২৮ মে ২০২২


সিলেটে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটে বন্যাদুর্গত এলাকায় বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫ শতাধিক। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যা বেশি। আক্রান্ত হলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কম রয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এজন্য আগামী কয়েক দিন পানি ফুটিয়ে পান করার কথা জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে- এখনো বন্যার পানি নামেনি। টিউবওয়েল কিংবা সিটি করপোরেশনের পানির লাইন অনেক জায়গায় পানির নিচে। এ কারণে যেকোনো পানিই এখন ফুটিয়ে কিংবা বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে পান করতে হবে। যেসব এলাকায় এই নিয়ম মানা হচ্ছে না সেখানেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বন্যার শুরু থেকে এ পর্যন্ত আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি পানি বিশুদ্ধকরণে। ইতিমধ্যে প্রায় দেড় লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া, সিটি করপোরেশন থেকে বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে। পানির মাধ্যমে ডায়রিয়া হয়। বন্যার পানি কমতে শুরু করার পর থেকে সিলেট জেলা ও মহানগরে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়।

সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যপ্ত ৫ শতাধিক লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ জন। এর মধ্যে ১৪ জনকে সিলেটের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত রোববার অবধি ১১৪ জন ডায়রিয়ার রোগী ছিলেন। কিন্তু পরের চারদিনে তা ৫শ’র উপরে পৌঁছেছে।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহরিয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ডায়রিয়ায় রোগী বাড়লেও আমরা উৎকণ্ঠিত নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশেষ করে যারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা সুস্থ হয়ে উঠছেন। কেউই ঝুঁকির মধ্যে নেই। এরপর আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। শুধু ডায়রিয়াই নয়, পানিবাহিত যেকোনো রোগেই যাতে লোকজন না ভোগেন সে ব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। এদিকে বন্যা-পরবর্তী সময়ে রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ১৪০টি এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জে সর্বোচ্চ ১৬টি করে মেডিকেল টিম রয়েছে। এছাড়া কানাইঘাটে ১২টি, জৈন্তাপুরে ১১টি, বিশ্বনাথে ১১টি, গোয়াইনঘাটে ১০টি, জকিগঞ্জে ১০টি, সদর উপজেলায় ১০টি, ফেষ্ণুগঞ্জে ১০টি, ওসমানীনগরে ৯টি, দক্ষিণ সুরমায় ৮টি, বালাগঞ্জে ৭টি ও কোম্পানীগঞ্জে ৭টি টিম কাজ করছে। এর বাইরে জেলা শহরের জন্য ৩টি টিম রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, ১৪০টি মেডিকেল টিম ইউনিয়ন থেকে শুরু করে নগরীতেও কাজ করছে। এসব টিমে চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন। প্লাবিত এলাকাগুলোর সবখানে যাতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে, সেজন্য প্রত্যেক টিমকে নির্দেশনা দেয়া আছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নগরে আগে ৩টি মেডিকেল টিম ছিল। আজ শনিবার থেকে আরও ৩টি বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া, প্রতিটি ওয়ার্ডে মনিটরিংয়ের জন্য আরও দু’জন করে স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছে।

শেয়ার করুন