২ জানুয়ারি ২০১৮


বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের মামলা চলতে ‘বাধা নেই’

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলের ১৫ কর্মকর্তা ও ৪৬ ঠিকাদারসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগে আটকে গেছে।

ফলে নিম্ন আদালতে এ মামলা চলতে এখন আর কোনো বাধা নেই বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আসামিদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, আবদুল বাসেত মজুমদার, আবদুল মতিন খসরু ও এ এম আমিন উদ্দিন।

পরে খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এক আবেদনের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট মামলাটির কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছিল। হাই কোর্টের ওই আদেশর বিরুদ্ধে আবেদন করেছিল দুদক। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে দিয়ে এ বিষয়ে জারি করা রুলের নিষ্পত্তি করতে বলেছে।

“বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ রুলের নিষ্পত্তি করতে বলেছে আদালত। ফলে এ মামলার কার্যক্রম চলতে কোনো বাধা নেই।”

গত বছর পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে হাওরে বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ফসলহানী ঘটে। তখন সুনামগঞ্জসহ হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি ওঠে।

দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি, অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ এনে গতবছর ২ জুলাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঠিকাদারসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।

পরে ঠিকাদার বাচ্চু মিয়া মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। সেইসঙ্গে কেন এই মামলা বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

দুদকের এই মামলায় পাউবোর ১৫ জন ছাড়াও সুনামগঞ্জের ১৩ জন, ঢাকার ৯ জন, সিলেটের ৬ জন, কুমিল্লার ৩ জন, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও সাতক্ষীরার ২ জন করে এবং টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, পটুয়াখালি, খুলনা ময়মনসিংহ, হবিগঞ্জ, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার একজন করে ঠিকাদারকে আসামি করা হয়েছে।

(আজকের সিলেট/২ জানুয়ারি/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন