১৫ এপ্রিল ২০২২


স্ত্রী-সন্তানদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ হারুন

শেয়ার করুন

জগন্নাথপুর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : কালবৈশাখীর তাণ্ডবে সাজানো সংসারটি তছনছ হয়ে গেল হারুনের। ঝড়ে বসতঘরে গাছের চাপায় স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পাগলপ্রায় তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এ হৃদয়বিদায়ক ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ওই গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বুলু মিয়ার বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চকবানিয়াপুর গ্রামের হারুন মিয়া তার স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তিনি প্রবাসীর বাড়ি দেখাশোনার পাশাপাশি স্থানীয় মিনহাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘প্যারা শিক্ষক’ হিসেবে কাজ করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেলে টিনশেড ঘরের ওপর পাশের একটি গাছ পড়ে হারুন মিয়ার স্ত্রী মৌসুমী বেগম (৩৪), মেয়ে মাহিনা আক্তার (৪) ও ছেলে হোসাইন মিয়া (১) ঘটনাস্থলেই মারা যান। এঘটনায় পরিবারের সবাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন হারুন মিয়া। কথা বলার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেন তিনি।

সরেজমিন দেখা যায়, তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন। কথা বের হচ্ছে না তার। অনেকক্ষণ পর হারুন বলেন, রোজার জন্য সাহরি খাওয়ার পর আমার স্ত্রী বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমাতে যান। আমি ফজরের নামাজের জন্য অন্য একটি ঘরে ছিলাম। কালবৈশাখী ঝড় আমার সুখের সাজানো বাগান শেষ করে দিল। ঝড়ের মধ্যে প্রাণপণ চেষ্টা করে পারলাম না তাদের বাঁচাতে- বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল হক বলেন, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সুখের পরিবার ছিল হারুনের। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে হারুন মিয়া নির্বাক। তাদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। পরিবারের শোকে হারুন মিয়া বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আমরা নগদ ৬০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেছি।

শেয়ার করুন