১১ এপ্রিল ২০২২


রমজানে সেহরি ইবাদতের শামিল

শেয়ার করুন

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : রমজান মাস এমনই রহমত-বরকতের যে রোজা রাখার পূর্বে সেহেরিতে ও সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে খাদ্যগ্রহণও ইবাদতের শামিল। রমজান রহমতের বহর নিয়ে আসে মুসলিম উম্মার দুয়ারে দুয়ারে। খাদ্যগ্রহণও ইবাদতের শামিল, সেটা রমজানেই সম্ভব।

দীর্ঘক্ষণ পানাহার থেকে বিরতির কারণে মানবশরীরে দুর্বলতার আগমন ঘটা স্বাভাবিক, ফলে তা থেকে অনেকটা পরিত্রাণ পেতে প্রাক-প্রস্তুতিস্বরূপ সেহরির গুরুত্ব অপরিসীম। পানাহারে দীর্ঘ বিরতির পর ইফতারের প্রয়োজনীয়তাও অপরিসীম। কেবল দীর্ঘক্ষণ পানাহার থেকে বিরত থাকার প্রস্তুতিতেই সেহরি ও ইফতারের গুরুত্বের মানদণ্ড স্তিমিত নয়, বরং সেহরি ও ইফতার ইবাদতের ক্ষেত্রেও বিশেষ একটি স্থান দখল করে আছে।

সুবহে সাদিকের পূর্বে সিয়াম পালনের নিমিত্তে যে পানাহার করা হয়, তাই সেহরি। অপরিমেয় বরকতে পরিপূর্ণসেহরি সম্পর্কে হাদিসে পাকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহেরিতে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি)।

হাদিসে পাকে অন্যত্র প্রিয়নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সেহরি হলো একটি বরকতময় খাবার। তাই কখনো সেহরি খাওয়া বাদ দিও না। এক ঢোক পানি পানে হলেও সেহরি খেয়ে নাও। কারণ সেহেরি গ্রহণকারীকে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতারা স্মরণ করে থাকেন।’ (মুসনদে আহমদ)।

হাদিস শরীফে আছে, হযরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে সেহেরি খাই এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ান। বর্ণনাকারী (রাবী) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আযান ও সেহেরির মধ্যে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি (রাসূল সা.) বললেন, পঞ্চাশ আয়াত পাঠ করার পরিমাণ। (সহিহ বুখারী)

মাহে রমজানে সেহেরির সময় দোয়া কবুল হয়। তাবরানি সংকলিত হাদিস গ্রন্থের একটি হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে, রসুলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘রাতের সেহেরির সময় দোয়া কবুল হয়।’ সেহেরি খাওয়ার ফলে রোজাদার দিনভর উপবাস থাকলেও ইবাদতের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগান নিতে পারে।

রোজার সেহেরির আধ্যাত্মিক ফজিলত হচ্ছে, সেহেরি খাওয়ার উপলক্ষে বান্দা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ঘুম থেকে ‍উঠে। আর এসময় আল্লাহ পাক দুনিয়ার আসমানে এসে ডেকে ডেকে বলেন, কেউ কি আছো যে আমায় ডাকছে? আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। কেউ কি আছে আমার কাছে ক্ষমা চায়? আমি তাকে মাফ করে দেবো। এভাবে ভোর পর্যন্ত তিনি বান্দার রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের জন্য অবিরত ডেকে যান। তাই সেহেরির এসময় অনেক মূল্যবান ও বরকতপূর্ণ। রমজানে সেহেরি উপলক্ষ্যে কেউ যদি ইবাদতের এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে তাহলে সে সফল ও সার্থক।

শেয়ার করুন