১০ জুন ২০২২
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র এক কিলোমিটার সড়ক। এই সড়কটি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, লাফার্জ এবং ছাতক পৌরসভা দিচ্ছেন ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। সুরমা নদীর উত্তরপাড়ে ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের ছাতকস্থ লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কারখানার সামন থেকে পশ্চিম নোয়ারাই সিএনজি স্টেশন পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়কটির এখন বেহাল অবস্থা।
এখান থেকে ছাতক পৌরসভার পাকা সড়ক শুরু হয়ে পৌরসভার ভেতরে মিলিত হয়েছে। অপর প্রান্তে লাফার্জ ফেরিঘাট থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক শুরু হয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরে গিয়ে শেষ হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যখানে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি পনেরো বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। কর্তৃপক্ষের ঠেলাঠেলিতে সড়কটি হয়ে পড়েছে অভিভাবকহীন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি ছাতক পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভেতরে পড়েছে। প্রায় ১৫ বছর আগে একবার মেরামত করা হয়েছিল। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সড়ক মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, লাফার্জ কর্তৃপক্ষ কিংবা ছাতক পৌরসভার কারোরই যেন মাথাব্যাথা নেই। সড়ক দিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর, সুরমা, লক্ষীপুর, বোগলাবাজার, বাংলাবাজার ও নরসিংপুর ইউনিয়ন এবং ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়ন ও ছাতক পৌরসভার একাংশের দুই লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। লাফার্জ থেকে পশ্চিম নোয়ারাই সিএনজি স্টেশন পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে গর্ত ও খানাখন্দে ভরা। সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কাদাপানি মাড়িয়ে যাত্রীবাহী সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও লাফার্জের মালবাহী গাড়ি চলাচল করছে। জলাবদ্ধতার কারণে পথচারীরা স্বাভাবিক ভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন না।
লাফার্জ-পশ্চিম নোয়ারাই সিএনজি স্টেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান জানান, এ সড়ক দিয়ে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রায় ৩ শতাধিক সিএনজি দৈনিক আসা যাওয়া করে থাকে। সামান্য রাস্তাটুকু মেরামত করা গেলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হতো। দীর্ঘদিন ধরে তারা এ রাস্তা মেরামতের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।
দোয়ারাবাজারের সিএনজি অটোরিকশা চালক ওয়াদুদ মিয়া বলেন, অনেক ঝুঁকির মধ্যে প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে এদিকে তারা আসা যাওয়া করতে হয়। যারা এদিকে সিএনজি অটোরিকশা চালায় একমাত্র তারাই বলতে পারবে কতোটা ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
নোয়ারাই গ্রামের বাসিন্দা শাহীন আহমেদ বলেন, এ সড়কে গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাফেরা করাই মুশকিল। জলাবদ্ধতা ও গর্তের কারণে পায়ের জুতা হাতে নিয়ে হাঁটতে হয়।
লাফার্জের মিডিয়া সমন্বয়ক বিভাগের তৌহিদ হোসেন বলেন, এই রাস্তাটা লাফার্জ কর্তৃপক্ষের কীনা তার জানা নেই। লাফার্জের ভেতরে আমাদের যেসব রাস্তা পড়েছে লাফার্জ কর্তৃপক্ষ সেসব রাস্তা মেরামত করে থাকেন।
সড়ক ও জনপথ অফিস ছাতকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ছাতক লাফার্জ ফেরিঘাট থেকে দোয়ারাবাজার পর্যন্ত সওজের ১২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সুরমা সেতুর অংশ থেকে দোয়ারাবাজার পর্যন্ত কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এই রাস্তাটির খুব শিগগিরই মেরামত কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়ে গেছে। কিন্তু এই সড়কের লাফার্জের সামন থেকে পশ্চিম নোয়ারাই সিএনজি স্টেশন পর্যন্ত আমাদের আওতাভুক্ত নয়। এটা এলজিইডির।
ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালম চৌধুরী বলেন, এই রাস্তা পৌরসভার অংশে যতটুকু পড়েছে সেইটুকুর কাজ আমরা করেছি। বাকিটুকু লাফার্জের নিজস্ব রাস্তা। এটা তাদের জায়গায় পড়েছে, মেরামতের উদ্যোগ তারা নেবে।
এলজিইডির ছাতক উপজেলা প্রকৌশলী আফছার আহমদ বলেন, দুই সপ্তাহ হয়েছে তিনি এখানে যোগদান করেছেন। এটি যদি এলজিইডির আওতাভুক্ত হয় তবে আমরা মেরামতের উদ্যোগ নেব।