২৯ এপ্রিল ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক : আধ্যাতিক রাজধানী সিলেটে নির্মিত হচ্ছে দেশসেরা অধুনিক বাস টার্মিনাল । সিলেটের সাথে গোটা দেশের সড়কপথে যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু নগরীর কদমতলীস্থ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। প্রায় সাড়ে ৭ একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠেছে এ টার্মিনালটি। টার্মিনালে থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্নস্থানে হাজারো দূরাপাল্লার বাস যাতায়াত করে। অভ্যন্তরীণ সড়কে এর দ্বিগুণ বাস চলাচল করা এ টার্মিনালের অবস্থা ছিল জরাজীর্ণ। নানা সমস্যায় টার্মিনালের চিত্র ছিলো ভিন্ন। এবার নগরীর দক্ষিণ সুরমায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পাচ্ছে এ অধুনিক রূপ।
ইতোমধ্যে এ বাস টার্মিনালের কাজ চলছে। কাজ চলমান থাকলেও বাস টার্মিনাল কাজে কিছুটা স্থবির হয়ে আছে। ফলে আলোর মুখ দেখতে দীর্ঘ হচ্ছে যাত্রীদের প্রতিক্ষা।
কাজের ধীরগতির কারণে সময়মতো শেষ না হওয়ায় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চরম বিশঙ্খলা বিরাজ করছে। বিশাল সড়কের পুরোটা জুড়েই এখন শত শত গাড়ি। গাড়ির কারণে সড়ক দিয়ে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের।
পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস টার্মিনাল নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সড়কে গাড়ি রাখতে হচ্ছে। যথাসময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছে। যথাসময়ে বাস ছাড়তে ও প্রবেশ করতে পারছে না। এতে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে সিলেট সিটি করপোরেশন সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল আধুনিকায়নের কার্যাদেশ ২০১৮ সালে হলেও কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঢাকার নির্মাণ সংস্থা ‘ঢালি কনস্ট্রাকশন ফার্ম’।
সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী ও টার্মিনাল নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আকবর বলেন, টার্মিনালের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের সড়কপথে যোগাযোগের একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু সবচেয়ে বড় এই বাস টার্মিনাল। এটি বিমানবন্দরের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের বাস টার্মিনালের সব সুযোগসুবিধা থাকছে এই টার্মিনালে। পর্যটন নগর সিলেটে আগত দর্শনার্থীদের সুযোগসুবিধা নিশ্চিত হবে। টার্মিনালটি ইজারাভিত্তিক পরিচালিত হলেও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে সিলেট সিটি করপোরেশন।
সিসিক সূত্রে জানা যায়, সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয় সিসিক। এর অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৬১ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। বর্তমানে পুরো টামির্নালের ওপরের অংশে থাইওয়ান থেকে আনা সিসকো সিট লাগানো হচ্ছে, টার্মিনালে থাকছে এরাইভাল বিল্ডিং, ডিপারচার বিল্ডিং, ওয়েলফেয়ার বিল্ডিং, ফাস্ট এইড ব্যবস্থা। ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে পুরো কাজ সম্পন্ন করছে বিশ্বব্যাংক।
সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, টার্মিনালের অবকাঠামোগত উন্নয়নে খরচ হচ্ছে ৬১ কোটি টাকা। এ টাকা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। পুরো কাজ ওয়াশিংটন থেকে মনিটরিং করছেন বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পুরো কাজের দায়িত্বে রয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও এলজিইডি।
তিনি জানান, টার্মিনালের অবকাঠামোগত কাজ তিনটি ভাগে বিভক্ত করে দেয়া হয়েছে। বাস টার্মিনালে আধুনিক ভবনে যাত্রীদের জন্য বিশ্রাম কক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কক্ষ, টয়লেট, বিশুদ্ধ পানি প্রভৃতির ব্যবস্থা থাকছে। আধুনিক টার্মিনালে প্রত্যেক রুটের জন্য আলাদা পার্কিং জোন, প্রবেশ ও বের হওয়ার আলাদা রাস্তা থাকবে। টার্মিনালে কেউ অসুস্থ হলে কিংবা দুর্ঘটনার শিকার কাউকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে আলাদা কক্ষ থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য ছিলো না কোনো বসার জায়গা। কয়েকটি পরিবহন কোম্পানি নিজস্ব ব্যবস্থায় নিজেদের যাত্রীদের জন্য বসার ব্যবস্থা রাখলেও অন্য হাজারো যাত্রীদের পোহাতে হতো চরম দুর্ভোগ। যাত্রীদের জন্য কোনো গণশৌচাগার ছিলো না। যেটি ছিলো সেটিও নামকওয়াস্তে পাবলিক টয়লেট হিসেবে ব্যবহার হতো।