১০ মে ২০২২
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটের প্রবাসী অধ্যূষিত বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে শত শত মোটর সাইকেল রেজিষ্ট্রেশন বিহীন অবস্থায় রয়েছে। সিলেটে এসে রেজিষ্ট্রেশন করাতে নানা হয়রানী ও বাড়তি সময় ব্যয়ের আশংকায় মোটর সাইকেলা মালিকরা রেজিষ্ট্রেশন কার্যসম্পাদন থেকে বিরত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে। পুলিশি অভিযানে আটক হলে মোটর সাইকেলগুলো রেজিষ্ট্রেশনের প্রয়োজনীয়তাবোধ করে উপজেলাগুলোর মোটর সাইকেল মালিকেরা। তবে বিআরটিএ সিলেটের একজন কর্মকর্তা তাদের অফিসে স্টাফ স্বল্পতার কারণে লোকজনকে অনেকটা হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে বলে স্বীকারও করেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, জেলা পর্যায়ের চেয়ে উপজেলাগুলোতে মোটর সাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন তুলনামূলক ভাবে কম হচ্ছে। উপজেলাগুলো থেকে শহরে যাতায়াত ও বিআরটিএ অফিসের নানা হয়রানীর কারণে মোটর সাইকেল কেনার পরও ক্রেতারা সেখানে গিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করাতে আগ্রহী হচ্ছেন না। মোটর সাইকেল মালিকদের মতে, প্রতি মাসে কিংবা ছয় মাস অন্তর একবার উপজেলা পর্যায়ে স্পট রেজিষ্ট্রেশনের ব্যবস্থা করলে সকলেই ঝামেলা বিহিনভাবে রেজিষ্ট্রেশন করতে আগ্রহী হবেন।
জানাযায়, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের উপজেলাগুলোতে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে ক্রয় করা হয় মোটর সাইকেল। উপজেলাগুলোতে রয়েছে প্রতিটি নামীদামী মোটর সাইকেল বিক্রির শোরুম। বিক্রিও হচ্ছে আশানুরুপ। মোটর সাইকেলের অনেক ডিলার জানিয়েছেন, এখন জেলা সদরের চেয়ে উপজেলা পর্যায়ের ডিলারগণ ভালো বিক্রি করছেন। তাই সার্ভিসিংসহ সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা উপজেলা পর্যায়ে পাচ্ছেন ক্রেতারা।
মোটর সাইকেল বিক্রেতাদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম যদি বিআরটি এ চালু করে তাহলে প্রতিটি মোটর সাইকেল রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় আসবে। তাদের মতে, মোটর সাইকেল রেজিষ্ট্রেন করতে সকল ক্রেতাই আগ্রহী। ক্রেতারা কেনার সময় রেজিষ্ট্রেশনের করার বিষয়ে আগ্রহের কথাও জানান। কিন্তুু বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শনসহ নানা ঝামেলার কারণে মোটর সাইকেল মালিকেরা তাদের মোটর সাইকেল চালিয়ে উপজেলা শহর থেকে জেলা শহরে যেতে অনাগ্রহী হয়ে উঠেন।
মোটর সাইকেল মালিক তুহেল আহমদ জানান, দুই আড়াই লাখ টাকা দিয়ে মোটর সাইকেল কিনে অল্প টাকা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করতে তাদের কোন বাঁধা নেই। কিন্তুু উপজেলা শহর থেকে জেলা শহরে গিয়ে মোটর সাইকেল পরিদর্শনসহ নানা কার্যক্রমে গ্রাহকগণ হয়রাণীর শিকার হয়ে থাকেন। যার কারণে তারা শহরে গিয়ে মোটর সাইকেল রেজিষ্ট্রেন করাতে ভয় পান। তুহেলের সাথে তাল মিলিয়ে অনেকেই একই মন্তব্য করেছেন।
জানাগেছে, সিলেটের উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যাংক মোটর সাইকেল এর রেজিষ্ট্রেশন ফি আদায় করে থাকেন। একটি উপজেলায় ফি জমা দিয়ে আবার জেলা সদরে মোটর সাইকেল চালিয়ে গিয়ে তা সংশ্লিষ্টদের দেখিয়ে রেজিষ্ট্রেশন কার্য সম্পাদন করতে হয়। তাই গ্রাহকগণ নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছেন। এছাড়াও দুরপাল্লার রাস্তা দিয়ে যাতায়াতেও দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশংকা করেন অনেকে।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি হিল্লোল রায় জানান, বিয়ানীবাজারে কয়েক’শ মোটর সাইকেল রেজিষ্ট্রেশন বিহীন রয়েছে। এসব মোটর সাইকেলের মালিকেরা রেজিষ্ট্রেশন করাতে আগ্রহী কিন্তুু কেন করাচ্ছে না তা তিনি বলতে পারছেন না। ওসি বলেন, পুলিশি অভিযানে মোটর সাইকেল আটক হলে মালিকগণ নগদ টাকা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করাতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার মতে, সরকারী সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উপজেলা পর্যায়ে রেজিষ্ট্রেশনের ব্যবস্থা করলে সব কটি মোটর সাইকেল রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় আসবে।
সিলেট বিআরটিএর সহকারী পরিচালক স্বীকার করেছেন, তাদের অফিসে লোকবল কম থাকার কারণে সিলেট এসে মোটর সাইকেল মালিকরা অনেকটা কষ্টের শিকার হচ্ছেন।
তিনি বলেন, মোটর সাইকেল পরিদর্শন, কাগজপত্র জমাদানে ক্ষেত্রে নানা প্রক্রিয়া অনুসরন করতে হয়। তাই দেরি হওয়া স্বাভাবিক।
তারমতে, লোকবল কম থাকায় সিলেটে তারা কাজ করতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন। আর উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করার কোন পরিকল্পনা তাদের নেই। সরকার এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।