১০ জুন ২০২২


বাড়ছে ‘গো খাদ্যের’ দাম, বিপাকে খামারিরা

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : সিলেটসহ সারাদেশে গো-খাদ্যের দাম ব্যাপকহারে বাড়ছে। এ কারণে সিলেটের খামারিরা পড়েছেন বিপাকে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে সবমিলিয়ে এক হাজারের মতো খামার রয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় রয়েছে প্রায় আড়াইশ’ খামার।

আলাপকালে একাধিক খামারি জানান, ২০১৯ সালের পর থেকে ব্যাপকহারে বাড়তে থাকে গো-খাদ্যের দাম। কোন কারণ ছাড়াই কিছুদিন অন্তর দাম বাড়ে। খাদ্যের বাড়তি দাম মেটাতে না পেরে অনেক খামারি নিঃস্ব হয়ে গেছে। কেউ কেউ খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ খামারে একদিনের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করে ওই দিনের গরুর খাবার এবং শ্রমিকের বেতন দেয়া যায় না। বাড়তি খরচ মেটানোর জন্য গরু বিক্রির কোন বিকল্প অনেকের হাতে থাকে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালে ৩৫ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা গমের ভূষি বিক্রি হতো ১৪৩০ টাকায়। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২০৫০ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি প্রায় ৬২০ টাকা। গেল বছর ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা লবণ বিক্রি হতো ৬০০ টাকায়। এবার বিক্রি হচ্ছে ১০৫০ টাকায়। এক বছরে প্রতি বস্তায় দাম বেড়েছে ৪৫০ টাকা। গেল বছর ৭৭৫ টাকায় এক বস্তা ফিড পাওয়া গেলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে-১০২০ টাকায়। এক বছরে প্রতি বস্তা ফিডের দাম বেড়েছে ২৪৫ টাকা। ২০২১ সালে প্রতি বস্তা ভুট্টা বিক্রি হতো ১৩০০ টাকায়। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৯০০ টাকায়। দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৬০০ টাকা। ৫০ কেজি ওজনের ১৭০০ টাকা দরের মিক্সার বিক্রি হচ্ছে ২০০০ টাকা। দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা। ৪০ কেজি ওজনের রাইস পলিশ বা আটা কুঁড়ো ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০০ টাকায়। এক বছরে দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা।

শহরতলীর কুরবান টিলাস্থ সুরমা ক্যাটল ফার্মের স্বত্বাধিকারী আবু নোমান জানান, দাম বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে খামার পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদিত দুধ বিক্রি করে গরুর প্রতিদিনের খাবার যোগান দেয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় খামারিরা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তাসফিয়া ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মখলিছুর রহমান কামরান জানান, গত তিন মাস ধরে গো খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এ কারণে তারা চরম সংকটে রয়েছেন। এরই মধ্যেই বেশ কয়েকটি খামারও বন্ধ হয়ে গেছে। দামের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে আগামী তিন মাসে সিলেটের অধিকাংশ খামার বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করে এ খামারি। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় আড়াইশ’ খামার রয়েছে।

গোয়াবাড়ি সুরমা ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন জানান, দুধ উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণের কাছাকাছি। কিন্তু, গত কয়েক মাসে গো-খাদ্যের প্রতিটি আইটেমের দাম বেড়ে অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। কিন্তু, দাম নিয়ন্ত্রণের কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তাই খামারিরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন। এই শিল্পকে বাঁচাতে ভর্তূকি মূল্যে গো-খাদ্য বিক্রি এবং দাম বৃদ্ধির জড়িত সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণের দাবি এ খামারির।

সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: রুস্তুম আলী জানান, সিলেট জেলায় ছোট-বড় প্রায় এক হাজার খামার রয়েছে।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক কারণে দানাদার খাদ্যের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।

সিলেট অঞ্চলে কাঁচা ঘাসের উৎপাদন কম-এই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলের পতিত জমিতে ঘাস চাষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি বর্ষায় পানি শুকানোর পর এ অঞ্চলের জমিতে মাসকালাই চাষ করা যেতে পারে। প্রাণিসম্পদ এসব বিষয়ে নজর দিচ্ছে।

শেয়ার করুন