২৫ জুন ২০২২


সড়কের ধারে ‘মানুষ-পশুর’ একসঙ্গে বসবাস

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : বন্যা। বিপর্যয়। দুর্যোগ। মহাপ্রলয়। সবকিছুই শিখিয়ে দিয়ে যাচ্ছে এ দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। নিজের করা ঘরবাড়ীই নিজের নয়। এ দুনিয়াতে আমরা সবাই মুসাফির। আহ! কী করুণ অবস্থা আজ। যা না দেখলে বুঝার নয়। সুনামগঞ্জ জেলার সীমানা যেখান থেকে শুরু হয়েছে। সে সড়ক দিয়ে যাতায়াত যারা করেছেন, তাদের চোখে সেই করুণ দৃশ্য অবশ্যই পড়েছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার সীমানার শুরুতেই মূল সড়কের দু’ধারে শত শত মানুষ তাবু টানিয়ে সন্তানাদি নিয়ে কোনো রকম মাথা গুজার ঠাঁই করে নিয়েছেন।

তাদের পাশেই অন্য তাবুর নিচে গৃহপালিত গরু রেখেছেন। পানির ভয়ে, বন্যার ভয়ে। তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে।

এই সড়কের পাশেই টিনের চালের উপর চুলা বানিয়ে তারা কোনোরকম রান্না করে আহারের ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন। এদের পাশ ঘেষে যাচ্ছে প্রতিদিন শত শত ত্রাণবাহী গাড়ী। কাউকে থামতে দেখা যায় নি তাদের পাশে।

তাবু ছাড়াও লেগুনা, অটোরিকশার ভেতরেও অনেককে থাকতে দেখা গেছে। শুক্রবার সকালে এসব চিত্র চোখে পড়ে শ্যামল সিলেটের এই প্রতিবেদকের।

এদিকে জীবন বাজি রেখে ত্রাণ সংগ্রহ করছেন হাওরপারের বাসিন্দা। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে ছুড়ে দেওয়া ত্রাণের বস্তা নিয়ে গলা পানিতে এক রকম যুদ্ধ করছেন তারা।

ত্রাণ কার্যক্রম চালানো ব্যক্তি সংগঠনরা শনিরহাওর, দেখারহাওরের আশপাশের গ্রামগুলোতে ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন না বলে ওই অঞ্চলের মানুষের দাবী।

উল্লেখ্য যে, গত ১৮ জুন শনিবার থেকে সুনামগঞ্জ জেলার সবক’টি উপজেলা তলিয়ে যায় বন্যার পানিতে। বর্তমানে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মূল সড়কে পানি না থাকলেও এখন পর্যন্ত বাকি সবক’টি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

শেয়ার করুন