১৯ জুলাই ২০২২
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : প্রচণ্ড খরায় চা বাগানে ছড়িয়ে পড়েছে রেড স্পাইডারের সংক্রমণ। ভাইরাসজনিত এ রোগে চা গাছের পাতা লাল হয়ে যায়। আক্রান্ত এলাকা থেকে চা পাতা উত্তোলন বন্ধ থাকে। এতে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চা বাগান সংশ্লিষ্টরা।
চা বাগান সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের প্রায় বাগানেই এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করছে। কিন্তু অব্যাহত দাবদাহে রেড স্পাইডারের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
চলতি বছরে চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও প্রচণ্ড খরা বয়ে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সীমিত পর্যায়ে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, সবুজ চা পাতা লাল বর্ণ ধারণ করেছে।
কথা হলে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মাথিউরা চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. সিরাজুদ্দৌলা বলেন, প্রচণ্ড খরায় রেড স্পাইডারের সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কীটনাশক স্পে করছি। আবহাওয়ার পরিবর্তন না আসলে এ ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসবে না। প্রচণ্ড খরায় ব্যাপক হারে রেড স্পাইডারের বংশবৃদ্ধি হচ্ছে।
রাজনগরের ইটা চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক আদিল আহমেদ বলেন, চা উৎপাদনের জন্য বছরের শুরুটা ভালোই ছিল। কিন্তু জুন মাসের শুরুতে অতিবৃষ্টিতে চা উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে আসে। আবার জুলাই মাসে প্রচণ্ড খরা দেখা দেয়। আবহাওয়ার দু’ধরনের এই বিরূপ প্রভাবে চা উৎপাদনে প্রতিকূল অবস্থা বিরাজ করছে।
শ্রীমঙ্গল ভারাউড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক চা বিশেষজ্ঞ জি এম শিবলী বলেন, তীব্র রোদে চা গাছের কচি পাতা গজাচ্ছে না। যেটুকু কুঁড়ি গজাচ্ছে তা লাল মাকড়সা চুষে খেয়ে ফেলছে। এছাড়াও তীব্র খরায় চা গাছের সবুজ পাতা লাল বর্ণ ধারণ করেছে। লাল মাকড়সা ও হেলোফিলিটস রোগ প্রতিরোধে কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথমে দু’একটি বাগানে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এখন অনেক বাগানে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে চায়ের উৎপাদন ব্যাহত হবে।
মৌলভীবাজারের লংলাভ্যালীর চেয়ারম্যান রাজনগর চানভাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, লংলাভ্যালীর ২২টি বাগানের মধ্যে অর্ধেক বাগানেই রেড স্পাইডারের সংক্রমণ রয়েছে। যে সব বাগানে গরু ছাড়া হয় সেখানেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দেয়। গরুর মাধ্যমে রেড স্পাইডার দ্রুত ছড়ায়। রোগ দমনে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। রেড স্পাইডারে আক্রান্ত বাগানের সংখ্যা ও ক্ষতির পরিমাণের হিসাব মাঠ থেকে না আসলে আমরা সঠিক তথ্য দিতে পারব না।