১৪ এপ্রিল ২০২২
দিনা রহমান : গত দুই বছর বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি বাঙালি তার প্রাণের পহেলা বৈশাখ চিরায়ত রূপে উদযাপন করতে পারেনি। এবার আর করোনা বিধিনিষেধ নেই। অদৃশ্য প্রাণঘাতী ভাইরাসটি ইতিমধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে দেশে। নতুন স্বাভাবিক এই সময়ে এবার পহেলা বৈশাখ তার চেনা রূপ ও আঙ্গিগে হাজির বাঙালির সামনে। বাঙালির প্রাণের পহেলা বৈশাখের এবার বন্ধনমুক্তি ঘটল।
বৃহস্পতিবার ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু নতুন বাংলা সন ১৪২৯। নতুন বছরের শুরুতে বাঙালি মেতে উঠবে উৎসবে। ভোরে রাঙা সূর্যকে বরণ করে নেয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে উৎসব। জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে সম্ভাবনার নতুন বছরে প্রবেশ করবে বাঙালি জাতি। টানা দুই বছর পর আজ আবার দেখা মিলবে নববর্ষের প্রাণের মেলার।
সিলেটে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানমালা
নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বৈশাখের প্রথম দিন সিলেট জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রিকাবীবাজারস্থ কবি নজরুল অডিটরিয়ামের মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হবে। এই আয়োজনের সহযোগিতা করছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি।
জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সিলেটের কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা পরবর্তী নজরুল একাডেমির মুক্তমঞ্চে বর্ষ বরণ অনুষ্ঠানে থাকছে বাউলগান, কাঠি ও ঝুমুর নৃত্য, মণিপুরি নৃত্য, লোকগান ও দেশের গান। যেহেতু এবার করোনা মহামারির প্রকোপ অনেকটা কমে এসেছে তাই পহেলা বৈশাখ পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এ বছর পবিত্র রমজান মাস চলমান থাকায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের সময় কমিয়ে আনা হয়েছে।
এদিকে বর্ষবরণে বর্ণাঢ্য আয়োজন করেছে আনন্দলোক। এবারও এই সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজ মাঠে আয়োজন করেছে বর্ষবরণ উৎসবের।
আনন্দলোকের পরিচালক রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রানা কুমার সিনহা বলেন, গত ২ বছর করোনা মহামারির কারণে বৈশাখী উৎসব হয়নি। এবার পরিস্থিতি একটু উন্নতি হয়েছে। তাই সীমিত আকারে বৈশাখী উৎসব পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বর্ষবরণ উৎসবের অনুষ্ঠানমালায় আনন্দলোকের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন সংগীত-নৃত্য-আবৃত্তিতে মাতিয়ে রাখবে সংস্কৃত কলেজ প্রাঙ্গণ।
প্রতিবছরের মতো এবারও ব্লু-বার্ড স্কুল মাঠে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে সাংস্কৃতিক সংগঠনসংগঠন শ্রুতি। ‘ফিরে চল মাটির টানে’ শীর্ষক আয়োজন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ১টা পর্যন্ত। অর্ধদিবস ব্যাপী এই আয়োজনে থাকবে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন।
সংগঠনটির সদস্য সচিব সুকান্ত গুপ্ত বলেন, রমজান মাসের কারণে এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়েছে। এবছর স্বল্প পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও মেলার আয়োজন এবার থাকছে না। আয়োজনে প্রথমেই থাকবে সপ্তসুরে আহ্বান, থাকবে সম্মেলন পরিবেশনা ও একক পরিবেশনা। পরে সমবেত সংগীত এবং নৃত্য পরিবেশন করবেন অনুষ্ঠান আয়োজক শ্রুতি-সিলেট, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ সিলেট, গীতবিতান-বাংলাদেশ, দ্বৈতস্বর, ছন্দনৃত্যালয়, সুরের ভুবন, ভাবুক,ললিত মঞ্জরী, প্রমা দেবী ও তার দলের আয়োজনসহ নানা আয়োজন রয়েছে শ্রুতির অনুষ্ঠানে।