৩০ ডিসেম্বর ২০১৭
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার জেলা ইজতেমা মাঠের মূল প্যান্ডাল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় সাড়ে চার লাখ স্কয়ার ফিটের বিশাল এই চটের প্যান্ডালের কাজ শুরু করেছেন তাবলীগ জামাতের সাথীরা। আগামী বছরের ২৫ জানুয়ারী থেকে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে তিন দিনব্যাপী এই ইজতেমা শুরু হবে।
মাঠের জিম্মাদার ও জেলা তাবলীগ জামাতের শুরা সদস্য মোঃ ময়নুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গণপূর্ত বিভাগের নির্মাণাধীন প্রকল্পের আওতায় (উপশহর) প্রথমবারের মতো জেলায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এই ইজতেমায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে।
মাঠের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২ থেকে তিন হাজার খুঁটির উপর তৈরি হবে লক্ষাধিক মানুষের বসার উপযোগী বিশাল চটের প্যান্ডেল। প্যান্ডেল তৈরিতে খুঁটি বসানোসহ সার্বিক কাজে স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার বরুনা, শেখবাড়ী, সদর উপজেলার জামেয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসা, দারুল উলুম, রায়পুর ও আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থীসহ তাবলীগ জামাতের সাথীরা।
পাশাপাশি মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ফজলুর রহমাননের তত্ত্বাবধানে পৌরসভার নিজস্ব শ্রমিক ও যানবাহন দিয়ে মাঠ প্রস্তুত করা হচ্ছে। অপরদিকে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে তাবলীগ জামাতের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে তৈরি হচ্ছে ৬০০ স্যানিটারী লেট্রিন, ওজু ও গোসলের জন্য বিশাল পানির হাউজ। বিশুদ্ধ পানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ৮টি গভীর নলকূপ, এসব নলকূপ থেকে ৪টি ৪৮ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন প্লাস্টিকের অস্থায়ী পানির ট্যাংক স্থাপন করে তা সংযোগ হবে একহাজার ফুট দীর্ঘ পানির মূল হাউজের সাথে।
মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক পার্থ সারথী পাল কাননগো জানান- ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সহায়তা দিতে ইতোমধ্যেই জেলা সিভিল সার্জন চিকিৎসক সত্যকাম চক্রবর্তীকে আহবায়ক করে ও আমাকে সদস্য করে কমিটি করা হয়েছে, এই কমিটি মাঠের জিম্মাদারদের সাথে সমন্নয় করে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই মাঠের দক্ষিণ দিকে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করবে।
এদিকে ইজতেমা আয়োজনকে নির্বিগ্ন করতে পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তাবলীগ জামাতের সহায়তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে মনিটরিং করা হবে মাঠ ও মাঠের আশপাশের এলাকাকে।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি সোহেল আহম্মদ জানান, তাবলীগ জামাতের ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মাঠ এবং মাঠের বাহিরের এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হলে প্রয়োজন হবে প্রায় ২৫০টি সিসি ক্যামেরা এত সংখ্যক ক্যামেরা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে একা বসানো সম্ভব হবে না তাই আমরা তাবলীগ জামাতের মুরব্বীদের সাথে কথা বলেছি এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য।
(আজকের সিলেট/৩০ ডিসেম্বর/ডি/এমকে/ঘ.)