৩১ ডিসেম্বর ২০১৭
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি : বালাগঞ্জ আবারো ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে প্রমত্ত কুশিয়ারা নদীতে। শুক্রবার বিকাল তিনটার দিকে কায়েস্থঘাট এলাকার ৫টি পরিবার নদী ভাগনের শিকার হয়েছে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় চেয়ারম্যান হিমাংশু রঞ্জ দাস জানান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হলো রাজ কুমার দাস, শশাংক দাস,রানা দাস, ছানা দাস ও আছকির মিয়া তারা জানান খুবই আতংকে বসবাস করছেন।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পানির গতিপথ বন্ধ করার কারণে এ ভাঙণের কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে। উপজেলার ২০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রেস্তর মধ্যে রয়েছে। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন।
জানা যায়, গত ২৫ দিন ধরে সিলেটের বালাগঞ্জ অংশের কুশিয়ারা নদীতে ব্যাপকভাবে ভাঙন দেখা দেয়। এতে শতাধিক পরিবার ভাঙনের মূখে পড়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে। মানবেতর জীবন যাবন করছেন তারা। বালাগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা ও ৫ মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।
উপজেলাধীন কুশিয়ারা নদীর ১৫ কিলোমিটার অংশে একাধিক স্থানে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব বালু উত্তোন করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়রা জানান।
বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের খাইস্তঘাট মাঝমহল গ্রামের আলমগীর মিয়া, আহমদ আলী, ময়ুরুন্নেছা, তাজিবুন নেছাসহ ১৫টি পরিবারের বসতবিটা নদী গর্তে তলিয়ে গেছে। এতে তারা সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন।
ইতিমধ্যে বালাগঞ্জের প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ীর বৃহৎ অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে কয়েক শ’ লোক। আতংকে কাটছে তাদের রাত-দিন। বাড়ী-ঘর হারানোদের অনেকে তাবু বা কুড়ে বানিয়ে রাস্তার উপর হাড়কাঁপানো শীতে রাত কাটাচ্ছেন।
বালাগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী উপজেলা সদর থেকে পশ্চিম দিকে অবস্থিত রাধাকোনা গ্রাম। এই গ্রামের অধিকাংশ হত দরিদ্র ও দিন মজুর। চলতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে কুশিয়ারার উত্তর পাড়ে রাধাকোনা গ্রামের পূর্ব দিকে ভাঙ্গন দেখা দেয়।
গত এক সপ্তাহে এই ভাঙ্গন ভায়াবহ রুপ ধারন করেছে। এতে করে অর্ধশতাধিক পরিবারের বসত ভিটা ঘর বাড়ীসহ অধিকাংশ জায়গা ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে গেছে। রাক্ষুসী কুশিয়ারার ভাঙ্গনের শিকার গ্রামের হত দরিদ্র মানুষের আর্তনাত দিন দিন বেড়েই চলেছে। এভাবে প্রতিবছরই নদীর করাল গ্রাসে সর্বসান্ত হচ্ছে বালাগঞ্জে কুশিয়ারার পাড়ের মানুষ।
জানা যায়, বিগত বন্যায় কুশিয়ারা নদীর বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় দীর্ঘদিন পানিবন্দি ছিল পূর্ব ও লামা তাজপুর গ্রামবাসী। বর্ষার পানি নামতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই নদীর উত্তর পাড়ে অন্তত ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙ্গন।
নদীতে বিলীন হয়ে যায় লামা তাজপুর গামের সৈয়দ ফারক, মাওলানা তাজুল ইসলাম, নওশাদ মিয়া, সৈয়দ আগুর আলী, খিদুর মিয়া, নিজাম উদ্দিন, সৈয়দ লুৎফুর রহমান, পূর্ব গ্রাজপুর গ্রামের জুনেদ আহমদ, আবদুল মানিক, আছন উল্যাসহ অন্তত ১৫টি পরিবারের বসতভিটা। বর্তমানে ভাঙনের কবলে রয়েছে অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও একটি মসজিদ।
যে কোনো সময় এগুলো নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। নদীভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধির জন্য নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলনকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা। বিগত প্রায় ৪০ বছরের ভাঙ্গনের কবলে পড়ে তাজপুরের একেকটি পরিবার ৫-৬ বার করে ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রামটির অধিকাংশ এলাকা কুশিয়রা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদাাল মিয়া জানান, প্রতিবছরই নদীর করাল গ্রাসে সর্বসান্ত হচ্ছে বালাগঞ্জে কুশিয়ারার পাড়ের মানুষ। অবৈধভাবে কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বালাগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ টাকা ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পূর্বগৌরিপুরের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিমাংশুরঞ্জন দাস বলেন , শুক্রবার বিকাল তিনটার দিকে হঠাৎ করে এ ভাংগন দেখা দেয় ৫টি পরিবারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম দিকে একই ভাবে কায়েস্থ ঘাট, সাদেকপুর ও হাড়িয়ার গাও এলাকায় নদী ভাংগনের ফলে অর্ধশতাধিক পরিবারে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছ থেকে ৫ টন চাল ও নগদ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্ব পাওয়া গেছে । ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে বিতরন করা হয়েছে। নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম নদীভাঙ্গনের জন্য অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন সহ নদী খনন না হওয়ার কারন দায়ী করে বলেন, নদীভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।
(আজকের সিলেট/৩১ ডিসেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)