৩০ এপ্রিল ২০২২
মাহমুদা খানম : সিলেটের কৃতিসন্তান্, বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নিথর দেহ এখন সিলেটের পথে রয়েছে। ইতিমধ্যে নগরীর হাফিজ কমপ্লেক্সস্থ পৈত্রিক নিবাসে এসে পৌঁছেনে সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর শোকে কাতর পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার বিকেল থেকেই সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর ছোটভাই ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সহ পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাতে ঢল নেমেছে আওয়ামীলীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের।
শুধুমাত্র দলীয় নেতাকর্মীরাই নন। শোক ও সমবেদনা জানাতে আসছেন বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।
এক নজরে আবুল মাল আবদুল মুহিত
১৯৩৪ সালে সিলেটে জন্ম নেয়া আবুল মাল আবদুল মুহিত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একজন অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক, ভাষা-সৈনিক। অ্যাডভোকেট আবু আহমদ আব্দুল হাফিজ ও সৈয়দ শাহার বানু চৌধুরী দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে তিনি। তার মাও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী মুহিত ১৯৫১ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে আইএ পরীক্ষায় প্রথম স্থান, ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (অনার্স) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম এবং ১৯৫৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এমএ পাশ করেন। চাকুরিরত অবস্থায় তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নসহ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমপিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস-এ (সিএসপি) যোগদানের পর মুহিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, কেন্দ্রীয় পাকিস্তান এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে তিনি পরিকল্পনা সচিব এবং ১৯৭৭ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পদ বিভাগে সচিব পদে নিযুক্ত হন।
মুহিত পাকিস্তান পরিকল্পনা কমিশনের চীফ ও উপ-সচিব থাকাকালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্যের ওপর ১৯৬৬ সালে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করেন। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে এটিই ছিল এই বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন।
ওয়াশিংটন দূতাবাসের তিনি প্রথম কূটনীতিবিদ, যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১-এর জুন মাসে পাকিস্তানের পক্ষ পরিত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে আনুগত্য প্রদর্শন করেন।
১৯৮১ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে তিনি অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ফোর্ড ফাউণ্ডেশন ও ইফাদে কাজ শুরু করেন। ১৯৮২-৮৩ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফেলো ছিলেন।
লেখক হিসেবে মুহিত সমান পারদর্শী। প্রশাসনিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে তার ২১টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনে তিনি একজন পথিকৃত এবং বাপার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি মুহিত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী নিযুক্ত হন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেছেন, যার ১০টি আওয়ামী লীগ সরকার আমলের।