৫ জুলাই ২০২২
অতিথি প্রতিবেদক : সিলেটজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত সিলেটে মাঝারী অনুপাতের টানা বৃষ্টিপাত হওয়া সত্ত্বেও সিলেটের নদ-নদীর পানি প্রায় সকল পয়েন্টেই কমেছে। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি অমলশীদ পয়েন্টে কিছুটা বেড়েছে। সোমবার সকাল থেকে সিলেটে ছিল কড়া রোদ। পানি যতই কমছে ততই দুর্ভোগ বাড়ছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে বন্যাদূর্গত এলাকাসমূহে ত্রাণ তৎপরতা কমে আসছে। বন্যায় ঘরবাড়ী হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোকে সরকারীভাবে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ১ম কিস্তিতে সিলেটে মাত্র ১০ হাজার মানুষ পাচ্ছেন এই অনুদান।
এদিকে সিলেট বিভাগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৬ লাখ ২২ হাজার ৯৮৬টি। সরকারী ও বেসরকারী সাহায্যের দিকে চেয়ে আশা নিরাশার দোলাচলে রয়েছেন বন্যাদূর্গত এলাকার মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় সিলেট বিভাগে ৬৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬৫ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৯৯ হাজার ৭৮৮ টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজারেরও বেশী ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাওরাঞ্চল খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলায়। বিভাগের ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষের মধ্যে এবারের বন্যায় পানিবন্দী ছিলেন অর্ধেকের বেশী মানুষ। যাদের অধিকাংশই কোননা কোনভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার। বিভাগের ৬ লাখ ২২ হাজার ৯৮৬টি পরিবারের অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজারের মতো মানুষ বন্যায় একেবারে নিঃস্ব হয়েছেন। এখন শুধু চাল, ডাল, লবণ, আটায় এদের ক্ষতি পোষানো সম্ভব নয়।
এদিকে, সিলেট ও সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ১০ কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা করে ১০ হাজার পরিবারকে সোমবার থেকে এই অর্থ বিতরণ শুরু হয়েছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি অমলশিদ পয়েন্টে বেড়েছে ১৮ সেন্টিমিটার। রোববার ৩টায় পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১৬.০৪ মিটার। যা সোমবার ৩টায় হয়েছে ১৬.২২ মিটার। একই সময়ে এই নদীর পানি শেওলা পয়েন্টে শূন্য ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ১৩. ১৭ মিটারে অবস্থান করছে। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি কিছুটা কমলেও তা এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শেরপুর পয়েন্টে পানি ৭.৯০ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, লোভা নদীর পানি লোভাছড়া পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার কমে ১৩.৪৩ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে ৩৬ সেন্টিমিটার কমে ১০.৩৯ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদের পানি ইসলামপুর পয়েন্টে কিছুটা কমে ৯.৬৭ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া সোমবার বিকেলে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে একদিনের ব্যবধানে কমে ১৩.১৭ থেকে ১৩.১০ মিটারে অবস্থান করছে। এই সময়ে সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে ১০.৫২ মিটার থেকে ১০.৪৯ মিটারে অবস্থান করছে। সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে ৮.৬৮ মিটার থেকে ৮.৫৫ মিটারে অবস্থান করছে। এই নদীর পানি সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ৭.৩৭ মিটার থেকে ৭.৩২ মিটারে অবস্থান করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগীয় অফিসের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস. এম শহিদুল ইসলাম বলেন, সিলেটের দুয়েকটি পয়েন্ট ছাড়া অধিকাংশ পয়েন্টে বন্যার পানি কমছে। তবে তা খুব ধীরগতিতে। রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাত হওয়া সত্তেও পানি কমা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, নগরীতে সুরমা নদীর পানি উপচে খাল ও ছড়া হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যে পানি প্রবেশ করেছিল, সেই এলাকাগুলোর মধ্যে অধিকাংশ এলাকা থেকে ইতোমধ্যে পানি নেমে গেছে। নগরীতে আর কোন বাসাবাড়ীতে এখন পানি নেই বলেই জানাগেছে। তবে নগরীর কয়েকটি মহল্লার সড়কে সোমবারও পানি ছিল। নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকার ডি ব্লকের ভেতরে এখনো পানি জমে আছে। এ ছাড়া উপশহরের সি ও এ ব্লকে এখনো পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। তেররতন এলাকায় পানি নেমে গেলেও কিছু বাসাবাড়ী এখনো স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় রয়েছে।