৩১ ডিসেম্বর ২০১৭
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার টাংনী, কালিয়াগুটা, চাপতি (একাংশ) হাওরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কমছে না হাওরের পানি। এতে করে বিপাকে পড়েছেন এক ফসলের উপর নির্ভর উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই পুরোদমে চলে বোরো ধান রোপণের মৌসুম কিন্তু চলতি বছর হাওরে পানি না কমায় ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে এসেও কৃষক জমিতে ধান রোপণ করতে পারছেন না।
জানুয়ারি মাসের প্রথম দিক থেকে শুরু হবে কিনা তা বলা যাচ্ছে না সহসাই। হাওরের পানি না কমার এ চিত্র দেখে হাওর পারের কৃষকরা বোরো ধান রোপণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। গেল বছর অসময়ে বন্যায় হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে ফসল হারিয়ে কৃষক অনেকটা সর্বশান্ত। চলতি বছর বোরো ধান রোপণ মৌসুমে হাওরে পানি না কমায় আবারো নতুন করে কৃষকদের মনে উৎকণ্ঠা দেখা দিচ্ছে। কষ্ট করে বীজতলা তৈরি করলেও জমি রোপণ করতে পারবে কিনা সেটাও ভাবনায় রয়েছে কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় উপজেলার টাংনী, কালিগুটা, বরাম ও চাপতি হাওরে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর বোরো ফসল চাষ করা হয়।
টাংনী হাওর পাড়ের কৃষক মুবিন চৌধুরীর সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন এক ফসলের উপর নির্ভর আমাদের হাওর পাড়ের মানুষ। গত বছর অকাল বন্যায় হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে সব ফসল তলিয়ে যায়। এত দেরী করে পানি শুকালে গতবারের মত সব হারাতে হয় নাকি আল্লাহ্ই ভাল জানেন।
হাওর পাড়ের কৃষকরা বলেন অপরিকল্পিত সুইচ গেইট তৈরি করায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। যদি সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করা যায় তাহলে এবারও সর্বস্ব হারাতে হবে হাওর পাড়ের কৃষকদের।
(আজকের সিলেট/৩১ ডিসেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)