাঁদাবাজি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ এনে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপর অনাস্থা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্মীদের একাংশ।
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে শাখা ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ফেরাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রতি দাবি জানান এসব কর্মীরা।
‘শাখা ছাত্রলীগের কর্মীবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্রলীগের উপমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক লক্ষ্মন চন্দ্র বর্মণ।
লিখত বক্তব্যে তিনি শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিনের প্রতি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা অত্যন্ত লজ্জিত হই যখন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির নামে ফাও খাওয়া, চুরি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ও নিয়োগ বাণিজ্যের কথা শুনি। টঙের মামারা ছাত্রলীগের নামে কটূক্তি করেন শুধুমাত্র এমন ফাওখোরদের জন্য।”
আর সাধারণ সম্পাদক ইমরান খানের প্রতি অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্স সম্পন্ন না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের ছাত্রত্ব বাতিল করেছে। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রই না, তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন কীভাবে।”
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, এমতাবস্থায় আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শাবি শাখায় চোর, ছিনতাইকারী ও টেন্ডারবাজদের নেতৃত্বে কমিটির অধীনে আর কোন ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করব না। আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে এর প্রতিকার চাই।
শাখা ছাত্রলীগের এ দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এসব কর্মীরা বলেন, প্রয়োজনে আলাদা ব্যানরে কর্মসূচি পালন করবো। তারপর এই কমিটির সাথে কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করব না।
তবে এসব কর্মীদের অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, আমাকে ও আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শাবি শাখাকে বিতর্কিত ও হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য কতিপয় পথভ্রষ্ট কর্মী অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, যারা বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত।
“ শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সাইদ আকন্দ ও সাজিদুল ইসলাম সবুজের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে এরা এমন কাজ করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অচিরেই এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।”
শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সাইদ আকন্দ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজ দুজনেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মধ্যে অত্যন্ত ৮টি গ্রুপ থাকলেও বর্তমানে কমিটির পক্ষে ‘রুহুল-ইমরান’ ও কমিটির বিপক্ষে ‘সাইদ-সবুজ’ নামে দুটি গ্রুপ বিবদমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান বলেন, “শারিরীক অসুস্থতারর কারণে আমি কোর্স সম্পূর্ণ করতে পারিনি, বিশ্ববিদ্যালয় কেন আমার শারিরীক অসুস্থতারর বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমাকে পূন:ভর্তির সুযোগ দিবেন না এই মর্মে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন, বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন সে ক্ষেত্রে কারোরই এ ব্যাপারে মন্তব্য করা সমীচিন নয়।”
রুহুল আমিনের করা অভিযোগ অস্বীকার করে আবু সাইদ অকন্দ বলেন, “সংগঠনের যেকোন পদ প্রতিটি নেতার কাছে আমানত স্বরূপ। সংগঠনের স্বার্থে প্রতিটি ব্যক্তিরই পদের ওজন রেখে চলা উচিত। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ এসব বিতর্কিত ব্যক্তির উচিত নিজ থেকে পদত্যাগ করে সংগঠনকে কলংকমুক্ত করা।”
আর সাজিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে ছাত্রলীগ কর্মীরা এ দুই নেতার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে, তার কোনটির মিথ্যা নয়। এদের উচিত পদত্যাগ করা। ”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রলীগের সদস্য কাজী তৌফিকুর রহমান, সোয়েব আহমদ, বাছির মিয়া, ছাত্রলীগ কর্মী নজরুল ইসলাম, আবু রায়হান শাওন, শাফায়াত উল্লাহ রাফি, এস এম সোহেল মেহেদী, নাইম ইসলাম, রাশেদ রহমান, শাহরিয়ার হোসাইন প্রমুখ।
২০১৩ সালের ৮ মে সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থকে সভাপতি করে ও ইমরান খানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১ বছরের জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দিয়েছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটি।
কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণের দুইবছর পর ২০১৬ সালের ৮মে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ওই কমিটিতে ছাত্রলীগের ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের অনেককেই স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগের একাংশের।
শুরু থেকেই গ্রুপিং রাজনীতির কারণে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে সাংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হতে থাকে ছাত্রলীগ।
এর মধ্যে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা বহিরাগত এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় গত বছরের ১২ এপ্রিল শাখা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি।
এর তিনমাস পর সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থসহ তিন কর্মীকে বহিষ্কার করে সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিয়ে কমিটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণের দুই বছর গত ১০ অক্টোবর শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে শেষ পর্যন্ত কর্মীসভা করে দায় সারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
শিগগির নতুন কমিটি আসবে ওইসময কেন্দ্রীয় নেতারা আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কমিটি না আসায় হতাশ পদ প্রত্যাশী শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা।
(আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/৩ জানুয়ারি/এইচআই/ঘ.)