২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : পেঁয়াজ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। এখন বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের দেয়া চিঠি প্রত্যাহার করলে আগামী মঙ্গলবার থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হতে পারে। এ খবর শোনার পর ওপারের ব্যবসায়ীরা তাদের হিলি পোর্ট এলাকায় পেঁয়াজের মজুত বাড়াতে শুরু করেছেন। আর এ পারের ব্যবসায়ীরা তাদের কাছে থাকা পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে বিক্রি শুরু করেছেন।
শুক্রবার বন্দরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী সোমবার এ বিষয়ে ভারতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে ভারত পেঁয়াজ রফতানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে পারে। যদি প্রত্যাহার হয় তাহলে হিলি বন্দর দিয়ে দেশে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হবে। তবে ভারতের বাণিজ্য না কৃষি মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেবে তা নিয়ে একটু জটিলতা রয়েছে। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি বলে আমদানিকারকরা জানান।
সরবরাহ সংকট ও অভ্যন্তরীণ মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে পাঁচ মাস ধরে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ রেখেছে। এখন নতুন করে পেঁয়াজ ওঠায় এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ ও দাম কমে যাওয়ায় ভারতীয় পেঁয়াজ রফতানিকারকরা বাংলাদেশি আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ২৫ থেকে ৩০ টাকা হতে পারে।
অপরদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, শুধু ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেই পেঁয়াজ আমদানি শুরু হবে না। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারকেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্ভিদ সংগনিরোধ বিভাগকে একটি চিঠি দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি না করার জন্য অনুরোধ করেছে। কারণ বাংলাদেশেও এবার পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আর পেঁয়াজ আমদানি হলে কৃষকরা পেঁয়াজের দাম পাবে না । এতে কৃষকেরা পেঁয়াজ উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
ভারতীয় পেঁয়াজ রফতানিকারকদের একজন জানান, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে নতুন পেঁয়াজ ওঠায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। দামও কমে এসেছে। বর্তমানে ভারতের বাজারে প্রকার ভেদে ৫ টাকা, ৬ টাকা, ১০ টাকা ও ১১ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট দেখিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। এতে করে পেঁয়াজ নিয়ে চরম বিপাকে পড়ে সরকার । পরে বাধ্য হয়ে মিয়ানমার, মিসর, পাকিস্তান, তুরস্ক, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলা করে।