২ জানুয়ারি ২০১৮


সুরঞ্জিতকে হারানোর বছর

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাজনীতির এক বর্ণিল চরিত্র সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ২০১৭ সালে পৃথিবীকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি। দেশের প্রায় সব সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতা ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা যান ৫ ফেব্রুয়ারি।

মুক্তিযুদ্ধে ভাটি অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সব নজার কাড়েন।

তিনি সাতবার জাতীয় সংসদে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মৃত্যুর সময় ছিলেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

২০১১ সালে নবগঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিসভায় স্থান হয়। সহকারীর অর্থ কেলেঙ্কারির দায় মাথায় নিয়ে তিনি পদত্যাগ করলেও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসাবে রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত সুরঞ্জিত ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের নির্বাচনে ন্যাপ থেকে জয়ী হয়ে আলোচনার জন্ম দেন। একাত্তরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন ৫ নম্বর সেক্টরের সাব কমান্ডার হিসেবে। ১৯৭৯ সালের সংসদে ছিলেন একতা পার্টির প্রতিনিধি হয়ে। ১৯৯১ সালের সংসদে গণতন্ত্রী পার্টি থেকে নির্বাচিত হন তিনি।

তিনি ছিলেন নবম সংসদে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়ারম্যান। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

১৯৩৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আনোয়ারাপুরে জন্মেছিলেন এই রাজনীতিবিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর করে ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে আইনে ডিগ্রি নেন সুরঞ্জিত। পরে কিছুদিন আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন তিনি।

দ্বিজেন শর্মা : ‘নিসর্গসখা’ লেখক দ্বিজেন শর্মা ৮৮ বছর বয়সে মারা যান ১৫ সেপ্টেম্বর।

বাবা কবিরাজ ছিলেন বলে ছোটবেলা থেকেই লতা-পাতা, বৃক্ষ আর অরণ্য-প্রকৃতির সাথে সখ্য গড়ে ওঠে তার। উদ্ভিদ জগত, প্রকৃতি বিজ্ঞান আর বিজ্ঞান ভাবনা নিয়ে লিখে গেছেন দেড় ডজন বই।

উদ্ভিদ ও প্রকৃতি নিয়ে তার লেখা ‘শ্যামলী নিসর্গ’কে বিবেচনা করা হয় আকরগ্রন্থ হিসেবে।

তার অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাস’, ‘ফুলগুলি যেন কথা’, ‘গাছের কথা ফুলের কথা’, ‘এমি নামের দুরন্ত মেয়েটি’, ‘নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা’, ‘সমাজতন্ত্রে বসবাস’, ‘জীবনের শেষ নেই’, ‘বিজ্ঞান ও শিক্ষা: দায়বদ্ধতার নিরিখ’, ‘জীবনের শেষ নেই’, ‘ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি’, ‘বাংলার বৃক্ষ’, ‘বিগল যাত্রীর ভ্রমণকথা’, ‘গহন কোন বনের ধারে’।

 

(আজকের সিলেট/২ জানুয়ারি/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন